কাজী মশহুরুল হুদা:

বিগত টাউন হল মিটিং এর পর পুরাতন কমিটির হাত থেকে লিটল বাংলাদেশ অধ্যুষিত এলাকায় অবস্থিত কমিউনিটির মসজিদের পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করে একটি এডহক কমিটি। উদ্দেশ্য সকল সমস্যার সমাধান কল্পে আগামী ৬ মাসের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ সংবিধান প্রণয়ন ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে কার্যকরী কমিটি গঠনের মাধ্যমে পরিচালনা কমিটি গঠন করা।

লিটল বাংলাদেশ অধ্যুষিত এলাকার কমিউনিটি মসজিদের নামকরণ প্রাথমিক অবস্থায় ছিল আল ফালাহ মসজিদ। কিন্তু মসজিদের নামে রেজিষ্ট্রেশন দুরূহ বিধায় সেটিকে লস এঞ্জেলেস ইসলামিক সেন্টার নামকরণে রেজিষ্ট্রশন হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিয়মকানুন রয়েছে। যে কেউ তার ইচ্ছামত পরিচালনা করতে পারেনা বা বিনা অনুমতিতে কোন সংশোধন বা বর্ধণ করা যায় না। এ ক্ষেত্রে কমিউনিটির মুসল্লিদের অজ্ঞতা কমিউনিটির ইসলামিক সেন্টারে পরিলক্ষিত হয়। প্রথম কথা মসজিদ মুসলমানদের প্রর্থনালয়। বাঙালী মসজিদ বা শুধুমাত্র বাংলাদেশী মুসল্লি নামাজ পড়তে পারবে এমন কোন কারণ নেই। মসজিদ সকল মুসলমানের। হয়ত পরিচালনায় উদ্যােগীর ক্ষেত্রে বাংলাদেশী থাকতে পারে। তদরূপ কমিউনিটির মসজিদ। ইদানিং নতুন এডহক কমিটির কার্যাবলী নিয়ে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন, আলোচনা ও সমালোচনার সম্মুখীন হচ্ছে। রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে তবলীগ সকলেই সোচ্চার। বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবনের জন্য এডহক কমিটি থেকে এক্সিকিউটিভ কমিটিতে রুপান্তরিত কমিটির সাধারণ সম্পদক জনাব ইঞ্জিনিয়ার সালেহ কিবরিয়ার সাথে টেলিফােনে আলাপ হয়। প্রশ্ন করেছিলাম- আপনাদেরকে কমিউনিটির পক্ষ থেকে এডহক কমিটি হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয় শর্ত সাপেক্ষে। কিন্তু আপনারা কিভাবে এই এডহক কমিটিকে এক্সিকিউটিভ বানিয়ে ফেললেন?

তিনি বললেন, আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতিতে অটল। কিন্তু এদেশে প্রশাষনিক প্রক্রিয়া আছে। যেটা আমাদের চিন্তাধারা বা ইচ্ছায় হয় না। স্টেস্ট বা ব্যাঙ্ক এডহক কমিটি বলে কোন কিছু বোঝেনা। তারা কার্যকরীতার জন্য কার্যকরী কমিটিই বুঝে থাকে। অন্তবর্তীকালীন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হলে কার্যকারীতার জন্য কার্যকরী হিসাবেই দেখাতে হবে। আমরা তাই করেছি। কার্যপ্রণালী দুভাবে করা যায় না। কিং ও রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সঠিক পদ্ধতির মাধ্যমেই এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এটি একটি বিশ্বাসের জায়গা। সে ক্ষেত্র বিশ্বাস একটি বৃহত্তর বিষয়। অনেকের মাঝে তার অভাব আছে বলে তারাই নিজ স্বার্থ জলাঞ্জলি হওয়ার আশঙ্কায় কমিউনিটিতে উল্টা পাল্টা কথা বলে বেড়াচ্ছেন। মসজিদকে কুক্ষিগত করার পায়তারা করছে কতিপয় ব্যাক্তিবর্গ। এই লস এঞ্জেলেস ইসলামিক সেন্টারে ইতিপূর্বে বিনাঅনুমতিতে অতীতের পরিচালনা কমিটি তবলীগের স্বার্থে রান্নাঘর তৈরী করেছে যা পরবর্তীতে সিটি এসে বন্ধ করে দেয় এবং জরিমানা করে। এই সেন্টার শর্তসাপেক্ষে অনুমােদন দিয়েছে। তার প্রধান একটি শর্ত মসজিদের কেউ রাত্রিযাপন করতে পারবেনা। কারণ সেন্টার কোন রেসিডেন্স নয়। এটি একটি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এই শর্ত তাবলীগের অনুসারীরা মানতে নারাজ। অপরদিকে, তাবলীগ জামাতের মধ্যে দুইভাগ হওয়াতে একটি অংশ ইসলামিক সেন্টারকে এক অংশের কেন্দ্রীয় সেন্টার করতে চাইছে। আর তার জন্য ই এতো কিছু গুঞ্জন, রটনা ও পায়তারা। লস এঞ্জেলেস ইসলামিক সেন্টার একটি কমিউনিটির মুসলিম মানুষের প্রার্থনালয় ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রতিষ্ঠান। সেটাই প্রতিষ্ঠিত করা আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বলে বর্তমান কমিটির সালেহ কিবরিয়া জানান। আমরা এখানে ক্ষমতা দখল করতে আসিনি অথবা কমিটিতে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য আসিনি। আমরা সুষ্ঠ নিয়মতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কমিউনিটির মানুষের প্রকৃত উদ্দেশ্য যাতে হাসিল হয় তারই প্রচেষ্টা করছি। কমিউনিটির মানুষের প্রতি অভয়তা জন্য কমিউনিটির মানুষের উদ্দেশ্য বলেন- আমাদের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা রাখুন এবং স্বার্থনেষীদের কথায় কান না দেওয়ার আহ্বান জানান।

Previous post কোরআন অধ্যয়ন করেন রাজা তৃতীয় চার্লস, জানেন আরবিতে স্বাক্ষরও
Next post এক নজরে সাফল্যের ফোবানা লস এঞ্জেলেস ২০২২
Close