যেসব প্রকল্প বাস্তবায়নে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের সম্পর্ক রয়েছে এবং প্রকল্পটি এখনই বাস্তবায়ন জরুরি নয়, সেসব প্রকল্প ছয় মাস বা আরো পরে বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এছাড়া জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের অনুমোদন না দিতেও প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল।

বুধবার (১১ মে) সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব তথ্য জানান।

ইউক্রেন-রাশিয়ার চলমান যুদ্ধ এবং এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে মন্দা পরিস্থিতির পূর্বাভাস ছাড়াও রপ্তানি আয়ের তুলনায় আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিক বাড়তে থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার সন্তোষজনক রিজার্ভ ধরে রাখতে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী অস্বাভাবিক পরিস্থিতি চলছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ সময়ে অহেতুক ব্যয় করতে চাচ্ছে না সরকার। বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয়ে সরকার খুবই সতর্ক রয়েছে। এজন্য বিলাসপণ্যের আমদানিও যাতে কম হয়, সে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, যেসব প্রকল্পের সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের বিষয় রয়েছে এবং এখনই বাস্তবায়ন জরুরি নয় সেগুলো পরে বাস্তবায়ন করা হবে। সরকার এ অস্বাভাবিক সময়টি ম্যানেজ করার জন্য যা করা প্রয়োজন, তাই করছে।

সাংবাদিকরা এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক বিলাসপণ্যে এলসি মার্জিন বাড়িয়েছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ে লাগাম টানার ইঙ্গিত আছে। বিষয়টি সহজ। সময় যখন কঠিন, সিদ্ধান্তও কঠিন নিতে হবে। বর্তমানে বিশ্বের পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। বিশ্বের সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। যতদিন বহির্বিশ্বে অস্থিরতা থাকবে ততদিন এ ধরনের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে কঠিন মানে এমন নয় যে সবকিছু বন্ধ করে ফেলা হবে। বিলাসপণ্য পরে কেনা যাবে,’ জবাবে জানান অর্থমন্ত্রী।

সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এখন যে সফরগুলো হচ্ছে, সেগুলো আগে অনুমোদন দেয়া ছিল। এখন থেকে আর বিদেশ সফরের ঢালাও অনুমোদন দেয়া হবে না। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া নতুন করে বিদেশ ভ্রমনের অনুমোদন না দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। ফলে আপাতত বিদেশ সফর আর নয়।