অবশেষে মালদ্বীপে বাংলাদেশি অবৈধ শ্রমিকদের বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। মালদ্বীপে অবস্থানরত অবৈধ শ্রমিকদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য বাংলাদেশ হাইকমিশনে জমা দিতে বলা হয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ হাইকমিশনার রিয়ার এডমিরাল এস এম আবুল কালাম আজাদ মালদ্বীপের ইকনোমিক ডেভেলপমেন্ট বিষয়ক মন্ত্রী ইসমাইল ফাইয়াজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় বাংলাদেশি আনডকুমেন্টেড কর্মীদের দ্রুত বৈধকরণ ও বাংলাদেশ হতে নতুন কর্মী নিয়োগের অনুরোধ করা হয়।

বাংলাদেশের মালদ্বীপ হাইকমিশন জানিয়েছে, বৈধকরণ প্রক্রিয়ার সুযোগে যদি কেউ বৈধ ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিট সংগ্রহ না করে, তবে তার বিরুদ্ধে মালদ্বীপের আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বৈধকরণের জন্য বর্তমানে বাংলাদেশি শ্রমিকরা যেখানে কাজ করছেন সেই মালিককে ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট মিনিস্ট্রিতে আবেদন করতে হবে।

হাইকমিশন সূত্র আরো জানায়, দূতাবাসের ফেসবুক পেইজে শ্রমিক বৈধকরণ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া বৈধকরণ সংক্রান্ত লিফলেট ছাপানো হচ্ছে। লিফলেটগুলো যেসব এলাকায় বাংলাদেশী শ্রমিক কর্মরত আছেন, ওইসব এলাকায় বিলি করা হবে। এছাড়া বিস্তারিত তথ্যের জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশনের ফোন (৩৩২০৮৫৯) অথবা ভাইবারে (৭৬১৬৬৩৬) যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

এশিয়ার পর্যটন নির্ভর দেশ মালদ্বীপের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের এক তৃতীয়াংশই নিয়ন্ত্রণ করছেন বাংলাদেশি অভিবাসীরা। সহজ অভিবাসন ও কাজের অবারিত সুযোগ থাকায় কর্মসংস্থানের জন্য এই দ্বীপরাষ্ট্রকে বেছে নিয়েছে বাংলাদেশিরা। মাত্র পাঁচ লাখ জনসংখ্যার দ্বীপ দেশ মালদ্বীপে এক লাখ ৩০ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মরত। এর মধ্যে ৮০ হাজার শ্রমিক বৈধ। অনেক কর্মীই নানাভাবে অবৈধ হয়ে পড়ায় মালদ্বীপে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছেন। নানা সংকটের মধ্য দিয়ে তাদের সেখানে কাজ করতে হচ্ছে।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মালদ্বীপ সফরকালে দেশটির প্রেসিডেন্টের সাথে দ্বিপাক্ষিক ফলপ্রসূ আলোচনায় বাংলাদেশি অবৈধ কর্মীদের বৈধকরণের বিষয়টিও স্থান পায়। তবে পরবর্তীতে দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশন কর্তৃপক্ষ এসব অবৈধ বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধকরণের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। বৈধতার সুযোগ পেলে এসব বাংলাদেশির বেতনও বৃদ্ধি পাবে। দেশে রেমিটেন্সও বাড়বে।

গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ হাইকমিশনার রিয়ার এডমিরাল এস এম আবুল কালাম আজাদ মালদ্বীপের ইকনোমিক ডেভেলপমেন্ট মন্ত্রী ইসমাইল ফাইয়াজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। উভয় পক্ষের বৈঠকে বাংলাদেশী অবৈধ কর্মীদের দ্রুত বৈধকরণের বিষয়টি প্রাধান্য পায়। হাইকমিশনার বাংলাদেশ হতে নতুন কর্মী নিয়োগের জন্য অনুরোধ করেন। উভয় দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় মালদ্বীপের ইকনোমিক ডেভেলপমেন্ট মন্ত্রী ইসমাইল ফাইয়াজ অবৈধ কর্মীদের বৈধকরণের বিষয়ে ওই দেশের সরকারের পক্ষ থেকে সম্মতি দেন।

বৈঠকে মালদ্বীপের এই মন্ত্রী আরো বলেন, বৈধকরণ প্রক্রিয়ার সুযোগে যদি কেউ বৈধ ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিট সংগ্রহ না করেন, তবে তার বিরুদ্ধে মালদ্বীপের আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাংলাদেশের হাই কমিশনার রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মালদ্বীপ সফর ও তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় শ্রমিক বৈধকরণের বিষয়ে মালদ্বীপ সরকার রাজি হয়েছেন। এ থেকে আমাদের রেমিটেন্সও বাড়বে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মালদ্বীপে আরও বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশির কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।

Previous post তেল বিক্রিতে রাশিয়ার সর্বোচ্চ রেকর্ড
Next post ডলা‌র সংকট কাটা‌তে রেমিট্যান্সে প্রণোদনা ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব
Close