শামসুল আরিফীন বাবলু

জানো স্বপ্নগুলোকে অন্ধকুঠীরে
বন্ধ করে রেখেছিলাম!
কাতরাতে কাতরাতে মৃতপ্রায়।
আর সুখপাখিটা আমায় ছেড়ে চলে গেছে কবে,
মনে নেই।
হঠাৎ এক পড়ন্ত বিকেলে একমুঠো স্বপ্ন নিয়ে দাঁড়ালে তুমি,
আমার সামনে।
খুলে দিলে অন্ধকুঠরীর দরজা;
ঝলক দিল এক টুকরো মিষ্টি রোদ, ঘরটা হেসে উঠলো!

এরপর নিয়ম করে তুমি প্রতিনিয়ত
আমার ঘরে আসতে ৮২৫০ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে;
আমার নির্লোভ চোখদুটো
ভরে উঠেছিল মুগ্ধতায়!

হঠাৎ করে থমকে গেল তোমার পদশব্দ,
নিভে গেল আলো;
আবার কুঠরী অন্ধকারে নিমজ্জিত হলো!
স্বপ্নগুলোও কাঁদতে কাঁদতে বিদায় নিল।

এ জীবনে আর কত নগ্ন প্রতারণা দেখব,
আর কত কষ্টের কাতরতা দেখব;
আর কত বিষন্নতা
আর কত বোবা চোখের কান্না দেখব,
আর কত স্বপ্ন ভাঙার গান শুনব!

এতকিছুর পরও আমাকে নিয়ম করে পৃথিবীর নাট্যমঞ্চে
অভিনয় করতে হয়, প্রতিনিয়ত।
তাইতো ঠোঁটে লিপস্টিকের প্রলেপ লাগিয়ে,
কষ্টের খাঁজ গুলো লুকিয়ে রেখে,
কৃত্রিম হাসি দিয়ে ভান করি সুখ বিলাসের।
চোখে পুরো করে কাজল আঁকি,
শুন্যতাকে ঢেকে রাখতে।
আর তোমরা ভাব কাজলমাখা মুগ্ধ চোখ!
সমস্তদিন অভিনয় শেষে
ঘরে ফিরে যখন খোলসটা উন্মোচন করে নগ্ন হই,
তখন অশ্রু সজল চোখ আর হৃদয়ের
বিলাপ থামাতে পারিনা।
তারপরও হৃদয়কোণে একটা স্বপ্ব অবশিষ্ট ছিল,
অপেক্ষা!
এখন বুঝি সেটাও ক্ষীণ হয়ে আসছে।
পৃথিবীর আলোঝলসিত রূপ আমার জন্যে না;
তাই বিধাতাকে বলেছি,
আমি চলে যেতে চাই, সীমানার বাইরে।
যেখানে কেউ আসবেনা কখনও স্বপ্ন দেখাতে
কিংবা অলীক প্রতিবিম্ব দেখাতে।

এক আলোক বিহীন কুঠীরে, নিজেকে আড়াল করে নিব;
থাকব অবচেতন, চিরনিদ্রায়, চীরকাল॥