কথা ছিল আমেরিকার মঞ্চে মিলে যাবে এপার ওপার দুই বাংলা। সাগর পাড়ের মিলন মেলা আলোকিত হবে দুই বাংলার দুই সেরা প্রতিভার বিচ্ছুরণে। প্রত্যাশা ছিল ১-৩ জুলাই লাস ভেগাসে বাঙালিয়ানার বৈচিত্র আরও ঝলমলে হয়ে উঠবে।

কিন্তু হল কি?

উত্তর আমেরিকার ৪২তম বঙ্গ সম্মেলনের শ্লোগান ছিল ‘হাতে হাতে ধরে চলি’। কিন্তু এ চলা ছিল এক বঙ্গের সাথেই। আর সেটা হল- পশ্চিমবঙ্গ। বাংলাদেশ এখানে অনেকটা নাম মাত্র ছিল।

আমাদের দেখা ভেগাসের বঙ্গ সম্মেলনে বাংলাদেশ নাম মাত্র সুযোগ পেয়েছে। তাও যেটুকু ঘটেছে তার কৃতিত্ব বলতে গেলে সমন্বয়কারী সাকীর কারণে সম্ভব হয়েছে। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও দরাদরিতে উল্লেখযোগ্য ছিল প্রথমবারের মত বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের উপস্থাপনা। বাংলাদেশে নির্মিত বেশ কয়েকটি সিনেমা প্রদর্শনী এবং এ্যাওয়ার্ড প্রদান এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য। এখানে অংশগ্রহণ করা সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে- জাহানারা, রিক্সাগার্ল, রেডিও ও রাত জাগা ফুল। এ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন- পরিচালক অমিতাভ রেজা, অভিনেতা মীর সাব্বির, অভিনেত্রী সাজিয়া হক মিম, প্রযোজক মোয়াজ্জেম হোসেন। লস এঞ্জেলেস, নিউ ইয়র্ক সহ লস ভেগাসের প্রবাসী বাংলাদেশীদের সমাগম ঘটেছিল উক্ত বঙ্গ সম্মেলনে। দশ হাজার দর্শক সমাবেত হওয়ার কথা বললেও হয়েছে মাত্র দেড় হাজার দর্শক। তবে পশ্চিম বঙ্গের বহু শিল্পীদের সমাবেত হতে দেখা গেছে। যদিও অনুষ্ঠানে নিউ ইয়র্ক থেকে আগত শিল্পীদের দ্বারা পরিবেশিত জয় বাংলা ছিল উল্লেখ্য এবং রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। সকির পরিচালনায় বাংলাদেশের নাম কিছুটা উচ্চারিত হয় উক্ত মঞ্চে। অনুষ্ঠানে ভরপুর ছিল ওপার বাংলার অনুষ্ঠান। বৈষম্যের এ সম্মেলনে বাংলাদেশকে এমন করে উপেক্ষা করায় ক্ষুব্ধ দর্শক ও প্রবাসীরা। দুই বাংলার বঙ্গ সম্মেলন নয়, তারা একে ‘ওপার বাংলার বঙ্গ সম্মেলন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

বাংলাদেশের কলাকুশলীদের যে এ্যাওয়ার্ড হিসেবে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়েছে তাতেও ছিল অবহেলার ছাপ। ঢালাও ভাবে একই ধরণের ক্রেস্ট প্রদান করা হয়, যাতে কারও নাম লেখা ছিল না। তবে পশ্চিম বঙ্গের শিল্পীদের ক্ষেত্রে এমনটা দেখা যায়নি। সেখানে সবার নাম উল্লেখ করে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়েছে।

একই সঙ্গে সেখানে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের স্টলগুলোও ব্যবসা করতে পেরেছে কিনা না নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে প্রবাসীরা। কেনাকাটায় কোন ভিড় দেখা যায়নি।

বিভিন্ন রুমে প্রদর্শীত হয়েছে দুই বাংলার চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং আলোচনা পর্ব। যেখানে লোকের সংখ্যা ছিল খুবই কম। অনুষ্ঠান জমিয়ে তুলেছিলেন জিতু কামাল। এবারের সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- ঋতুপর্না সেন গুপ্ত, শাশ্বত চট্ট্যাপধ্যায়, ইমন, লগ্নজিতা, অম্বরীশ দেবলীনা, তনুশ্রী প্রমুখ। এখানে বাংলাদেশের অভিনেতা ইমনের বীরত্ব চলচ্চিত্রের ট্রেলার প্রদর্শীত হয় প্রথম বারের মত। তিনি জুরিকতৃক বিশেষ পুরস্কর গ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, লস এঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত আনন্দ মেলা বঙ্গ সম্মেলনের থেকে অধিক উৎসবমুখর হয়েছিল। তবে বঙ্গ সম্মেলনের মূল মঞ্চে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছিল মনে রাখার মত। বাংলাদেশের প্রবাসী শিল্পীদের জয় বাংলা অনুষ্ঠান প্রশংসার যোগ্য ছিল। পরিচালনায় এ্যানীর নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন। বাংলাদেশ সরকার একশ হাজার ডলার অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কিন্তু তা বাতিল হওয়াতে বাংলাদেশের অধিকাংশ অনুষ্ঠানও বাতিল হয়ে যায়। তবে বাংলাদেশের কালী প্রদীপ চৌধুরী (চেয়ারম্যান) ভারতীয় নাগরিক হিসেবে একশ’ বিশ হাজার অনুদান প্রদান করেছেন বলে শোনা যাচ্ছে। এবারের এন এবিসি চলচ্চিত্র পুরস্কারের মঞ্চে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড পান সন্দীপ রায় কিন্তু অসুস্থতার কারণে মঞ্চে আসতে পারেননি। ৭২ ঘন্টার এই বঙ্গ সম্মেলন নানা সমালোচনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় এবং আগামী বছর নিউ জার্সীতে অনুষ্ঠিত হবে ৪৩তম বঙ্গ সম্মেলন।

Previous post গর্ভপাত করাতে রাজ্য ছাড়তে হলে সুরক্ষা দেবে বাইডেন সরকার
Next post অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় কাজ করবে ফ্রান্স বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব
Close