যথাযোগ্যমর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যে দিয়ে লস এঞ্জেলেসস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠবাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোকদিবস পালন করে।   কনসাল জেনারেল কর্তৃক জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণের মধ্য দিয়ে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচীর সূচনা করা হয়। চ্যান্সেরীর বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে স্থাপিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখমুজিবুর রহমান-এর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করে সম্মান জানানো হয়। পবিত্র ধর্মগ্রন্থথেকে পাঠ করার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছামুজিব ও  ১৫ আগস্ট কালরাতে নিহত সকল সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে প্রেরিত মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। অনুষ্ঠানে জাতির পিতার জীবন ও কর্মের উপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র” চিরঞ্জীব বঙ্গবন্ধু” প্রদর্শিত হয়। এছাড়াও শোক দিবস উপলক্ষ্যে বিশেষ আলোচনা এবং দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

ক্যালিফোর্নিয়াতে বসবাসরত বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যবৃন্দ, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার প্রতিনিধিবৃন্দসহ কমিউনিটির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ আলোচনায় অংশগ্রহণকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং বাংলাদেশের মহান মুক্তিয্দ্ধু ও দেশ গঠনে তাঁর অবিস্মরণীয় অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

কনসাল জেনারেল সামিয়া আঞ্জুম তাঁর বক্তব্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর প্রতি গভীরশ্রদ্ধা জানিয়ে বঙ্গবন্ধুর জীবন, কর্ম, আদর্শ ও দেশ গঠনে তাঁর ভূমিকার বিষয়ে আলোকপাত করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সংগ্রামী জীবনে জাতির পিতা স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনে যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমেই তাঁর প্রতিদান দেওয়া সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।মাত্র সাড়ে তিন বছরে বঙ্গবন্ধুর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ নির্মাণের বিভিন্ন উদ্যেগের বিষয়ে আলোচনাকালে তিনি বলেন যে, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা কর্তৃক গৃহীত অসমাপ্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছেন।বঙ্গবন্ধুর শান্তিকেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতির উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে শান্তিকামী দেশ হিসেবে সমাদৃত। তিনি সকলকে জাতির পিতার আদর্শকে ধারণ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার কর্তৃক গৃহীত রূপকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের “সোনারবাংলা” বিনির্মাণে ভূমিকা রাখার জন্য আহবান জানান।

জাতিরপিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব ও তাদের পরিবারের শাহাদতবরণকারী সকল সদস্য এবং ১৫ আগস্ট কালরাতে নিহত অন্যান্য সকল শহিদদের রূহের মাগফেরাত এবং দেশের শান্তি, মঙ্গল ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ করা হয়।

Previous post যুক্তরাষ্ট্রকে পরমাণু অস্ত্র দেখার সুযোগ দেবে না রাশিয়া
Next post ডিএফসির অর্থায়নের মাধ্যমে দেশে আরও মার্কিন বিনিয়োগ আহ্বান
Close