চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এখন কোন পর্যায় তা নিয়ে নানা ধারণা রয়েছে। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, কূটনীতিক নানা দিক রয়েছে এই সম্পরেকের যা নিয়ে নানা জনের নানা মত। তবে বিষয়টি এবার অনেকটাই খোলাসা করলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি জে. ব্লিঙ্কেন। গত ২৬ মে ওয়াশিংটন ডি.সি. জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটিতে এক বক্তৃতায় চীনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কথা বলেন ব্লিঙ্কেন। ব্লিঙ্কেনের সে বক্তৃতা বাংলায় অনুবাদ করেছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। যা সংবাদমাধ্যমকে সরবরাহ করা হয়েছে। কি বলেছেন সেক্রেটারি অব স্টেট অ্যান্টনি জে. ব্লিঙ্কেন। পড়ুন এখানে-

ধন্যবাদ আপনাদেরকে। শুভ সকাল।

জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটিতে আসাটা সত্যিই আনন্দের। এটি এমন একটি (শিক্ষা) প্রতিষ্ঠান যার আকর্ষণে বিশ্বের নানান প্রান্ত থেকে অসাধারণ শিক্ষার্থী আর পন্ডিত ব্যক্তিরা এখানে আসেন এবং এটি সেই জায়গা যেখানে দেশের ও বিশ্বের সর্বাধিক জরুরি যে চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি আমরা হই সেগুলো নিয়ে অধ্যয়ন করা হয় এবং আলাপ-আলোচনা ও তর্ক-বিতর্ক হয়। তাই আজ এখানে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আপনাদেরকে ধন্যবাদ।

এবং আমি বিশেষ করে এশিয়া সোসাইটিতে থাকা আমাদের বন্ধুদের ধন্যবাদ জানাতে চাই, যারা শান্তি, সমৃদ্ধি, স্বাধীনতা, সমতা ও টেকসইতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এশিয়ার দেশগুলো ও সেখানকার জনগণের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য নিবেদিতভাবে কাজ করছেন। শুধু আজ এই অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্যই নয়, আমি আপনাদের প্রতিদিনকার নেতৃত্বের জন্যও ধন্যবাদ জানাই। কেভিন রাড, ওয়েন্ডি কাটলার, ড্যানি রাসেল — সকল সহকর্মী, সকল চিন্তাবিদ, যারা একইসঙ্গে চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দিতে কাজও করছেন, এবং আপনাদের সাথে থাকাটা পারাটা সবসময় মনোমুগ্ধকর এক চমত্‌কার অনুভূতি।

এবং আমাকে বলতেই হবে সিনেটর রমনি, আজকে এখানে আপনার উপস্থিতির জন্য আমি আপনার কাছে কৃতজ্ঞ — (সিনেটর রমনি) আপনি এমন একজন মানুষ, একজন নেতা যাকে আমি খুবই শ্রদ্ধা করি, একজন অসাধারণ (প্রচন্ড) নীতিবান মানুষ, যিনি আজকের আলোচ্য বিষয়ের উপর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সিনেটর, আপনার উপস্থিতির জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

এবং আমি এখানে অনেক কূটনৈতিক প্রতিনিধিবৃন্দের উপস্থিতি দেখে আনন্দিত কারণ আমাদের যৌথ ভবিষ্যত্‌ (শেয়ারড ফিউচার) গঠনের জন্য কূটনীতি অপরিহার্য এক বিষয়।
গত দুই বছরে আমরা একত্রিত হয়েছি কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবেলা করতে এবং ভবিষ্যতের বৈশ্বিক স্বাস্থ্য বিষয়ক জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুতি নিতে, অর্থনৈতিক ধাক্কা পুনর্গঠনে, সরবরাহ ব্যবস্থার বিশৃঙ্খলা থেকে শুরু করে ঋণ সংকট কাটাতে এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা করতে এবং এমন একটি ভবিষ্যত্‌ জ্বালানির সন্ধানে যা আরো বেশি পরিস্কার/ক্লিন, আরো বেশি নিরাপদ ও আরো বেশি সাশ্রয়ী।

এই প্রচেষ্টাগুলোতে একত্রিত হওয়ার একটি সাধারণ কারণ ও সহজ সত্য ছিল এই যে, আমরা কেউ একা এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে পারব না। আমাদেরকে একসঙ্গে (যৌথ প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে) এগুলোর মোকাবেলা করতে হবে।

আর এই কারণেই আমরা কূটনীতিকে আবারো আমেরিকান পররাষ্ট্র নীতির কেন্দ্রে ফিরিয়ে এনেছি, যাতে করে ভবিষ্যতের পৃথিবী নিয়ে আমেরিকান ও বিশ্বব্যাপী জনগণের চাওয়া আমরা উপলব্ধি করতে ও বুঝতে পারি — এমন পৃথিবী যেখানে প্রযুক্তি মানুষের উন্নতির জন্য ব্যবহৃত হবে, তাদেরকে দমন করতে নয়; যেখানে ব্যবসা ও বাণিজ্য কর্মীদের সহায়তা করবে, তাদের আয় বাড়াবে, সুযোগ তৈরি করবে; যেখানে সার্বজনীন মানবাধিকার সম্মানিত হবে; দেশগুলো জোর জবরদস্তি ও আগ্রাসন থেকে নিরাপদ থাকবে এবং মানুষ, ধারণা, পণ্য ও মূলধন বা পুঁজি নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে; এবং যেখানে দেশগুলো তাদের নিজেদের পথে এগিয়ে যেতে পারার পাশাপাশি সকলের প্রয়োজনে একসঙ্গে কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে।

এমন ভবিষ্যত গড়ে তোলার জন্য আমাদেরকে অবশ্যই নিয়মনীতি-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা (ইন্টারন্যাশনাল অর্ডার)-কে রক্ষা এবং সংস্কার করতে হবে —যা দু’টি বিশ্বযুদ্ধের পর রাষ্ট্রগুলো নিজেদের মধ্যে সম্পর্কের ব্যবস্থাপনা, সংঘাত প্রতিরোধ এবং সকল মানুষের অধিকার সমুন্নত রাখতে আইনের ব্যবস্থা, চুক্তি, নীতি এবং প্রতিষ্ঠানগুলো তৈরি করেছিল।

এগুলো হলো ভিত্তিমূলক নথিপত্র যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে জাতিসংঘের সনদ এবং মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র, যা আত্মনিয়ন্ত্রণ, সার্বভৌমত্ব, বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের মতো ধারণাগুলোকে ধারণ করে। এগুলো পশ্চিমাদের দ্বারা তৈরি কোন বিষয় নয়। এগুলো বিশ্বের সকলের যৌথ (শেয়ারড) আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।

সেই তখন থেকে, দশকের পর দশক ধরে ভয়ংকর ধরনের চ্যালেঞ্জ থাকা সত্বেও এবং আমাদের আদর্শ ও আমাদের অর্জিত কিছু ফলাফলের মধ্যে ব্যবধান থাকার পরও বিশ্বের দেশগুলো আরেকটি বিশ্বযুদ্ধ এবং পারমাণবিক শক্তিগুলোর মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ এড়াতে পেরেছে। আমরা এমন একটি বৈশ্বিক অর্থনীতি গড়ে তুলেছি যেখানে কোটি কোটি মানুষ দারিদ্র্য থেকে বের হয়ে আসতে পেরেছে। মানবাধিকারের ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রগতি হয়েছে যা আগে কখনো ঘটেনি।

এখন, আমরা যখন ভবিষ্যতের দিকে তাকাই, তখন আমরা এতোটা অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে যে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা/ব্যবস্থা বজায় রাখার জন্য তাকে শুধু টিকিয়ে রাখা নয়, বরং আমরা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরো আধুনিক করতে চাই যাতে করে এটি প্রতিটি অঞ্চলে ছোট ও বড় নির্বিশেষে সকল দেশের স্বার্থের, মূল্যবোধের ও আশার প্রতিনিধিত্ব করতে পারে; এবং তাছাড়াও এটি যেন আমাদের বর্তমানে যে চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হচ্ছি তার পাশাপাশি ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জগুলোও মোকাবেলা করতে পারে; অনেক চ্যালেঞ্জ আছে যা সাত দশক আগে কল্পনাও করা যায়নি।

কিন্তু সেই ফলাফল যে বহাল থাকবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই কারণ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভিত্তিগুলো গুরুতর ও অব্যাহতভাবে চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্র্লাদিমির পুতিন বর্তমানে একটি স্পষ্ট হুমকি তৈরি করেছেন। তিনি তিন মাস আগে ইউক্রেন আক্রমণের মধ্য দিয়ে শুধু একটি দেশকে নয় জাতিসংঘ সনদে উল্লেখিত সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখন্ডতার নীতিমালাকেও আক্রমণ করেছেন; যেখানে সকল দেশের বিজিত না হওয়ার কিংবা আগ্রাসন থেকে রক্ষা পাওয়ার অধিকারের কথা বলা হয়েছে। আর এই কারণেই অনেক দেশ একত্রিত হয়ে এই আগ্রাসনের বিরোধীতা করছে, কারণ তারা এটাকে তাদের নিজেদের শান্তি ও নিরাপত্তার উপর সরাসরি আক্রমণ হিসেবে দেখছে।

ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অভূতপূর্ব সহায়তা নিয়ে নিজ দেশের জনগণ ও স্বাধীনতা রক্ষায় বীরত্বের সাথে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এবং যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি, তবে প্রেসিডেন্ট পুতিন তার কৌশলগত লক্ষ্যগুলোর একটিও অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি ইউক্রেনের স্বাধীনতা মুছে ফেলার পরিবর্তে এটিকে শক্তিশালী হতে দিয়েছেন। ন্যাটোকে বিভক্ত করার পরিবর্তে তিনি একত্রিত হতে দিয়েছেন। রাশিয়ার শক্তি প্রমাণ করার পরিবর্তে তিনি এর ক্ষতি করেছেন। এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করার পরিবর্তে তার কারণে দেশগুলো একে (আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে) রক্ষার জন্য একত্রিত হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট পুতিনের এই যুদ্ধ চলতে থাকলেও আমরা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে মারাত্মক চ্যালেঞ্জের দিকে মনোযোগ দেব — এবং এই চ্যালেঞ্জ গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের দ্বারা তৈরি হয়েছে।

চীন একমাত্র দেশ যার আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর এবং এ লক্ষ্যে ক্রমবর্ধমানভাবে অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক, সামরিক ও প্রযুক্তিগত শক্তিকে ব্যবহার করার উভয় অভিপ্রায় রয়েছে। বেইজিংয়ের স্বপ্ন/দৃষ্টিভঙ্গি (ভিশন) আমাদেরকে বিগত ৭৫ বছর ধরে বিশ্বের অগ্রগতি ধরে রেখেছে যে মূল্যবোধ সেই সার্বজনীন মূল্যবোধ থেকে সরিয়ে দিতে পারে।

এছাড়াও চীন বৈশ্বিক অর্থনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা থেকে শুরু করে কোভিডের চ্যালেঞ্জগুলোর সমাধান করার ক্ষেত্রে আমাদের সামর্থ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সহজ কথায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে অদূর ভবিষ্যতে একে অন্যের সাথে মোকাবেলা করতে হবে।

এই কারণেই এটি (চীন-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক) এখনকার পৃথিবীতে সর্বাধিক জটিল ও পরিণামদর্শী সম্পর্কগুলোর একটি।

বাইডেন প্রশাসন গত বছর থেকে আমাদের জাতীয় শক্তি এবং আমাদের মিত্র ও অংশীদারদের অতুলনীয় নেটওয়ার্ককে কাজে লাগানোর জন্য একটি সম্বনিত ও পূর্ণাঙ্গ কৌশলপত্র তৈরি ও বাস্তবায়ন করছে যাতে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত ভবিষ্যত্‌ অর্জন করতে পারি।

আমরা কোন সংঘাত কিংবা নতুন স্নায়ুযুদ্ধ খুঁজছি না। বরং আমরা উভয় পরিস্থিতি (সংঘাত ও স্নায়ুযুদ্ধ) এড়াতে বদ্ধপরিকর।

আমরা চীনকে একটি প্রধান শক্তি হিসেবে ভূমিকা পালনের মাধ্যমে তাদের নিজেদের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কিংবা তাদের জনগণের স্বার্থকে এগিয়ে নিতে চীনের প্রচেষ্টাকে থামাতে চাই না, অন্য কোন দেশের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

কিন্তু আমরা আন্তর্জাতিক আইন, চুক্তি, নীতি ও প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষা ও শক্তিশালী করব যা শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখে, ব্যক্তি ও সার্বভৌম জাতির অধিকার রক্ষা করে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও চীনসহ সকল দেশের সহাবস্থান ও (পারস্পরিক) সহযোগিতা সম্ভব করে তোলে।

এখন আমরা যে চীনকে দেখি তা ৫০ বছর আগের চীন থেকে আলাদা, যখন প্রেসিডেন্ট নিক্সন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেশটি সফরের মধ্য দিয়ে কয়েক দশকের টানাপোড়েন সম্পর্কের অবসান ঘটিয়েছিলেন।

এরপর, চীন নিজেদেরকে আলাদা/বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল এবং ব্যাপক দারিদ্র্য ও ক্ষুধার সাথে লড়াই করেছিল।

এখন চীন বিশ্বশক্তি, বিষ্ময়করভাবে/অসাধারণভাবে ধনী, প্রভাবশালী এবং উচ্চাকাঙ্খী। তারা এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ, যাদের শহরগুলো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার নেটওয়ার্ক বিশ্বমানের। বিশ্বের কয়েকটি বৃহত্তম প্রযুক্তি কোম্পানি চীনের এবং তারা ভবিষ্যতের প্রযুক্তি ও শিল্পগুলোতে আধিপত্য/কর্তৃত্ব করতে চায়। তারা দ্রুত তাদের সামরিক বাহিনীকে আধুনিকীকরণ করেছে এবং নিজেদেরকে বিশ্বব্যাপী পৌঁছাতে সক্ষম এমন একটি উচ্চস্তরের যুদ্ধ শক্তিতে পরিণত করতে চায়। এবং তারা ইন্দো-প্যাসিফিকে তাদের প্রভাব বলয় তৈরি এবং বিশ্বের নেতৃস্থানীয় শক্তি হওয়ার উচ্চাকাঙ্খার কথা ঘোষণা করেছে।

চীনের রূপান্তরের কারণ সেই দেশের জনগণের প্রতিভা, উদ্ভাবনী দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রম। এবং এটি সম্ভব হওয়ার পেছনে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা (ইন্টারন্যাশনাল অর্ডার) যে স্থিতিশীলতা ও সুযোগ প্রদান করেছে তারও অবদান রয়েছে। তর্কাতীতভাবে এই কথা বলা যায় যে, বিদ্যমান আন্তর্জাতিক বিশ্ব ব্যবস্থার সুফল চীনের থেকে বেশি পৃথিবীর অন্য কোন দেশ পায়নি।

কিন্তু বেইজিং তাদের শক্তিকে তাদের সাফল্যের পেছনে কাজ করা সেই আন্তর্জাতিক আইন, চুক্তি, নীতি ও প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী ও উজ্জীবিত করার — যাতে অন্য দেশগুলোও সেখান থেকে উপকৃত হতে পারে — পরিবর্তে সেগুলোর অবমূল্যায়ন করছে। প্রেসিডেন্ট শি-র অধীনে ক্ষমতাসীন চীনা কমিউনিস্ট পার্টি দেশে আরো দমনমূলক এবং বিদেশে আরো আগ্রাসী হয়ে উঠেছে।

আমরা দেখতে পাই বেইজিং কীভাবে চীনের অভ্যন্তরে ব্যাপক নজরদারি নিখুঁত করেছে এবং একই ধরনের (নজরদারির) প্রযুক্তি তারা ৮০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি করেছে; কীভাবে তারা দক্ষিণ চীন সাগরে বেআইনী মেরিটাইম দাবী নিয়ে আগাচ্ছে এবং শান্তি ও নিরাপত্তা, নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ও বাণিজ্যকে অবমূল্যায়ন করছে; কীভাবে তারা প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করছে কিংবা বাণিজ্যের নিয়ম ভঙ্গ করছে, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বজুড়ে দেশগুলোতে শ্রমিক-কর্মী ও কোম্পানিগুলোর ক্ষতি করছে; এবং কীভাবে তারা সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখন্ডতা সমুন্নত রাখার দাবী করে যখন তারা নিজেরাই এই ধরনের পরিস্থিতিকে নিলর্জ্জভাবে লংঘনকারী সরকারগুলোর পাশে দাঁড়ায়।
এমনকি রাশিয়া যখন ইউক্রেন আক্রমণ করার জন্য সক্রিয় হয়েছিল, প্রেসিডেন্ট শি ও প্রেসিডেন্ট পুতিন তখন ঘোষণা করেছিল যে তাদের দুই দেশের মধ্যেকার বন্ধুত্ব “উইথআউট লিমিটস (সীমানাবিহীন)।” আর ঠিক এই সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট বাইডেন যখন জাপান সফর করছিলেন সেই সময়ে চীন ও রাশিয়া ওই অঞ্চলে যৌথভাবে বোমারু বিমানের একটি কৌশলগত মহড়া দিয়েছে।

ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব কেড়ে নিতে ও ইউরোপে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্র সুরক্ষিত করার জন্য প্রেসিডেন্ট পুতিনের যুদ্ধের প্রতি বেইজিংয়ের সমর্থন, আমরা যারা ইন্দো-প্যাসিফিককে আমাদের বাড়ি বলি তাদের এই ঘটনাকে বিপদের হুশিয়ারি হিসেবে দেখা উচিত্‌।

এমন আরো অনেক কারণে বিশ্বের জন্য এটাই জেগে উঠার মোক্ষম সময়। এবং এই ধরনের সময়গুলোতে কূটনীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এভাবেই আমরা আমাদের গভীর উদ্বেগগুলোকে পরিস্কার করতে পারি, একে অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি আরো ভালভাবে বুঝতে পারি এবং একে অপরের ইচ্ছা সম্পর্কে সন্দেহ দূর করতে পারি। আমরা সকল বিষয় নিয়ে বেইজিংয়ের সাথে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ বাড়াতে প্রস্তুত রয়েছি। এবং আমরা আশা করছি যে এমনটা ঘটতে পারে।

কিন্তু আমরা তাদের গতিপথ পরিবর্তনের জন্য বেইজিংয়ের (ইচ্ছার উপর) নির্ভর করে বসে থাকতে পারি না। তাই আমরা একটি উম্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার যে লক্ষ্য তা এগিয়ে নিতে বেইজিংকে ঘিরে একটি কৌশলগত পরিবেশ গড়ে তুলব।

প্রেসিডেন্ট বাইডেন বিশ্বাস করেন এই দশক হবে নির্ণায়ক/সিদ্ধান্তমূলক। আমরা দেশের অভ্যন্তরে এবং বিশ্বব্যাপী দেশগুলোর সাথে মিলে যে পদক্ষেপগুলো নেব তার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে যে আমাদের যৌথ স্বপ্ন (শেয়ারড ভিশন) ভবিষ্যতে বাস্তবায়িত হবে কিনা।

এমন একটি ভবিষ্যত-নির্ধারণী দশকে সাফল্য পেতে বাইডেন প্রশাসনের কর্মকৌশলকে তিনটি শব্দে প্রকাশ করা যায় — “বিনিয়োগ, সারিবদ্ধ করা (একমত হওয়া/জোট বাধা), প্রতিযোগিতা (প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা)।”

আমরা আমাদের দেশে আমাদের শক্তির ভিত্তিগুলোকে মজবুত করতে বিনিয়োগ করব — (আমাদের শক্তির ভিত্তিগুলো হলো) আমাদের প্রতিযোগিতাপূর্ণ মনোভাব, আমাদের উদ্ভাবনী দক্ষতা এবং আমাদের গণতন্ত্র।

আমরা আমাদের মিত্র ও অংশীদারদের নেটওয়ার্কের সাথে আমাদের প্রচেষ্টাকে সারিবদ্ধ করার মাধ্যমে অভিন্ন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনে কাজ করব।

এবং এই দু’টি মূল সম্পদ (বিনিয়োগ ও সারিবদ্ধ করা)-কে কাজে লাগানোর মাধ্যমে আমরা আমাদের স্বার্থ রক্ষা করা ও ভবিষ্যত নিয়ে আমাদের যে স্বপ্ন তা পূরণ করতে চীনের সাথে প্রতিযোগিতা/প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।

আমরা আত্মবিশ্বাসের সাথে এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করছি। আমাদের দেশ অনেক শক্তিতে সমৃদ্ধ। আমাদের রয়েছে শান্তিপূর্ণ প্রতিবেশী, বৈচিত্র্যময় ও ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, অগাধ সম্পদ, বিশ্বের মুদ্রার ভান্ডার, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী এবং উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তাদের একটি সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, উদাহরণস্বরূপ আমাদের তৈরি একাধিক কার্যকরী ভ্যাকসিন বিশ্বব্যাপী মানুষকে কোভিড-১৯ থেকে সুরক্ষিত করছে।

এবং আমাদের মুক্ত সমাজ সর্বোত্তমভাবে প্রতিভা ও বিনিয়োগকে আকর্ষণ করে এবং আমাদের উদ্ভাবন ও পুনঃউদ্ভাবনের সামর্থ্য/দক্ষতা সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, যার ভিত্ আমাদের গণতন্ত্রে স্থাপিত,যা আমাদের সামনে আসা যে কোন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদেরকে ক্ষমতায়ন করে, শক্তি জোগায়।

প্রথমত, (আমাদের কাজ হবে) আমাদের শক্তির জায়গাতে বিনিয়োগ করা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে আমরা যখন আমাদের অংশীদারদের সাথে মিলে একটি নিয়ম-কানুনভিত্তিক (বিশ্ব) ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলাম, আমাদের ফেডারেল সরকারও তখন বৈজ্ঞানিক গবেষণা, শিক্ষা, অবকাঠামো, আমাদের কর্মশক্তিতে, লক্ষ লক্ষ মধ্যবিত্তের চাকরি তৈরিতে এবং কয়েক দশকের সমৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত নেতৃত্বের লক্ষ্যে কৌশলগত বিনিয়োগ করেছিল। কিন্তু আমরা সেই সকল ভিত্তিগুলোকে আমাদের প্রাপ্য এবং স্বাভাবিকভাবে ঘটছে বলেই ধরে নিয়েছিলাম। তাই, এখন আবার মূলে ফিরে যাওয়ার সময় হয়েছে।

বাইডেন প্রশাসন আমাদের জাতীয় শক্তির মূল উত্‌সগুলোতে সুদূরপ্রসারী বিনিয়োগ করছে — আমাদের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত প্রভাব বজায় রাখতে ও প্রসারিত করতে, আমাদের অর্থনীতি ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরো বেশি অভিঘাতসহনশীল করতে এবং আমাদের প্রতিযোগিতামূলক দক্ষতাকে আরো বেশি শানিত করতে আমরা একটি আধুনিক শিল্প কর্মকৌশল নিয়ে আগাচ্ছি।

গতবছর, প্রেসিডেন্ট বাইডেন আমাদের ইতিহাসে সর্ববৃহত্‌ অবকাঠামোগত বিনিয়োগ আইনে স্বাক্ষর করেছেন: আমাদের মহাসড়ক, আমাদের বন্দর, বিমানবন্দর, রেল ও সেতুগুলো আধুনিকীকরণ করা হবে; আমাদের উত্‌পাদনশীলতা বাড়াতে পণ্য দ্রুত বাজারে পৌঁছানো হবে; দেশের সকল প্রান্তে (প্রতিটি কোণায় কোণায়) উচ্চ-গতিসম্পন্ন ইন্টারনেট প্রসারিত করা হবে; আমেরিকার আরো বেশি জায়গায় আরো বেশি ব্যবসা ও আরো বেশি চাকরির ব্যবস্থা করা হবে।

আমরা শিক্ষা ও কর্মী প্রশিক্ষণে কৌশলগত বিনিয়োগ করেছি, যাতে করে বিশ্ব সেরা আমেরিকান কর্মীরা ভবিষ্যতের প্রযুক্তির নকশা তৈরি, (পণ্য) নির্মাণ ও পরিচালনা করতে পারে।

যেহেতু আমাদের শিল্প সংক্রান্ত কর্মকৌশল প্রযুক্তিকেন্দ্রিক, (তাই) আমরা গবেষণা, উন্নয়ন, উন্নত ম্যানুফ্যাকচারিং (উত্‌পাদন)-য়ে বিনিয়োগ করতে চাই। ষাট বছর আগে আমাদের সরকার এখনকার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি গবেষণাতে বিনিয়োগ করত; অর্থাত্‌ বর্তমানে আমরা আমাদের অর্থনীতির আনুপাতিক হারে গবেষণাতে যে পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করি তারা সেই সময়ে আমাদের এখনকার বিনিয়োগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি গবেষণাতে বিনিয়োগ করেছিল, যার ফলশ্রুতিতে সরকারি বিনিয়োগ বেসরকারি খাতের উদ্ভাবনে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছিল। আর এভাবেই আমরা মহাকাশ জয়ের প্রতিযোগিতায় জিতেছি, সেমিকন্ডাক্টর আবিষ্কার করেছি, ইন্টারনেট তৈরি করেছি। আমরা আমাদের জিডিপির অনুপাতে গবেষণা ও উন্নয়নে বিশ্বে সাধারণত প্রথম স্থানে থাকতাম, (সেই আমরা) এখন নবম স্থানে। অন্যদিকে, চীন অষ্টম স্থান থেকে (এই সময়ে) দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে।

দ্বিদলীয় কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে আমরা বর্তমান গতিধারায় পরিবর্তন এনে একে উল্টোমুখী করব (এই পরিস্থিতিকে বদলাব) এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বায়োটেকনোলজি, কোয়ান্টাম কমপিউটিং এর মতো ক্ষেত্রগুলোসহ গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগের মাধ্যমে আমরা ইতিহাস রচনা করব। এই ক্ষেত্রগুলোতে বেইজিং নেতৃত্ব দেয়ার জন্য বদ্ধপরিকর — কিন্তু আমেরিকার সুবিধাগুলোকে কাজে লাগিয়ে শুধু নতুন প্রযুক্তি তৈরি করাই নয়, সেই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে সেই সব প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবহার করা হবে সে ক্ষেত্রেও আমেরিকা ভূমিকা রাখতে পারে কারণ এসবের ভিত্তি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে প্রোথিত কর্তৃত্ববাদে নয়।

নেতৃবৃন্দ — সিনেটর রমনি এবং অন্যান্যরা — হাউজ এবং সিনেটে এই এজেন্ডাকে সমর্থন করার জন্য বিল পাস করেছেন, যার মধ্যে এখানে সেমিকন্ডাক্টর তৈরি করা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার রাখা রয়েছে। এখন কংগ্রেস থেকে আইনটি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য পাঠাতে হবে।
এই কাজটি আমরা করতে পারি, এবং আমাদের জন্য সরবরাহ ব্যবস্থা বসে থাকবে না — সরবরাহ ব্যবস্থা চলছে, এবং আমরা যদি সেগুলোকে এখানে নিয়ে না আসি তাহলে সেগুলো অন্য কোথাও প্রতিষ্ঠিত হবে। প্রেসিডেন্ট বাইডেন যেমনটা বলেছেন, চীনা কমিউনিস্ট পার্টি এই আইনের বিরুদ্ধে লবিং করছে — কারণ আমাদের বিশ্বব্যাপী অবস্থান এবং প্রভাব বাড়ানোর জন্য আমাদের আভ্যন্তরীণ নবায়নের চেয়ে ভালো আর কোন উপায় নেই। এসব বিনিয়োগ শুধু আমেরিকাকে শক্তিশালীই করবে না; আমাদেরকে আরও শক্তিশালী অংশীদার এবং মিত্র হিসেবে গড়ে তুলবে।

যুক্তরাষ্ট্রের একটি শক্তিশালী দিক হলো, যাকে জাদুকরী দিকও বলা যায়, এই যে আমরা (যুক্তরাষ্ট্র) দীর্ঘকাল ধরে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের মেধাবী ও প্রতিভাবান এবং সামনে এগিয়ে যেতে চাওয়া মানুষদের গন্তব্য। তাদের মধ্যে চীন থেকে আসা লাখ লাখ শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন, যারা আমাদের সম্প্রদায়কে সমৃদ্ধ করেছেন এবং আমেরিকানদের সাথে জীবনব্যাপী বন্ধন তৈরি করেছেন। এমনকি মহামারি থাকা সত্বেও গত বছর মাত্র চার মাসে আমরা ১০০,০০০ এর বেশি চীনা শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা ইস্যু করেছি — যা এযাবতকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। আমরা রোমাঞ্চিত যে তারা লেখাপড়া করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নিয়েছে — আমরা তাদের পেয়ে ভাগ্যবান।

এবং আমরা ভাগ্যবান কারণ বিশ্বের সেরা প্রতিভাবান ও মেধাবীরা শুধুমাত্র এখানে লেখাপড়াই করে না তারা এখানেই থেকে যায় — সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ৮০ শতাংশেরও বেশি চীনা শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে পিএইচডি করছে। তারা এখানে উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করছে এবং এতে আমরা সকলে উপকৃত হচ্ছি। আমরা আমাদের দরজা বন্ধ না করেও আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা সম্পর্কে সতর্ক থাকতে পারছি।

আমরা আমাদের ইতিহাস থেকে এও জানি যে আমাদের সাথে যখন কোন একটি সরকারের চ্যালেঞ্জপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়, সেই দেশ থেকে আসা মানুষেরা কিংবা সেই ঐতিহ্যের মানুষদের মনে এমন একটা অনুভূতি তৈরি হয় যে তারা এখানকার কেউ নন — কিংবা তারা আমাদের প্রতিপক্ষ। এর থেকে বড় সত্যি আর কী হতে পারে! চীনা আমেরিকানরা আমাদের দেশে অমূল্য অবদান রেখেছেন; তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এটা করে আসছেন। চাইনিজ বংশোদ্ভূত কারো সাথে দুর্ব্যবহার করা হলে সেটা আমরা একটি দেশ হিসাবে যা কিছু অর্জন করেছি তার বিরুদ্ধে চলে যাবে — চীনা নাগরিক, হোক তিনি এখানে বেড়াতে এসেছেন কিংবা এখানে বসবাস করছেন কিংবা একজন চীনা আমেরিকান, বা অন্য কোনো এশিয়ান আমেরিকান এই দেশের প্রতি তার দাবি অন্য যে কারো সমান। কয়েক প্রজন্মের অভিবাসীদের নিয়ে গঠিত এই দেশ সকলের জন্য সুযোগের প্রতিশ্রুতি দেয়, এখানে বর্ণবাদ এবং ঘৃণার কোন স্থান নেই।

আমাদের সাথে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি এবং চীনা সরকারের গভীর পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু সেই পার্থক্যগুলো সরকার এবং সিস্টেমের (ব্যবস্থার) মধ্যে — আমাদের জনগণের মধ্যে নয়। আমেরিকান জনগণের চীনা জনগণের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। আমরা তাদের অর্জন, তাদের ইতিহাস, তাদের সংস্কৃতিকে সম্মান করি। আমরা তাদের সাথে আমাদের সম্পর্ক তৈরি করেছে যে পারিবারিক বন্ধন এবং বন্ধুত্ব, তাকে আমরা গভীরভাবে মূল্য দেই। এবং আমরা আন্তরিকভাবে চাই যে, আমাদের সরকারগুলো চীনা জনগণের জীবনে এবং আমেরিকানদের জীবনের জন্য এবং বিশ্বব্যাপী মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে একসাথে কাজ করুক।

(যুক্তরাষ্ট্রের) জাতীয় শক্তির আরেকটি মূল উৎস রয়েছে যার উপর আমরা এই নির্ধারক দশকে নির্ভর করব: আমাদের গণতন্ত্র।

একশ বছর আগে যদি জিজ্ঞাসা করা হতো যে একটি দেশের সম্পদ কী, আমরা হয়তো তখন যে তালিকা তৈরি করতাম সেখানে আমাদের ভূখন্ডের বিস্তার, আমাদের জনসংখ্যার আকার, আমাদের সামরিক শক্তি এবং আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ থাকতো। এবং সৌভাগ্যক্রমে, আমরা এখনও সেই সব গুণাবলীর বিচারে ধনী। তবে এই একুশ শতকে একটি দেশের সত্যিকারের সম্পদ হলো সেই দেশের মানুষ — আমাদের মানব সম্পদ — এবং তাদের পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ব্যাপারে আমাদের সামর্থ্য।

আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাতে আমরা এটি করতে পারি। আমরা বিতর্ক করি, আমরা তর্ক করি, আমরা দ্বিমত করি, আমরা আমাদের নির্বাচিত নেতাদেরসহ একে অপরকে চ্যালেঞ্জ করি। আমরা খোলামেলাভাবে আমাদের ঘাটতিগুলো মোকাবেলা করি; আমরা আমাদের ঘাটতি নেই এমন ভান করি না কিংবা আমরা সেগুলোকে কার্পেটের তলায় লুকাই না। এবং আমাদের অগ্রগতি যদি ভীষণভাবে ধীরগতিরও হয়, সেগুলো কঠিন ও কুৎসিত হতে পারে, তারপরও আমরা সেগুলোকে না লুকিয়ে বরং আমরা ধারাবাহিকভাবে এমন একটি সমাজ গড়ার জন্য কাজ করি যেখানে সকল পটভূমির মানুষেরা বিকশিত হতে পারে, যাতে তারা জাতীয় মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত হয় যা আমাদেরকে একত্রিত করে, অনুপ্রাণিত করে এবং আমাদের উন্নত করে ও আমাদেরকে এগিয়ে নেয়।

আমরা নিখুঁত নই। কিন্তু আমরা সেটা হওয়ার জন্য সবসময় সর্বোচ্চ চেষ্টা করি — আমাদের সংবিধানের ভাষায় — আরো নিখুঁতভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে আমরা চেষ্টা করি। আমাদের গণতন্ত্র সেভাবেই তৈরি করা হয়েছে যাতে এমনটা হতে পারে।

আমেরিকান জনগণ এবং আমেরিকান (গণতন্ত্রের) মডেল সেটাই করে এবং এই প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে শক্তিশালী সম্পদগুলোর মধ্যে একটি।

এখন, বেইজিং বিশ্বাস করে যে তাদের মডেলটি আরও ভাল; তারা মনে করে যে একদলীয় কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থা আরো বেশি দক্ষ, কম অগোছালো, যা শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রের চেয়ে উন্নততর। আমরা চীনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে চাই না। আমাদের কাজ হলো একথা আরো একবার প্রমাণ করা যে গণতন্ত্র জরুরি চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে পারে, সুযোগ তৈরি করতে পারে, মানুষের মর্যাদাকে এগিয়ে নিতে পারে; ভবিষ্যত্‌ তাদের জন্য যারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এবং বিশ্বাস করে যে সকল দেশ কোন ধরনের জোর জবরদস্তি ছাড়া তাদের নিজেদের পথ তারা স্বাধীনভাবে নির্ধারণ করবে।

আমাদের কৌশলের দ্বিতীয় অংশটি ভবিষ্যতের জন্য একটি যৌথ স্বপ্ন/রূপকল্প (শেয়ারড ভিশন) নিয়ে আগানোর জন্য আমাদের মিত্র ও অংশীদারদের সাথে একমত হয়ে জোট-বাধা বা সারিবদ্ধ হওয়া।

(দায়িত্ব গ্রহণের) প্রথম দিন থেকে বাইডেন প্রশাসন আমেরিকার জোট এবং অংশীদারিত্বের অতুলনীয় নেটওয়ার্ককে পুনরায় শক্তিশালী করতে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে পুনরায় জড়িত হওয়ার জন্য কাজ করছে। আমরা অংশীদারদের একে অন্যের সাথে এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সংস্থার মাধ্যমে কাজ করতে উৎসাহিত করছি। এবং আমরা আমাদের জনগণের (চাহিদা পূরণের) জন্য সরবরাহ করতে এবং আগামী শতকের পরীক্ষাগুলো মোকাবেলায়/উত্তীর্ণ হতে নতুন জোট তৈরি করছি।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য এটি আরো বেশি সত্য, যেখানে আমাদের জোটসহ আমাদের সম্পর্কগুলো বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী।

যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলের দেশগুলো ও মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিকেই ধারণ করে ও সেটাই বলে: একটি স্বাধীন ও মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক যেখানে নিয়মকানুনগুলো স্বচ্ছতার সাথে তৈরি করা হয় এবং এবং ন্যায্যতার সাথে প্রয়োগ করা হয়; যেখানে দেশগুলো তাদের নিজেদের মতো করে স্বাধীনভাবে সার্বভৌম সিদ্ধান্ত নিতে পারে; যেখানে পণ্য, ধারণা এবং মানুষ স্থলে, আকাশে, সাইবারস্পেসে, খোলা সাগরে অবাধে বিচরণ করতে পারে এবং শাসন কার্যক্রম মানুষের প্রতি সংবেদনশীল (জবাবদিহি করে)।

প্রেসিডেন্ট বাইডেন এই সপ্তাহে ওই অঞ্চলে তার সফরের মাধ্যমে এই অগ্রাধিকারগুলোর উপর পুনরায় জোর দিয়েছেন, যেখানে তিনি দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের সাথে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা জোট পুনর্নিশ্চিত করেছেন এবং উভয় দেশের সাথে আমাদের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতাকে আরও বাড়িয়েছেন।

তিনি সমৃদ্ধির জন্য ইন্দো-প্যাসিফিক ইকোনমিক ফ্রেমওয়ার্ক (আইপিইএফ) চালু করেছেন যা এই অঞ্চলের জন্য এটিই প্রথম এই ধরনের উদ্যোগ। প্রেসিডেন্টের ভাষায়, এটি “আমাদের সকল দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এবং ন্যায্যভাবে বাড়াতে সহায়তা করবে।” আইপিইএফ আমেরিকান অর্থনৈতিক নেতৃত্ব নবায়ন শুধু করবে না, এটি একুশ শতকের অত্যাধুনিক বিষয়গুলোর সাথে মানিয়ে নিতে সহায়তা করবে, যেমন ডিজিটাল অর্থনীতি, সরবরাহ ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি শক্তি, অবকাঠামো এবং দুর্নীতির মতো সমস্যাগুলো মোকাবেলায় সহায়তা করবে। ভারতসহ এক ডজন দেশ এরই মধ্যে এই জোটে যোগ দিয়েছে। আইপিইএফ সদস্যদের সম্মিলিত অর্থনীতি বিশ্বের মোট অর্থনীতির এক তৃতীয়াংশেরও বেশি।

প্রেসিডেন্ট কোয়াড দেশগুলোর — অস্ট্রেলিয়া, জাপান, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র — নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনেও অংশ নিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট বাইডেন দায়িত্ব নেওয়ার আগে কোয়াডে কখনো শীর্ষ নেতৃবৃন্দ অংশ নেয়নি। তিনি গত বছর প্রথমবারের মতো শীর্ষ নেতাদের সভা আহ্বান করার পর কোয়াডের চারটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি এখন একটি নেতৃস্থানীয় আঞ্চলিক দল হয়ে উঠেছে। এই সপ্তাহে কোয়াড থেকে ইন্দো-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ ফর মেরিটাইম ডোমেইন অ্যাওয়ারনেস চালু করা হয়েছে। এর ফলে আমাদের অংশীদাররা এই অঞ্চলজুড়ে তাদের উপকূলের কাছাকাছি সাগরের উপর আরো ভালোভাবে নজরদারি করতে পারবে এবং অবৈধভাবে মাছ ধরার সমাধান করতে পারবে এবং তাদের সামুদ্রিক অধিকার ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পারবে।

আমরা আসিয়ানের সাথে আমাদের অংশীদারিত্বকে পুনরুজ্জীবিত করেছি। এই মাসের শুরুতে আমরা যুক্তরাষ্ট্র-আসিয়ান সম্মেলনের আয়োজন করেছিলাম যেখানে আমরা জরুরি বিষয়গুলো যেমন জনস্বাস্থ্য এবং জলবায়ু সংকট নিয়ে আলাপ করেছি। এই সপ্তাহে আসিয়ানের সাতটি দেশ ইন্দো-প্যাসিফিক ইকোনমিক ফ্রেমওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হয়েছে। এবং আমরা আগামী মাসে মাদ্রিদে অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো সম্মেলনে এশীয় মিত্রদের আমন্ত্রণ জানানোসহ ইন্দো-প্যাসিফিক এবং ইউরোপীয় অংশীদারদের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তুলেছি।

আমরা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে কাজ করছি; উদাহরণস্বরূপ, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব তৈরি হয়েছে, যা অকাস (AUKUS) নামে পরিচিত।

এবং আমরা কোভিড-১৯ কে পরাজিত করতে এই অঞ্চলের ও বিশ্বব্যাপী দেশগুলোকে সাহায্য করছি। আজকের তারিখ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী মহামারি মোকাবেলার জন্য প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার (১ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা) অনুদান দিয়েছে। তার মধ্যে ৫৪ কোটি ডোজেরও বেশি নিরাপদ ও কার্যকর ভ্যাকসিন রয়েছে; যা অনুদান দেয়া হয়েছে, বিক্রি করা হয়নি, এবং এর সাথে কোন রাজনৈতিক স্ট্রিং বা শর্ত জুড়ে দেয়া হয়নি। আমরা বিশ্বব্যাপী ১২০ কোটি ডোজ টিকা সরবরাহ প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছি। এবং আমরা বৈশ্বিক কার্যক্রম পরিকল্পনার আওতায় ১৯টি দেশের একটি গ্রুপের সাথে সমন্বয় করছি যাতে তারা (সেই দেশগুলোর জনগণ) টিকা পায়।

এই ধরনের কূটনীতির কারণে আমরা ইন্দো-প্যাসিফিক জুড়ে অংশীদারদের সাথে আরো বেশি সারিবদ্ধ (কাজের সামঞ্জস্যতা তৈরি করতে পেরেছি) হতে পেরেছি, এবং আমরা আমাদের যৌথ লক্ষ্যে পৌঁছাতে আরো বেশি সমন্বিত উপায়ে কাজ করছি।

আমরা আটলান্টিক-জুড়ে আমাদের কাজের সারিবদ্ধতাকে/মিলগুলোকে আরও গভীর করেছি। আমরা গত বছর ইউএস-ইইউ ট্রেড অ্যান্ড টেকনোলজি কাউন্সিল চালু করেছি; যা সম্মিলিতভাবে বিশ্বের মোট জিডিপির প্রায় ৫০ শতাংশের সমান। গত সপ্তাহে, আমি সেক্রেটারি রাইমন্ডো, অ্যাম্বাসেডর তাই এবং আমাদের ইউরোপীয় কমিশনের প্রতিপক্ষদের সাথে আমাদের দ্বিতীয় বৈঠকে যোগ দিয়েছিলাম নতুন প্রযুক্তির আদর্শমান নির্ধারণ করা, বিনিয়োগ নির্বাচন ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ সমন্বয় করা, সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, পরিবেশবান্ধব সবুজ প্রযুক্তি বাড়ানো এবং খাদ্য নিরাপত্তা উন্নত করা এবং উন্নয়নশীল দেশে ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরি করা বিষয়ে আলাপ করার জন্য।
এদিকে, আমরা এবং আমাদের ইউরোপীয় অংশীদাররা উড়োজাহাজ নিয়ে ১৭ বছরের পুরনো মোকদ্দমা পাশে রেখে; এখন আমরা একে অন্যের সাথে তর্ক করার পরিবর্তে আমরা ওই খাতে আমাদের কোম্পানি ও কর্মীদের কাজের জন্য একটি সম-সুযোগপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্র নিশ্চিত করার জন্য একত্রিতভাবে কাজ করছি।

একইভাবে, আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অন্যান্যদের সাথে ইস্পাত এবং অ্যালুমিনিয়াম আমদানি নিয়ে বিদ্যমান বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য কাজ করেছি। এবং এখন আমরা জলবায়ুর উচ্চ আদর্শ মান নিয়ে যৌথ দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে কাজ করছি এবং বাজারকে বিকৃত করার মাধ্যমে বেইজিংয়ের সুবিধা অর্জনের জন্য ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টা থেকে আমাদের শ্রমিক ও শিল্পকে রক্ষা করার জন্যও কাজ করছি।

আমরা আমাদের নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে অংশীদারিত্ব করছি এবং ডেটার বিশাল প্রবাহের উপর নির্ভরশীল একটি যৌথ (শেয়ার্ড) ডিজিটাল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করছি।

জি২০ এর মাধ্যমে আমরা বিশ্বব্যাপী ন্যূনতম ট্যাক্স/কর পরিশোধ করতে যুগান্তকারী চুক্তিতে পৌঁছেছি। এটি নিশ্চিত করতে হবে যে বড় বড় কোম্পানিগুলো তাদের অংশ ন্যায্যভাবে পরিশোধ করছে এবং দেশগুলোকে আরো বেশি সম্পদ দেয়া যাতে তারা তাদের জনগণের জন্য বিনিয়োগ করতে পারে। এই চুক্তিতে এখন পর্যন্ত ১৩০টিরও বেশি দেশ স্বাক্ষর করেছে।

আমরা এবং আমাদের জি৭ অংশীদাররা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিশাল অবকাঠামো নির্মাণের চাহিদা মেটাতে একটি সমন্বিত, উচ্চ-মানের, এবং স্বচ্ছ পদ্ধতির অনুসরণ করছি।

আমরা কোভিড-১৯ কে পরাজিত করা এবং বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের নবায়নের বিষয় নিয়ে আলাপ করতে একটি বৈশ্বিক সম্মেলন আহ্বান করেছি এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাথে পুনরায় যোগ দিয়েছি।

এবং বড় ধরনের পরীক্ষার এই সময়ে আমরা এবং আমাদের মিত্ররা মিলে ন্যাটোকে পুনঃউজ্জীবিত করেছি, যা এখন আগের মতোই শক্তিশালী।

এই সকল কর্মকান্ডের লক্ষ্য হলো নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থাকে রক্ষা করা এবং প্রয়োজনানুযায়ী নিয়ম-ভিত্তিক ব্যবস্থার সংস্কার করা যাতে সব দেশের উপকারে লাগে। আমরা প্রযুক্তি, জলবায়ু, অবকাঠামো, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য, এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে শীর্ষে যাওয়ার প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে চাই। এবং আমরা এমন একটি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে চাই যেখানে যত বেশি সম্ভব দেশ কার্যকরভাবে নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা করতে পারে, শান্তিপূর্ণভাবে মতপার্থক্যের অবসান ঘটাতে পারে এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে তারা নিজেরাই তাদের নিজেদের ভবিষ্যত রচনা করতে পারে।

আমাদের কূটনীতি অংশীদারিত্ব এবং পারস্পরিক স্বার্থের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। আমরা এটা আশা করি না যে প্রতিটি দেশ আমাদের মতো করে একইভাবে চীনের মূল্যায়ন করবে। আমরা জানি যে যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশের সাথে চীনের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বা জনগণের-সাথে-জনগণের সম্পর্ক রয়েছে যা তারা বজায় রাখতে চায়। এটি (আমাদের কূটনীতি) দেশগুলোকে তাদের নিজেদের পছন্দকে বাছাই করতে বাধ্য করার কোন বিষয় নয়। আমাদের কূটনীতির লক্ষ্য হলো দেশগুলোকে তাদের নিজেদের জন্য বাছাই করার সুযোগ তৈরি করে দেয়া, যাতে করে, উদাহরণস্বরূপ, তাদের জন্য কোন কিছু যেন একমাত্র উপায় না হয়ে যায়, যার ফলে তারা অস্বচ্ছ বিনিয়োগ করবে (বাধ্য হবে) এবং যা শেষ পর্যন্ত দেশগুলোকে ঋণগ্রস্ত করবে, দুর্নীতি বাড়াবে, পরিবেশের ক্ষতি করবে, স্থানীয় চাকুরি বা প্রবৃদ্ধি তৈরি করতে ব্যর্থ হবে এবং দেশগুলোকে তাদের সার্বভৌমত্ব অনুশীলন করার ক্ষেত্রে আপোষ করতে বাধ্য করবে। আমরা ক্রেতার অনুশোচনা সম্পর্কে সরাসরি শুনেছি যে তারা এই ধরনের চুক্তি না করলেও পারতো।

প্রতিটি পদক্ষেপে আমরা আমাদের অংশীদারদের সাথে পরামর্শ করছি, তাদের কথা শুনছি, তাদের উদ্বেগগুলোকে হৃদয়ে ধারণ করছি এবং তাদের অনন্য চ্যালেঞ্জ ও অগ্রাধিকারগুলোর জন্য সমাধান খুঁজে বের করছি।

বেইজিংয়ের সাথে সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে আরো বেশি বাস্তববাদী হওয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি ক্রমবর্ধনভাবে উঠে আসছে। আমাদের অনেক অংশীদার ইতিমধ্যেই বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বুঝতে পেরেছেন যে বেইজিং তাদের পছন্দকে কেউ অপছন্দ করলে অপছন্দকারীকে কঠোর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে। যেমন গত বসন্তে বেইজিং চীনা ছাত্র এবং পর্যটকদের অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণ বন্ধ করে দিয়েছিল এবং অস্ট্রেলিয়ান বার্লি রপ্তানির উপর ৮০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। কারণ অস্ট্রেলিয়ার সরকার কোভিড-এর উত্স সম্পর্কে একটি স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিল। অথবা গত নভেম্বরে, যখন চীনা কোস্ট গার্ডের জাহাজগুলো দক্ষিণ চীন সাগরে ফিলিপাইন নৌবাহিনীর একটি জাহাজে পুনঃসরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ করতে ওয়াটার ক্যানন বা জল-কামান ব্যবহার করেছিল। এই ধরনের কর্মকান্ডগুলো বিশ্বকে মনে করিয়ে দেয় যে বেইজিং কীভাবে তাদের কথিত বিরোধীতার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে পারে।

আমাদের মিত্র ও অংশীদারদের সাথে কাজের সামঞ্জস্যতার মধ্য দিয়ে সারিবদ্ধ হওয়ার আরেকটি ক্ষেত্র রয়েছে: মানবাধিকার।

যুক্তরাষ্ট্র জিনজিয়াং অঞ্চলে সংঘটিত গণহত্যা এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিরুদ্ধে সংগঠিত বিশ্বের দেশগুলো এবং জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে, যেখানে ১০ লাখেরও বেশি ব্যক্তিকে তাদের জাতিগত এবং ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বন্দীশিবিরে আটকে রাখা হয়েছে।

আমরা তিব্বতের পাশে দাঁড়িয়েছি কারণ সেখানকার কর্তৃপক্ষ তিব্বতিদের এবং তাদের সংস্কৃতি, ভাষা এবং ধর্মীয় ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে নৃশংস প্রচারাভিযান চালিয়ে যাচ্ছে এবং হংকংয়ে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে তার আড়ালে কঠোরভাবে গণতন্ত্র-বিরোধী ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

এখন, বেইজিং জোর দিয়ে বলেছে যে এগুলো তাদের আভ্যন্তরীণ বিষয় যা নিয়ে অন্যদের কথা বলার কোন অধিকার নেই। এটা ভুল। জিনজিয়াং এবং তিব্বতে জাতিগত এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সাথে তাদের আচরণ এবং অন্যান্য অনেক কর্মকান্ড জাতিসংঘের সনদের মূল নীতিগুলোর বিরুদ্ধে যায় যা বেইজিং ক্রমাগতভাবে উদ্ধৃত করে থাকে এবং এটি মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রেরও লংঘন যা সকল দেশের মেনে চলার কথা।

হংকংয়ের স্বাধীনতা বাতিল করা সংক্রান্ত বেইজিংয়ের ঘোষণা তাদের পূর্ববতী হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতির লঙ্ঘন, এই সংক্রান্ত একটি চুক্তিতে যার উল্লেখ রয়েছে এবং চুক্তিটি জাতিসংঘে সংরক্ষিত রয়েছে।

আমরা এই বিষয়গুলো অব্যাহতভাবে উত্থাপন করে যাব এবং পরিবর্তনের জন্য আহ্বান জানাব — আমাদের এই অবস্থান চীনের বিরুদ্ধে নয় বরং শান্তি, নিরাপত্তা এবং মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য।

এভাবেই আমাদের কৌশলের তৃতীয় উপাদানের কথা চলে আসে। নিজ দেশে আভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং মিত্র ও অংশীদারদের সাথে বৃহত্তর ঐক্যবদ্ধতা/সারিবদ্ধতার জন্য ধন্যবাদ, এখন আমরা মূল ক্ষেত্রগুলোতে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চীনকে পরাজিত করতে ভাল অবস্থানে আছি।

উদাহরণস্বরূপ, বেইজিং নিজেদেরকে বৈশ্বিক উদ্ভাবন এবং উত্পাদনের কেন্দ্রে রাখতে চায়, তাদের উপর অন্যান্য দেশের প্রযুক্তিগত নির্ভরতা বাড়াতে চায় এবং তারপর সেই নির্ভরতাকে কাজে লাগিয়ে (পুঁজি করে) তাদের পছন্দের বৈদেশিক নীতিগুলো ওই দেশগুলোর উপর আরোপ করতে চায়। এবং বেইজিং এই প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করার জন্য অনেক চেষ্টা করছে — উদাহরণস্বরূপ, আমাদের অর্থনীতির উম্মুক্ততার সুযোগ নিয়ে বেইজিং গুপ্তচরবৃত্তি, হ্যাকিং, প্রযুক্তি ও জ্ঞান চুরি করে তাদের সামরিক উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে কাজ করেছে এবং নজরদারি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে।

তাই আমরা যখন যুক্তরাষ্ট্র এবং আমাদের মিত্র ও অংশীদারদের দ্বারা ব্যাপক উদ্ভাবন নিশ্চিত করতে চাচ্ছি তখন আমাদেরকে প্রযুক্তি পাচার বন্ধে সচেষ্ট হতে হবে যাতে করে আমরা আমাদের নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করার প্রচেষ্টা থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করতে পারি।

আমরা আমাদের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতাকে সুরক্ষিত করার জন্য আমাদের কাছে থাকা টুলস বা ব্যবস্থাগুলোকে কাজে লাগাচ্ছি। যার মধ্যে নতুন এবং শক্তিশালী রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যাতে করে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবনগুলো শেষ পর্যন্ত ভুল হাতে গিয়ে না পড়ে। এছাড়াও একাডেমিক গবেষণার সুরক্ষার জন্য ব্যবস্থা নেয়া, বিজ্ঞানের জন্য একটি উন্মুক্ত, নিরাপদ এবং সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা; উন্নততর সাইবার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা; সংবেদনশীল তথ্য-উপাত্তের জন্য শক্তিশালী নিরাপত্তা; এবং সংবেদনশীল প্রযুক্তি, ডেটা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে প্রবেশগম্যতা তৈরি, আমাদের সরবরাহ ব্যবস্থা প্রবেশ করা কিংবা আমাদের প্রধান কৌশলগত খাতে আধিপত্য বিস্তার করার জন্য বেইজিংয়ের প্রচেষ্টা থেকে আমাদের কোম্পানি এবং দেশগুলোকে রক্ষা করার জন্য বিনিয়োগের বিষয়গুলোকে বিস্তারিতভাবে যাচাই বাছাই করে দেখার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

আমরা বিশ্বাস করি — এবং আমরা আশা করি ব্যবসায়ী সম্প্রদায় বুঝতে পারবে — যে চীনের বাজারে প্রবেশের মূল্য কোনমতেই আমাদের মূল মূল্যবোধ বা দীর্ঘমেয়াদী প্রতিযোগিতামূলক ও প্রযুক্তিগত সুবিধার বিনিময়ে হওয়া উচিত নয়। আমাদেরকে দায়িত্বের সাথে ব্যবসা বাড়াতে হবে, এসময়ে ঝুঁকির সঠিক মূল্যায়ন করতে হবে এবং আমাদের সাথে কাজ করতে হবে শুধুমাত্র জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য নয় বরং আমাদের জাতীয় নিরাপত্তাকে আরো শক্তিশালী করতে আমাদের সাথে কাজ করতে হবে।

অনেক দিন ধরে, চীনা কোম্পানিগুলো আমাদের দেশের বাজারে চীনে থাকা আমাদের কোম্পানিগুলোর তুলনায় অনেক বেশি প্রবেশাধিকার উপভোগ করেছে। উদাহরণস্বরূপ, আমেরিকানরা যারা চায়না ডেইলি সংবাদপত্র পড়তে চায় বা উইচ্যাটের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে চায় তারা তা স্বাধীনভাবে করতে পারে কিন্তু চীনা জনগণের জন্য নিউইয়র্ক টাইমস এবং টুইটার নিষিদ্ধ। শুধু সরকারের পক্ষে যারা কাজ করে তারা এই প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহারের সুযোগ পায় এবং তারা অপপ্রচার এবং বিভ্রান্তি ছড়াতে এগুলো ব্যবহার করে। চীনে থাকা আমেরিকান কোম্পানিগুলো পদ্ধতিগতভাবে জোরপূর্বক প্রযুক্তি স্থানান্তরে বাধ্য হয়, অথচ আমেরিকাতে থাকা চীনা কোম্পানিগুলো আমাদের দেশের আইনের শাসন দ্বারা সুরক্ষিত। চীনা চলচ্চিত্র নির্মাতারা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কোনো সেন্সরশিপ ছাড়াই আমেরিকান থিয়েটার মালিকদের কাছে তাদের সিনেমা অবাধে বিপণন করতে পারে, কিন্তু বেইজিং চীনা বাজারে অনুমোদিত বিদেশী সিনেমার সংখ্যা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে এবং যেগুলোকে সেখানে চালানোর অনুমতি দেওয়া হয় সেগুলোকে আবার রাজনৈতিকভাবে সেন্সরশিপের শিকার হতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রে চীনের ব্যবসাগুলো তাদের অধিকার রক্ষার জন্য আমাদের নিরপেক্ষ আইনী ব্যবস্থা ব্যবহার করতে ভয় পায় না — বাস্তবিকপক্ষে দেখা যায় তারা প্রায়শই যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে দাবী আদায়ে আদালতের শরনাপন্ন হয়। চীনে থাকা বিদেশী সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে এমনটা ঘটে না।
পারস্পরিক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে এই যে ভিন্নতা তা অগ্রহণযোগ্য এবং এটি অ-টেকসইও বটে।

কিংবা ইস্পাত বাজারে কি ঘটেছিল ভাবুন একবার। বেইজিং চীনা কোম্পানিগুলোকে ব্যাপকভাবে অত্যধিক বিনিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিল, যার ফলে বিশ্ব বাজার শস্তা ইস্পাতে ভরে গিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি এবং অন্যান্য বাজারভিত্তিক সংস্থাগুলোর মতো চীনা কোম্পানিগুলোকে লাভ করার প্রয়োজন হয় না, কারণ তাদের তহবিল কমে আসলে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাঙ্কগুলো তাদেরকে ঋণ সরবরাহ করে। তদুপরি তারা দূষণ নিয়ন্ত্রণ বা তাদের কর্মীদের অধিকার রক্ষা করতে তেমন কিছুই করে না, ফলে তাদের পরিচালনা ব্যয়ও কম। ফলস্বরূপ, চীন এখন বিশ্বব্যাপী ইস্পাত উৎপাদনের অর্ধেকেরও বেশি তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে এবং সেইসাথে ভারত, মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া, ইউরোপ এবং অন্য স্থানের কারখানাগুলোকে বাজারের বাইরে ঠেলে দিয়েছে।

আমরা একই ঘটনা ঘটতে দেখেছি সৌর বিদ্যুতের প্যানেল, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারির ক্ষেত্রে — এগুলো একুশ শতকের অর্থনীতির প্রধান খাত, যার জন্য আমরা সম্পূর্ণরূপে চীনের উপর নির্ভরশীল হতে পারি না।

এই ধরনের অর্থনৈতিক কারসাজির কারণে লক্ষ লক্ষ আমেরিকান শ্রমিক কাজ হারাচ্ছে। এবং তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শ্রমিক ও সংস্থার ক্ষতি করছে। আমরা বাজার-বিকৃত করার নীতি ও চর্চাগুলো যেমন ভর্তুকি প্রদান ও বাজারে প্রবেশে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনাগুলো মোকাবেলায় কাজ করব; কারণ চীনের সরকার বছরের পর বছর ধরে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অর্জনের জন্য এই ধরনের বিষয়গুলোকে ব্যবহার করে আসছে। আমরা ওষুধ কারখানা ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজের মতো সংবেদনশীল খাতগুলোতে সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও অভিঘাতসহনশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে উত্‌পাদন অন্যদেশে নিয়ে যাব কিংবা অন্যান্য দেশগুলো থেকে উপকরণ সংগ্রহ করব, ফলে আমরা আর কোন একটি নির্দিষ্ট সরবরাহকারীর উপর নির্ভরশীল থাকব না। আমরা অর্থনৈতিক জোরজবরদস্তি ও ভীতি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে অন্যদের সাথে নিয়ে একত্রিত হবো। এবং আমরা এটি নিশ্চিত করতে কাজ করব যে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো এমন বাণিজ্যে জড়িত হবে না যেখানে জোরপূর্বক শ্রম বিক্রি করাসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনকে ফ্যাসিলিটেট করে কিংবা সুবিধা নিয়ে থাকে।

সংক্ষেপে, আমরা আমেরিকান কর্মী এবং শিল্পের জন্য আমাদের কাছে থাকা প্রতিটি টুল/উপকরণ নিয়ে লড়াই করব — ঠিক যেমন আমরা জানি যে আমাদের অংশীদাররা তাদের দেশের কর্মীদের জন্য লড়াই করবে।

যুক্তরাষ্ট্র চীনের অর্থনীতিকে আমাদের থেকে বা বৈশ্বিক অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চায় না — যদিও বেইজিং, তার বাগ্মীতা সত্ত্বেও, চীনকে বিশ্বের উপর কম নির্ভরশীল করতে এবং বিশ্বকে চীনের উপর আরও নির্ভরশীল করতে চেয়ে অ্যাসিমেট্রিক ডিকপলিং (asymmetric decoupling) অনুসরণ করছে। আমাদের পক্ষ থেকে, আমরা বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ চাই যতক্ষণ পর্যন্ত তারা ন্যায্য এবং আমাদের জাতীয় নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করে না। চীনের উচ্চদক্ষতাসম্পন্ন কর্মীবাহিনীসহ শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পদ রয়েছে। আমরা আত্মবিশ্বাসী যে আমাদের কর্মীরা, আমাদের কোম্পানিগুলো সম-অবস্থানমূলক পরিস্থিতিতে সফলভাবে প্রতিযোগিতা/প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে — এবং আমরা এমন প্রতিযোগিতা/প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে স্বাগত জানাই।

তাই আমরা অন্যায্য প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক অনুশীলন থামাতে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছি। আমরা আমাদের স্বার্থ এবং আমাদের মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনকে সংযুক্ত করে এমন অর্থনৈতিক এবং জনগণের সাথে জনগণের সম্পর্ক বজায় রাখতে কাজ করব। বেইজিং তার আচরণ পরিবর্তন করতে ইচ্ছুক নাও হতে পারে। তবে আমরা এবং অন্যান্য অনেক দেশ যে উদ্বেগগুলো প্রকাশ করেছি সে ব্যাপারে যদি তারা (বেইজিং) দৃঢ় পদক্ষেপ এগিয়ে আসে তবে আমরা ইতিবাচকভাবে সাড়া দেব।
প্রতিযোগিতাকে সংঘাত ও সংঘর্ষের দিকে নিয়ে যাওয়ার দরকার নেই। আমরা সেটা চাইও না। আমরা এমন পরিস্থিতি এড়াতে কাজ করব। তবে আমরা যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে আমাদের স্বার্থ রক্ষা করব।

সেই লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট বাইডেন ডিপার্টমেন্ট অফ ডিফেন্স বা প্রতিরক্ষা বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন যে চীনকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে ধরে আগাতে, যাতে আমাদের সামরিক বাহিনীর এগিয়ে থাকা নিশ্চিত করা যায়। আমরা একটি নতুন পদ্ধতির মাধ্যমে শান্তি রক্ষা করার চেষ্টা করব যাকে আমরা বলছি “সমন্বিত প্রতিরোধ”(“integrated deterrence”) — এই পদ্ধতিতে মিত্র এবং অংশীদারদের একত্রিত করা; প্রচলিত, পারমাণবিক, স্থান, এবং তথ্যগত ক্ষেত্রগুলোতে কাজ করা; অর্থনীতিতে, প্রযুক্তিতে এবং কূটনীতিতে আমাদের শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

প্রশাসন আমাদের সামরিক বিনিয়োগগুলোকে এমন প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে যা ২০ শতকের দ্বন্দ্ব মোকাবেলার জন্য তৈরি করা হয়েছিল যেগুলো দূরপাল্লার, শনাক্ত করা কঠিন এবং স্থানান্তর করা সহজ এমন ছিল। এখন আমরা সামরিক অভিযান কীভাবে পরিচালনা করব সে লক্ষ্যে নতুন ধারণাপত্র তৈরি করছি। এবং আমরা আমাদের শক্তির ভঙ্গি এবং বৈশ্বিক পদচিহ্ন রাখার বিষয়টিকে বৈচিত্র্যময় করছি, আমাদের নেটওয়ার্ক, গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো এবং স্থান-ভিত্তিক সামর্থ্যেকে শক্তিশালী করছি। আমরা এই অঞ্চলে আমাদের মিত্র এবং অংশীদারদেরও তাদের নিজস্ব সামর্থ্যকে কাজে লাগানোর বিষয়ে সহায়তা করব।

আমরা দক্ষিণ ও পূর্ব চীন সাগরে বেইজিংয়ের আগ্রাসী ও বেআইনি কার্যকলাপের বিরোধিতা অব্যাহত রাখব। প্রায় ছয় বছর আগে একটি আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল দেখেছিল যে দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের দাবীর পক্ষে আন্তর্জাতিক আইনে কোন ভিত্তি নেই। আমরা এই অঞ্চলের উপকূলীয় দেশগুলোকে তাদের সামুদ্রিক অধিকার সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে সমর্থন করব। আমরা গত কয়েক দশক ধরে এই অঞ্চলের সমৃদ্ধিতে সমুদ্রে ও আকাশে চলাচলের যে অবাধ স্বাধীনতা ভূমিকা রেখেছে তা সমুন্নত রাখতে মিত্র এবং অংশীদারদের সাথে মিলে কাজ করব। এবং আন্তর্জাতিক আইনে অনুমোদন রয়েছে এমন জায়গাগুলোর আকাশে ওড়া ও সাগরে চলা আমরা অব্যাহত রাখব।

তাইওয়ানের বিষয়ে, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি কয়েক দশক ধরে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সেটা প্রশাসনিকভাবেও। যেমনটা আমাদের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, আমাদের নীতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র “এক চীন” নীতির প্রতি আগের মতোই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্ট, থ্রি জয়েন্ট কমিউনিকস এবং সিক্স অ্যাসুরেন্স দ্বারা চালিত। আমরা এই স্থিতাবস্থার কোন একতরফা পরিবর্তনের বিরোধীতা করি, সেটা যে পক্ষ থেকেই করা হোক না কেন; আমরা তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থন করি না; এবং আমরা প্রত্যাশা করি যে, ক্রস-স্ট্রেইট (cross-strait) পার্থক্যগুলো শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধান করা হবে।

আমাদের তাইওয়ান প্রণালীজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি অব্যাহত আগ্রহ রয়েছে। আমরা তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্ট (টিআরএ)-এর অধীনে তাইওয়ানের পর্যাপ্ত আত্মরক্ষার ক্ষমতা বজায় রাখতে তাইওয়ানকে সহায়তা করার জন্য আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতিগুলো বজায় রাখব — এবং টিআরএ- তে যেভাবে বলা হয়েছে “যেকোনও ধরনের বলপ্রয়োগ বা জবরদস্তিমূলক আচরণ যা তাইওয়ানের নিরাপত্তা বা সামাজিক বা অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে বিপন্ন করার মতো পরিস্থিতিতে আমরা আমাদের সামর্থ্য দিয়ে এই ধরনের পরিস্থিতি প্রতিহত করব।” আমরা তাইওয়ানের সাথে একটি শক্তিশালী কিন্তু অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক উপভোগ করি, তাইওয়ান এই অঞ্চলে একটি সক্রিয় গণতন্ত্র এবং এই অঞ্চলের নেতৃস্থানীয় অর্থনীতি। আমরা তাইওয়ানের সাথে আমাদের সহযোগিতার প্রসার ঘটানো অব্যাহত রাখব, যেখানে আমাদের যৌথ স্বার্থ ও মূল্যবোধ রয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে তাইওয়ানের অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণকে সমর্থন করব, আমাদের “এক চীন” নীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো গভীর করব।
যদিও আমাদের নীতির পরিবর্তন হয়নি, পরিবর্তন যেটা হয়েছে সেটা হলো বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান জোরজবরদস্তিমূলক নিয়ন্ত্রণ — যেমন বিশ্বের দেশগুলোর সাথে তাইওয়ানের সম্পর্ক ছিন্ন করার চেষ্টা করা এবং তাইওয়ানকে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে অংশগ্রহণ করতে বাধা দেওয়া। এবং বেইজিং ক্রমবর্ধমান উস্কানিমূলক বক্তৃতা এবং কার্যকলাপ করে চলছে, যেমন প্রায় প্রতিদিনই তাইওয়ানের কাছে পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-এর বিমান উড়ছে। এই ধরনের কথাবার্তা এবং কাজ গভীরভাবে অস্থিতিশীলতা তৈরি করে; এতে ভুলের ঝুঁকি বাড়ে এবং তাইওয়ান প্রণালীর শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য এটি হুমকিস্বরূপ। যেমনটা আমরা ইন্দো-প্যাসিফিকের মিত্র ও অংশীদারদের সাথে প্রেসিডেন্টের আলোচনা থেকে দেখতে পাই যে, (তাইওয়ান) প্রণালীজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কেবল আমেরিকান স্বার্থ নয়; এটা আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বিষয় এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রেসিডেন্ট বাইডেন যেমনটা বলতে পছন্দ করেন, ইচ্ছাকৃত সংঘাত অনিচ্ছাকৃত সংঘাতের চেয়ে খারাপ। এটি যাতে না ঘটে তার জন্য আমরা দায়িত্বের সাথে এই সম্পর্কটি চালিয়ে নেব। আমরা বেইজিংয়ের সাথে সংকটকালীন যোগাযোগ এবং ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। এবং এই ইস্যুতে — এবং অন্য সকল কিছুতে — আমরা তীব্র প্রতিযোগিতার পাশাপাশি ঐকান্তিক কূটনীতিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এমনকি আমরা বিনিয়োগ, সারিবদ্ধ হওয়া/জোট বাধা এবং প্রতিযোগিতা করছি তখনও আমরা আমাদের যৌথ স্বার্থের জায়গাগুলোতে বেইজিংয়ের সাথে একসাথে কাজ করব। আমরা আমাদেরকে বিভক্ত করে, অগ্রাধিকারমূলক কাজে সামনে এগিয়ে যেতে বাধা দেয়, অথচ যেখানে আমাদের জনগণের ভালোর জন্য এবং বিশ্বের মঙ্গলের জন্য আমাদের একসাথে কাজ করার দাবী রাখে এমন মতপার্থক্য আমরা হতে দিতে পারি না।

এটি জলবায়ু দিয়ে শুরু হয়েছিল। জলবায়ু নিয়ে চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনেক বছর ধরে অচলাবস্থা বিরাজ করছিল, যা পুরো বিশ্বকে শুধু স্থবিরই করেনি অগ্রগতিকেও থামিয়ে দিয়েছিল। যা বিশ্বকে নাড়া দিয়েছিল। (এই অবস্থায়) ২০১৩ সালে চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে জলবায়ু কূটনীতি চ্যানেল চালু হয়, যার মাধ্যমে জলবায়ু নিয়ে বৈশ্বিক পরিসরে গতির সঞ্চার হয়েছিল এবং সেই সূত্রে প্যারিস চুক্তি আসে। গত বছর কপ২৬-এ যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন মিথেন থেকে শুরু করে কয়লা থেকে কার্বন নির্গমন মোকাবেলায় একসাথে কাজ করার জন্য আমাদের গ্লাসগো যৌথ ঘোষণা দেয় তখন বিশ্ব আশায় উজ্জীবিত হয়েছিল।

জলবায়ু কোন আদর্শিক বিষয় নয়। এটি গণিত। সহজ কথাটি হলো, যে দেশ বিশ্বব্যাপী (কার্বন) নির্গমনের ২৮ শতাংশ (একাই) উত্পাদন করে সেই চীনের নেতৃত্ব ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের সমাধান করার কোন উপায় নেই। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, চীন যদি তার বর্তমান পরিকল্পনায় অটল থাকে এবং ২০৩০ সাল পর্যন্ত তার নির্গমনের শীর্ষে না থাকে, তাহলে বাকি বিশ্বকে ২০৩৫ সালের মধ্যে শূন্য নির্গমনে যেতে হবে। এবং যা কোনমতেই সম্ভব নয়।

বর্তমানে প্রায় ২০টি দেশ ৮০ শতাংশ নির্গমনের জন্য দায়ী। এক নম্বরে রয়েছে চীন। দুই নম্বরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যতক্ষণ না আমরা সবাই (নির্গমন বন্ধে) আরো অনেক বেশি করব, অনেক দ্রুত আগাব, ততোদিন পর্যন্ত বিপর্যয়কর আর্থিক ও মানবিক মূল্য দিতে হবে। এছাড়াও, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি শক্তি এবং জলবায়ু নীতিতে প্রতিযোগিতা হলে তাতে সকলেই উপকৃত হবে।

গ্লাসগো ঘোষণা দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ওয়ার্কিং গ্রুপ-সহ যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন একসাথে যে অগ্রগতি করেছে তা এই সংকটের সবচেয়ে খারাপ পরিণতি এড়াতে আমাদের সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমি চীনকে এই যৌথ প্রচেষ্টার গতি ত্বরান্বিত করতে আমাদের সাথে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাই।

কোভিড-১৯ মহামারির মতোই আমাদের (যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের) ভাগ্য যুক্ত রয়েছে। এবং চীনা জনগণের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা রয়েছে কারণ তাদেরকে কোভিডের সাম্প্রতিক আক্রমণকে মোকাবেলা করতে হচ্ছে। কোভিড নিয়ে আমাদেরকে গভীর বেদনাদায়ক পরিস্থিতি পার করতে হয়েছে। তাই আমরা নিশ্চিতভাবে বুঝতে পারি যে, বিশ্বের সকলকে টিকা দিতে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে — এটি কোন সুবিধা আদায় কিংবা রাজনৈতিক ছাড় পাওয়ার জন্য নয়; এটি করতে হবে খুব সহজ একটা কারণে, সেটা হলো সবাই নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত কোন দেশই নিরাপদ নয়। এবং সকল দেশকে অবশ্যই স্বচ্ছভাবে ডেটা এবং নমুনাগুলো বিনিময় করতে হবে — এবং বিশেষজ্ঞদের প্রবেশগম্যতার সুযোগ দিতে হবে — যাতে তারা জীবাণুর নতুন ধরণ ও নতুনভাবে আসা ও পুনরায় ফিরে আসা জীবাণুগুলো নিয়ে কাজ করার মাধ্যমে পরবর্তী মহামারি প্রতিরোধ করতে পারে। যদিও এখনো বর্তমানের মহামারি মোকাবেলার লড়াই চলছে।

অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও বিস্তার রোধের ক্ষেত্রে আমাদের সকলের স্বার্থে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের বিস্তার কমিয়েছে এমন বিধি, নিয়ম, চুক্তিগুলোকে সমুন্নত রাখতে হবে। ইরান ও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি মোকাবেলায় চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গেও কাজ করতে হবে। এবং পারমাণবিক শক্তি হিসাবে আমাদের নিজ নিজ দায়িত্বাবলী নিয়ে বেইজিংয়ের সাথে সরাসরি আলোচনা করতে আমরা প্রস্তুত আছি।

বেআইনি এবং অবৈধ মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে লড়াই করতে, বিশেষ করে ফেন্টানিলের মতো সিন্থেটিক ওপিওডস যা গত বছর ১০০,০০০ এরও বেশি আমেরিকানকে হত্যা করেছিল, এগুলোকে মোকাবেলা করতে আমরা চীনের সাথে কাজ করতে চাই যাতে আন্তর্জাতিক মাদক চোরাকারবারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এই ধরনের মাদক উত্‌পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদানগুলো পৌঁছানো বন্ধ করা যায়, যার অনেকগুলোরই উত্‌পত্তিস্থল চীন।

যেহেতু বৈশ্বিক খাদ্য সংকট বিশ্বব্যাপী মানুষকে হুমকির মুখে ফেলেছে, আমরা বিশ্ববাসীকে সহায়তা করতে চীনের দিকে তাকাই — এমন একটি দেশ যারা কৃষিতে বিশাল অর্জন করেছে। গত সপ্তাহে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক আহ্বান করেছিল। সেখানে আমরা চীনকে যোগদানের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। আমরা এই ধরনের কাজ করা অব্যাহত রাখব।

এবং বিশ্ব অর্থনীতি যখন মহামারির ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠছে তখন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যে বৈশ্বিক সমষ্টিক অর্থনীতির সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ, সেটা জি২০, আইএমএফ, অন্যান্য স্থানে এবং অবশ্যই দ্বিপাক্ষিকভাবে। এটি বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির জন্য দরকার।

সংক্ষেপে বলতে পারি আমরা যেখানেই পারি চীনের সাথে গঠনমূলকভাবে সম্পৃক্ত হবো, এবং সেটা আমাদের বা অন্য কারো প্রতি অনুগ্রহ হিসেবে নয় এবং কখনোই আমাদের নীতি থেকে সরে যাওয়ার বিনিময়ে নয়, বরং আমরা একসঙ্গে কাজ করব বড় ধরনের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করার জন্য যা বিশ্ব বড় শক্তিগুলোর কাছ থেকে প্রত্যাশা করে এবং আরো করব এ কারণে যে এটি আমাদের স্বার্থের সাথে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত। দ্বিপাক্ষিক (বিষয়ে) মত পার্থক্যের কারণে অস্তিত্বগত আন্তঃজাতিক ইস্যুতে কোনো দেশের অগ্রগতি আটকানো উচিত নয়।

গণপ্রজাতন্ত্রী চীন এমন পরিধি ও মাত্রার চ্যালেঞ্জপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করছে যা আমেরিকান কূটনীতিকে পরীক্ষা করবে, যা আমরা আগে দেখিনি। আমি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য স্টেট ডিপার্টমেন্টকে আধুনিকীকরণের অংশ হিসেবে স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং আমাদের কূটনীতিকদের প্রয়োজনীয় টুলস বা সরঞ্জামগুলো দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এর মধ্যে একটি হবে ‘চায়না হাউজ’ তৈরি করে দেয়া — এখানে ডিপার্টমেন্ট-ব্যাপী একটি সমন্বিত টিম কাজ করবে যারা বিভিন্ন ইস্যু ও অঞ্চলজুড়ে আমাদের নীতি সমন্বয় ও বাস্তবায়ন করবে এবং প্রয়োজনানুযায়ী কংগ্রেসের সাথে কাজ করবে। এবং এখানে, আমাকে অবশ্যই বেইজিং-এ আমাদের দূতাবাস এবং চীনজুড়ে থাকা আমাদের কনস্যুলেটগুলোতে রাষ্ট্রদূত নিক বার্নসের নেতৃত্বে কাজ করা অসাধারণ টিমের কথা বলতেই হবে। তারা প্রতিদিন অসাধারণ সব কাজ করছেন এবং অনেকেই তীব্র কোভিড লকডাউনের মধ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কাজ করছেন। চরম অবস্থা সত্ত্বেও তারা অব্যাহতভাবে কাজ করে চলেছেন। দুর্দান্ত এই টিমের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা জানাই।
আমি আগে কখনই আমেরিকান কূটনীতির শক্তি এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে খুব বেশি নিশ্চিত ছিলাম না কিংবা এই নির্ধারক দশকের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করার ক্ষমতা সম্পর্কে নিশ্চিত ছিলাম না। আমেরিকান জনগণকে বলি: আসুন আমরা আমাদের মূল শক্তিতে, আমাদের জনগণের উপর, আমাদের গণতন্ত্রে, আমাদের উদ্ভাবনী চেতনায় বিনিয়োগ করার জন্য পুনরায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হই। যেমনটা প্রেসিডেন্ট বাইডেন প্রায়ই বলেন, আমেরিকার বিরুদ্ধে বাজি ধরা কখনোই ভালো নয়। বরং আসুন আমরা নিজেদের উপর বাজি ধরি এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রতিযোগিতায় জয়ী হই।

একটি উন্মুক্ত, সুরক্ষিত ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যত গড়ে তোলার জন্য বিশ্বজুড়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ দেশগুলোকে বলতে চাই, আসুন সেই নীতিগুলোকে সমুন্নত রাখার জন্য একত্রিতভাবে কাজ করি যা আমাদের যৌথ অগ্রগতিকে সম্ভব করে এবং প্রতিটি দেশের তার নিজের ভবিষ্যত নিজে গড়ার অধিকারের পক্ষে দাঁড়াই। এবং চীনের জনগণের কাছে (বলতে চাই): আমরা আত্মবিশ্বাসের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব; যেখানেই সম্ভব সেখানে আমরা পরস্পরকে সহযোগিতা করব; যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেই হবে সেখানে অবশ্যই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। (এতে) আমরা কোন সাংঘর্ষিকতা দেখি না।

আমাদের মহান দেশগুলোর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করতে না পারার, এবং মানব অগ্রগতিতে একসাথে কাজ করার ও অবদান রাখতে না পারার কোন কারণ থাকতে পারে না। আজকে আমি যা কিছু বলেছি তার সারকথা হলো: মানুষের অগ্রগতিকে এগিয়ে নেওয়া, আমাদের সন্তানদের/শিশুদের জন্য এমন একটি পৃথিবী রেখে যাওয়া যা আরো বেশি শান্তিপূর্ণ, আরো বেশি সমৃদ্ধ এবং আরো বেশি মুক্ত।

(আমার কথা) শোনার জন্য আপনাদেরকে অনেক ধন্যবাদ।