দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো বিশেষত বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না তারা। নির্বাচনকালীন বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে রাস্তায় আন্দোলনের পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রেখেছে দলটি।

এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আলাদাভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে কথা বলেছেন সরকারের শীর্ষ তিন মন্ত্রী। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন।

‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের চিন্তা মাথা থেকে নামিয়ে ফেলুন’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের চিন্তা মাথা থেকে নামিয়ে ফেলতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘ফখরুল সাহেব তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূত মাথা থেকে নামান। সোজা কথা সোজা পথে আসুন, নির্বাচনে আসুন। পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতো বাংলাদেশেও নির্বাচন হবে। সরকার রুটিন দায়িত্ব পালন করবে। মূল দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন পালন করবে। সরকারের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাও নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকবে। সরকার না থাকলে কারা চালাবে দেশ?’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভায় একথা বলেন তিনি।

‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরে আসার সুযোগ নেই’

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। তাই বিএনপি যতই দাবি করুক না কেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আর ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, দেশের জনগণ আইনের শাসনে বিশ্বাসী। তারা দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে সম্মান করে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন।

বিশ্ব নৌ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর হোটেল শেরাটনে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

‘সব রাষ্ট্রদূত বললেও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরবে না’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, বাংলাদেশে কাজ করা বিশ্বের সব দেশের রাষ্ট্রদূত মিলে বললেও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে না।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, বিএনপিসহ ছোট–বড় সব দলই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে শেষ দিন পর্যন্ত আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাব। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া আপনারা নির্বাচনে যাবেন না—এমন উসকানি কেউ যেন না দেয়। এটা আমেরিকার অ্যাম্বাসেডর হোক আর যেকোনো দেশের অ্যাম্বাসেডর হোক কিংবা সকল অ্যাম্বাসেডর মিলে বললেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না।’

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

Previous post পাঁচ দশকে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন করেছে: বিশ্বব্যাংক প্রতিবেদন
Next post ইউক্রেনের ৪ অঞ্চলকে রাশিয়ার অংশ হিসেবে ঘোষণা দিলেন পুতিন
Close