সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিলেন মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান বব মেনেনডেজ। তেলের উৎপাদন কমিয়ে দেয়া নিয়ে ওপেকের ঘোষণার পর সৌদি আরবকে শাস্তি দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। সৌদি আরবের এমন সিদ্ধান্তকে রাশিয়ার সঙ্গে হাত মেলানোর সঙ্গে তুলনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। সিনেটর বব মেনেনডেজ বলেন, রাশিয়া ইউক্রেনে যে আগ্রাসন চালাচ্ছে, সৌদি আরবের তেল উৎপাদন কমিয়ে দেয়ার ঘোষণা তাকেই সমর্থন করছে। সৌদির এমন সিদ্ধান্তকে তিনি অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য গ্রহণ করা ‘ভয়াবহ সিদ্ধান্ত’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। এ খবর দিয়েছে ফেডারেল টাইমস।

তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধে ‘ওপেক প্লাস গ্যাংকে’ সঙ্গে নিয়ে সাহায্য করছে সৌদি আরব। তাই তিনি অবিলম্বে সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সকল সহযোগিতামূলক সম্পর্ক স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। এরমধ্যে আছে, অস্ত্র বিক্রি বন্ধ। এছাড়া যেসব সহযোগিতামূলক সম্পর্ক মার্কিন সেনাদের সুরক্ষা ও স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, তা বাতিল করতে হবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, রিয়াদের সঙ্গে আর কোনো সহযোগিতামূলক সম্পর্কে সবুজ সংকেত দেবেন না তিনি।

এদিকে সোমবার মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে একটি বিল উপস্থাপন করেছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা টম ম্যালিনোভস্কি, সিন ক্যাস্টেন ও সুসান ওয়াইল্ড।

সেই বিলে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন সেনাঘাঁটি থেকে সেনা সদস্যদের প্রত্যাহার ও এই দু’টি দেশের কাছে যেসব অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র বিক্রির চু্ক্িত হয়েছিল সেসব বাতিলের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিলে বলা হয়, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিরক্ষা সহায়তা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তারা এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, যার কারণ আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না। যদি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত পুতিনকে সহযোগিতা করতে চান, তাহলে তার কাছ থেকেই এই দু’টি দেশের প্রতিরক্ষা সুবিধা নেয়া উচিত বলে আমরা মনে করি।
এর আগে গত বুধবার আমেরিকার আপত্তি সত্ত্বেও অপরিশোধিত তেল উৎপাদন দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শীর্ষ তেল উৎপাদন ও রফতানিকারকদের জোট ওপেক প্লাস। বুধবার অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় জোটের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তেলের বাজারে নিজেদের আধিপত্য ও দাম ধরে রাখতে ওপেক প্লাস এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রে ঘনিয়ে আসছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। এর আগে তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে চাপে পড়বে ডেমোক্রেটরা। রিপাবলিকান আইনপ্রনেতারা এরইমধ্যে তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেছেন। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে গত জুলাই মাসে সৌদি আরব সফর করেন বাইডেন। সেখানে তিনি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। সেসময় হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়, সৌদি আরব তেলের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সম্মত হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত আরও ২০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন ওপেক প্লাস।

মাসের পর মাস ধরে মন্দাভাব চলতে থাকায় অবশেষে তেলের উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় জ্বালানি তেলের উত্তোলন ও রপ্তানিকারক দেশসমূহের জোটের ওপেক প্লাস। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তেলের দৈনিক উত্তোলন ২০ লাখ ব্যারেল বা শতকরা হিসেবে ২ শতাংশ হ্রাস করতে একমত হয় জোটের সদস্যরাষ্ট্রসমূহ। ওপেক প্লাসের ৩ প্রভাবশালী সদস্য সৌদি আরব, আমিরাত ও রাশিয়া এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

তবে ওপেক প্লাসের এই সিদ্ধান্তে ব্যাপক ক্ষুব্ধ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন দল ডেমোক্রেটিক পার্টির অভিযোগ, রাশিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের অনুরোধকে অবজ্ঞা করেছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওপেক প্লাসের এই অদূরদর্শী সিদ্ধান্তে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হতাশ।

Previous post মানবাধিকার কাউন্সিলে নিরঙ্কুশ জয় বাংলাদেশের
Next post অবশেষে রাশিয়ার আক্রমণ নিয়ে খুশি কাদিরভ, পালাতে বললেন জেলেনস্কিকে
Close