রাজধানীর মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত স্থানে সাবেক নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারকে সমাহিত করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ আগস্ট) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মাহবুব তালুকদারের লাশবাহী গাড়িটি বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে পৌঁছায়। সেখানে তার দুই বোন মাহফুজা চৌধুরী ও মারুফা রহিম তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন।

এর আগে বাদ জুমা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মাহবুব তালুকদারের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। এ সময় বিশিষ্টজনদের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল ও ঢাকা জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

গত বুধবার দুপুরে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে মাহবুব তালুকদারের মৃত্যু হয়। দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

দাফনের আগে মাহবুব তালুকদারকে শেষ বিদায় জানান তার স্বজনেরা। এ সময় মাহবুব তালুকদারের দুই বোন ও স্বজনের কান্নায় সেখানকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। বাবার পা ছুঁয়ে শেষবারের মতো সালাম দেন মাহবুব তালুকদারের দুই মেয়ে। একমাত্র ছেলে বাবার মাথায় হাত বুলিয়ে চোখের জলে শেষ বিদায় জানান।

জানাজার আগে মাহবুব তালুকদারের ছেলে শোভন মাহবুব বলেন, আমার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি দেশপ্রমিক ছিলেন। দেশের মানুষের কথা চিন্তা করতেন। তিনি কোনো ভুল–ত্রুটি করে থাকলে ক্ষমা করে দেবেন।

এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, মাহবুব তালুকদার নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আমার কাছে পরিচিত নন। আমার কাছে তার অবস্থান আরও অনেক ওপরে, একজন লেখক হিসেবে। তার জীবন ছিল বৈচিত্র্যপূর্ণ। তিনি যেসব বই লিখেছেন এর মধ্যে কতগুলো ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ ও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি লেখক হিসেবেই বেঁচে থাকবেন, নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নয়। তার জন্য আমরা দোয়া করব, আল্লাহ যাতে তার বেহেশত নসিব করেন।

জানাজা শেষে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট লাগোয়া খালি জায়গায় মাহবুব তালুকদারকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়। পরে লাশ নেয়া হয় বারিধারার বাসায়। সেখানে ঘণ্টাখানেক রাখার পর নেয়া হয় শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে।

Previous post সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ বাংলাদেশি নিহত
Next post মুক্তির পর বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান সম্রাট
Close