লেবাননে ঋণের জেরে দুই সন্তানসহ এক নারী বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই নারী ও তার ছোট মেয়ে মারা গেছেন। তবে বিষক্রিয়া কম থাকায় মাহমুদ নামে অন্য শিশুটি বর্তমানে সুস্থ আছে।

বৈরুতের ছাবরা বাজারে সম্প্রতি এ ঘটনাটি ঘটেছে। বর্তমানে মরদেহ দুটি স্থানীয় একটি হাসপাতালের হিমাঘরে রাখা হয়েছে।

বিষপানে মারা যাওয়া ওই বাংলাদেশি নারী কর্মীর নাম শিরিন খাতুন। তিনি কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার থানার বাসিন্দা।

সাবরা বাজারের স্থানীয় বাংলাদেশিরা জানান, ঘটনার দিন দুপুরে শিরিন খাতুন তার ছেলে মাহমুদ ও মেয়ে খাদিজাকে বিষ খাইয়ে নিজেও বিষপান করেন। পরে স্থানীয় বাংলাদেশিরা শিরিনসহ তার দুই সন্তানকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে বৈরুতের মাকাসাদ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ আগস্ট শিশু খাদিজা মারা যায়। একদিন পর মা শিরিন খাতুনের মৃত্যু হয়।

শিরিন ও রাজু দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে লেবাননের ছাবরা এলাকায় বাস করত। গত দুই বছর আগে রাজু স্থানীয় কয়েকজন বাংলাদেশির থেকে ঋণের নামে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে বাংলাদেশে চলে যায়। তারপর থেকে পাওনাদাররা অর্থের জন্য শিরিনকে চাপ দিতে থাকে। এ নিয়ে স্বামীর সঙ্গে শিরিনের কয়েকবার ঝগড়া বাধে। অবশেষে পাওনাদারের চাপে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন শিরিন।

বাংলাদেশ থেকে শিরিনের মা মনোয়ারা বেগম এক ভিডিও বার্তায় তার মেয়ের মৃত্যুর জন্য স্বামী রাজুকে দায়ী করে সন্তানের মরদেহ ফিরে পেতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতি অনুরোধ জানান।

এ বিষয়ে দূতাবাসের কাউন্সিলর আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, শিশু খাদিজার দাফন লেবাননে দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে। মা শিরিনের মরদেহ দেশে তার পরিবারের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

Previous post বাংলাদেশি অসুস্থ কর্মীদের সহায়তার আশ্বাস বাহরাইন দূতাবাসের
Next post আসুন প্রকাশ্যে খেলুন, আওয়ামী লীগকে রুমিন ফারহানা
Close