করোনা ভাইরাসের ক্রান্তিকালের পর লস এঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত আনন্দ মেলা ২০২২ সময়ের শ্রেষ্ঠ অনুষ্ঠান হিসেবে পরিণত হয়েছে। গত ২৫ ও ২৬ জুন, দুই দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত আনন্দ মেলা কমিউনিটিতে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আনন্দ মূখরতায় প্রবাসী কমিউনিটি দু’দিন অনেকটা উৎসবে মেতে ওঠে।

দীর্ঘদিন পর হওয়া এ মেলায় একে অপরের সাথে মতবিনিময়, দেশীয় পণ্য ও খাবারের কেনাকাটাসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বেশ জমজমাট হয়ে ওঠে।

আয়োজনে সব কৃতিত্বের দাবীদার মোহম্মদ আলীর সুপরিকল্পিত প্রযোজনা এবং তার সহযোগীতায় আনন্দ মেলার আয়োজকবৃন্দ।

এই প্রথম স্টেজের চারিপাশে বেরিকেট দেওয়া হয়েছে। যার ফলে অনুষ্ঠান বেশ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। দুই দিন ব্যাপী এ অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন মারভিন রুপম অধিকারী। তার পরিচালনায় সুশৃঙ্খলভাবে সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়। বরাবরের মত মিথুন চৌধুরী এবং নিউ ইয়র্ক থেকে আগত প্রিয়া ডায়েস চমৎকার পরিবেশন করেছেন। ২৫ জুন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন ইউএস কংগ্রেস ওম্যান। তিনি পদ্মা সেতু নির্মাণে সাহসীকতার প্রশংসা করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ থেকে আগত গানবাংলার প্রধান উপদেষ্টা দেলোয়ার হোসেন রাজা।

আনন্দ মেলার চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম চৌধুরী এবং গ্রাণ্ড স্পন্সার মো. মনিরুজ্জামান জীবন। প্রথম দিনের সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় স্থানীয় শীর্ষস্থানীয় শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন। এদের মধ্যে মিতালী, উপমা সাহা, আদনান সহ অন্যান্য শিল্পীবৃন্দ চমৎকার পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। তাদের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে আগত আবু হেনা রনি তার স্ট্যান্ড আপ কমেডির মাধ্যমে সকলের মধ্যে হাসির বন্যা বইয়ে দেন। সেই সঙ্গে চঞ্চল চৌধুরীর কণ্ঠে গাওয়া গান সবাই মুগ্ধ হয়ে শোনেন। ২৬ জুন রবিবার আনন্দ মেলায় লস এঞ্জেলেসের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে দর্শকদের উপস্থিতি মেলাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। উপচে পড়া মানুষের ভিড়ে অতীতের সকল রেকর্ড হারিয়ে যায়। স্টেজের চারিপাশে বেরিকেট দিয়েও দর্শকদের সমাগম ঠেকানা সম্ভব হয়নি।

আনন্দ মেলার বিশেষ আকর্ষণ ছিল মাইম আইকন কাজী মশহুরুল হুদার মূকাভিনয়। এছাড়া নাদিয়ার চমক দেওয়া নৃত্য, ইমনের ফ্লিমি স্টাইলের চলচ্চিত্রের নাচ, নতুন প্রজন্মের অহনার গান, চঞ্চল চৌধুরীর পারফরমেন্স, রনি ও শাহনাজ খুশির কৌতুক নাটক সবাইকে মাতিয়ে রাখে। সর্বপরি যার জন্য আনন্দ মেলা বাধ ভেঙে যায় তিনি হলেন তাহসান খান। নতুন প্রজন্মদের ভিড়ে তাহসান তার গানের মাধ্যমে হারিয়ে যায়। জনপ্রিয় এই শিল্পীর ভক্ত প্রবাসে অফুরন্ত তা তার পারফরমেন্সে বোঝা যায়। এবারের আনন্দ মেলায় প্রত্যেকেই তৃপ্তি সহকারে অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফিরে গেছে এমনটাই জরীপে পাওয়া গেছে। এ জন্য সকলেই প্রধান আয়োজক মোহম্মদ আলীকে ধন্যবাদ জানান। আগামীতে আরও টেকনিক্যাল সংযোজনের কথা বলেন গ্রাণ্ড স্পন্সার মো. মনিরুজ্জামান।

এবারের আনন্দ মেলা ২০২২ এর এওয়ার্ড প্র্যাপ্ত হয়েছেন- ইঞ্জিনিয়ার জলিল খান (লাইফটাইম এচিভমেন্ট), আনন্দ মেলা পদক গ্রহণ করেন ফেন্ড বাবু ও মো. নূরু। বেস্ট সাংবাদিক এওয়ার্ড পান লস্কর আল মামুন এবং স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার পদক পায় ত্রিনা নন্দী। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে আগত শিল্পীবৃন্দ ও গ্রহণ করেন আনন্দ মেলা পদক। সেই সাথে জুডি চু কতৃক কংগ্রেশনাল এওয়ার্ড গ্রহণ করে। লস এঞ্জেলেসবাসী আগামী আনন্দ মেলা ২০২৩ এর অপেক্ষায় রয়েছে। এই মেলা আরও জমে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ গান বাংলার দেলোয়ার হোসেন তার বক্তব্যে বলেন যে, তিনি ব্যাক্তিগত ভাবে আগামীর আনন্দ মেলায় সরাসরি সহযোগিতা করবেন। অতএব, শিল্পীর অভাব পূরণ হবে বলে সকলে আশা ব্যাক্ত করেছে।

আনন্দ মেলার সাফল্যের পিছনে আরো যারা রয়েছেন, আমীর হোসেন, আলমগীর হোসেন, রাজীব কুণ্ডু, মোস্তাক আহমেদ, হাবিবুর রহমান ইমরান, নূর নবী সুমন, ওয়াহিদ রহমান, হিল্লোল বিশ্বাস, রাহিদ নূর, মাহিন সূজন, নান্টু খান, মিকাইল খান প্রমুখ।

 

Previous post ৩৫ বছরে উঠে আসবে পদ্মা সেতুর খরচ
Next post যুক্তরাষ্ট্রে পরিত্যক্ত ট্রাকে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫০
Close