বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যারা আমাদের সন্তানদের হত্যা করেছে- তারা খুনী। দেশের মানুষ এদেরকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায়না।

তিনি বলেন, বেগম সেলিমা রহমানকে আঘাত করে, বরকতউল্লাহ বুলুকে হত্যার জন্য আঘাত করে, তাবিথ আউয়ালকে (নির্বাহী কমিটির সদস্য) হত্যার চেষ্টা করে, ভেলায় নুরে আলম, আব্দুর রহিম ও নারায়নগঞ্জে শাওন প্রধানকে হত্যা করে এই দেশের আন্দোলনকে দমন করে রাখা যাবে না। বাংলাদেশের মানুষ বরাবরই অন্যায়ের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে। আজকেও তারা জেগে উঠছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের আমলে নাকি বাংলাদেশের নির্বাচন সবচেয়ে সুন্দর ও সুষ্ঠু হয়’- সরকারের লোকদের এ কথা শোনে ‘ঘোড়াও হাসবে’।
মঙ্গলবার রাজধানীর খিলগাঁও জোড় পুকুর মাঠের সামনে মহানগর জোন-২ খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদা থানার যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং ভোলায় নুরে আলম, আব্দুর রহিম ও নারায়নগঞ্জে শাওন প্রধান হত্যাকান্ড ও পল্লবীসহ সারাদেশে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে এই সমাবেশ হয়। খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদার বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মী বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, মির্জা আব্বাস ও আফরোজা আব্বাসের ছবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে মিছিল নিয়ে এই সমাবেশে অংশ নেন।

মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক ইউনুস মৃধার সভাপতিত্বে সমাবেশে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কামরুজ্জামান রতন, মীর সরফত আলী সপু, শিরিন সুলতানা, মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু, ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, হাবিবুর রশিদ হাবিব, মোশাররফ হোসেন খোকন, লিটন মাহমুদ, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, যুব দলের সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, সাধারণ সম্পাদক মোনায়েম মুন্না, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান, স্বেচ্ছাসেবক দলের এসকে জিলানী, রাজীব আহসান, শ্রমিক দলের মোস্তাফিজুল করীম মজুমদার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম-আহ্বায়ক লিটন মাহমুদসহ মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে অনেক দূরে চলে গেছে। আজকে কথা নয়, সময় হচ্ছে কাজের। সমস্ত দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। এই সরকার জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছে, তারা আজকে আমাদের সমস্ত অর্জনগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আজকে মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি করছে, আজকে লাখ লাখ টাকা পাচার করছে, বিদেশে ঘরবাড়ি তৈরি করছে। আর আমাদের নেতাকর্মীদের তারা হত্যা করছে।

সরকারের পদত্যাগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, পদত্যাগ করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে, সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে এবং নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নতুন নির্বাচন কমিশনের অধীনে সকলের গ্রহণযোগ্য একটা নির্বাচন করতে হবে। নতুন পার্লামেন্ট হওয়ার পর সরকার গঠন হবে। তাই আসুন আমরা সেই লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হই। সকল রাজনৈতিক দল ও সকল মানুষকে এক করে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাই এবং দুর্বার গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটিয়ে আমরা জনগণের সরকার গঠন করবো।

মির্জা আব্বাস সভা-সমাবেশে প্রশাসন অনুমতি দিতে গড়িমসি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই দেশ কারো বাবার রাজত্ব নয়। এই দেশের মানুষের রক্ত দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। আমি তাদেরকে পরিষ্কার করে বলতে চাই, এই সরকারই শেষ সরকার নয়। এরপরও সরকার কিন্তু থাকবে। আপনাদের ছবিও প্রিন্ট করা আছে, ভিডিও করা আছে, রেকর্ড করা আছে।

Previous post রাজপথ দখলে নিতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ কাদেরের
Next post মালয়েশিয়ায় অনন্ত-বর্ষা জুটির সম্মানে নৈশভোজ
Close