করোনাভাইরাস মহামারিকালে পাঁচ লক্ষাধিক প্রবাসী বাংলাদেশী কর্মী কাজ হারিয়ে বাংলাদেশে ফিরে এসেছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ।

বৃহস্পতিবার সংসদের বৈঠকে ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হলে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

আওয়ামী লীগ দলীয় সদস্য মামুনুর রশীদ কিরনের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী ইমরান আহমেদ বলেন, বর্তমান সরকারের নানামুখী কূটনীতিক তৎপরতায় ২০২২ সালের মেট্রিক টন পর্যন্ত ৫ লাখ ৩ হাজার ৯৭৯ জন অভিবাসী কর্মী বৈদেশিক কর্মসংস্থান লাভ করেছে।

চট্টগ্রাম-৪ আসনের সদস্য দিদারুল আলমের এক প্রশ্নের জবাবে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, ২০২২ সালের মেট্রিক টন মাস পর্যন্ত বর্তমানে বিশ্বে ৮৪টি দেশে মোট ১০ লাখ ৫০ হাজার ৮১৯ জন বাংলাদেশে নারী শ্রমিক কাজ করছেন।

নারী কর্মীদের নিরাপত্তা রক্ষার্থে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশনগুলোর মাধ্যমে নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী।

দুই লাখ মেট্রিক টন গম রপ্তানির প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া

ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে বিভিন্ন খাদ্যশস্যের সঙ্গে গম ও আটার দাম বেড়ে যাওয়ায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গম আমদানির জন্য বিভিন্ন রপ্তানিকারক দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য শফিউল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে রাশিয়া দুই লাখ মেট্রিক টন ট্রিক টন গম রপ্তানির প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়া ভারত থেকে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে গম আমদানির লক্ষ্যে দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগ দলীয় সদস্য আলী আজমের এক প্রশ্নের জবাবে খাদ্য মন্ত্রী বলেন, ২০২০-২১ অর্থ-বছরে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) কর্তৃক খাদ্যশষ্যের (চাল ও গম) মোট উৎপাদন ৩৮৬ দশমিক ৯৩ লাখ মেট্রিক টন ট্রিক টন (চাল ৩৭৬ দশমিক ৮ লাখ মেট্রিক টন ট্রিক টন ও গম ১০ দশমিক ৮৫ লাখ মেট্রিক টন ট্রিক টন) চূড়ান্ত করা হয়েছে।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রাক্কলিত খাদ্যশস্যের মোট উৎপাদনের পরিমাণ ৪০১ দশমিক ৩৬ লাখ মেট্রিক টন টন (চাল ৩৮৯ দশমিক ১০ লাখ মেট্রিক টন এবং গম ১২ দশমিক ২৬ লাখ মেট্রিক টন)।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক পরিচালিত হাউসহোল্ড ইনকাম এন্ড এক্সপেন্ডিচার সার্ভে অনুসারে মানুষের দৈনিক গড় খাদ্যশস্য গ্রহণের পরিমাণ ৩৮৭ গ্রাম (চাল ৩৬৭ দশমিক ২ গ্রাম এবং গম ১৯ দশমিক ৮ গ্রাম।

একই প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ২০২০-২১ অর্থ-বছরে দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬৯ দশমিক ৩০ (প্রাক্কলিত) মিলিয়ন হলে মোট খাদ্য শস্যের প্রয়োজন ছিল ২৩৯ দশমিক ১৪ লাখ মেট্রিক টন (চাল ২২৬ দশমিক ৯০ লাখ মেট্রিক টন এবং গম ১২ দশমিক ২৪ লাখ মেট্রিক টন) যা ২০২০-২১ অর্থ-বছরের খাদ্যশস্যের মোট উৎপাদনের তুলনায় কম।

আবার দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৩৭ বিবেচনায় ২০২২ সালের ১লা জানুয়ারিতে দেশের মোট জনসংখ্যা দাঁড়ায় ১৭১ দশমিক ৫৩ (প্রাক্কলিত) মিলিয়ন।

সে হিসেবে ২০২১-২২ অর্থ-বছরের দেশে খাদ্যশস্যের মোট চাহিদা হবে ২৪২ দশমিক ৩০ লাখ মেট্রিক টন; যা অর্থ-বছরে খাদ্যশস্য উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম। সুতরাং চাহিদা অনুযায়ী দেশে খাদ্যশস্যের ঘাটতি নেই।

তিনি বলেন, সরকারি খাদ্য গুদামগুলোতে গত ২০ জুন তারিখে সর্বমোট ১৫ লাখ ২১ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ ছিল। খাদ্য গুদামে খাদ্যশস্যের মজুদ আরও বৃদ্ধির জন্য অভ্যন্তরীণ উৎস হতে মোট ২০ লাখ মেট্রিক টন ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সংগ্রহ কার্যক্রম চলমান আছে এবং বৈদেশিক উৎস হতেও গম আমদানির কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল ও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে: টিপু মুনশি

জাতীয় পার্টি-জাপার সংসদ সদস্য নাসরিন জাহান রত্নার এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করায় ভোজ্য তেলসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল ও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।

একই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারে যখন বাড়ে তখন দেশে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অধিক পরিমানে বাড়ানো হয়, তখন আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সমপরিমাণ কমানো হয় না-এই বক্তব্য ঠিক নয়।

আওয়ামী লীগ দলীয় সদস্য মো. মোজাফ্ফর হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য মন্ত্রী সংসদে জানান, বাংলাদেশ প্রধানত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ড ও বেলজিয়ামসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, জাপান, কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ এবং মধ্য প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পণ্য রপ্তানি করে থাকে।

২০২০-২১ অর্থবছরে বিশ্বের ২০৩টি দেশে ৭৫১টি পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে এবং পণ্য রপ্তানি করে এই সময়ে ৩৮ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে।

আওয়ামী লীগ দলীয় সদস্য আবুল কালাম আজাদের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কিছুদিন পূর্বে সয়াবিন তেল মজুদ করে বাজারে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে জনসাধারণকে দাঁড় করানোর অপচেষ্টার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সয়াবিন তেল মজুদ করে বাজারে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে পরিচালিত বাজার মনিটরিং টিম দায়ী ব্যক্তিদেরকে জরিমানা করা হয়েছে।

জেলা ও উপজেলা প্রশাসন পরিচালিত মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়েছে।

পাশাপাশি দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলাও রুজু করা হচ্ছে। তাছাড়া সয়াবিন তেলের বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে সয়াবিন তেলে উৎপাদনকারী/রিফাইনারি মিল, পাইকারি বাজার ও খুচরা বাজা অভিযান চালানো হয়েছে।

Previous post বন্যাদুর্গত সিলেট পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
Next post মোহাম্মদ বিন সালমান: ‘ভিলেন’ থেকে বিশ্বনেতা
Close