অঙ্গিকার অনুযায়ী হোয়াইট হাউজে পুনরায় ঈদ উদযাপনের কর্মসূচি চালু করেছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ রেওয়াজ রহিত করেছিলেন টানা চার বছর। উল্লেখ্য, বিল ক্লিন্টনের আমল থেকে শুরু হয়েছিল হোয়াইট হাউজে ঈদ উদযাপনের কর্মসূচি। সেটি পুনর্বহাল অঙ্গিকার করেছিলেন যো বাইডেন। তবে করোনা ভীতির কারণে গত বছর এই উৎসব হয় ভার্চুয়ালে। এবার মুসলিম দেশসমূহের কূটনীতিক, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস, বিভিন্ন স্টেট পার্লামেন্টের মুসলিম সদস্য ছাড়াও আমন্ত্রিত ছিলেন হোয়াইট হাউজ ও স্টেট ডিপার্টমেন্টে মুসলমান কর্মকর্তারা।

সবমিলিয়ে ঈদের দিন তথা সোমবার অপরাহ্নে শতাধিক অতিথির জমজমাট এ অনুষ্ঠানে অত্যন্ত প্রফুল্ল দেখা যায় ফার্স্ট লেডি জিল এবং প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে। বাইডেনকে সকলের সামনে বিপুল করতালির মধ্যে উপস্থাপন করেন ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত ‘আমেরিকার জাতীয় মসজিদ’ হিসেবে পরিচিত মুহাম্মদ মসজিদের ইমাম ড. তালিব এম শরিফ।

বাইডেন বলেন, আজ আমরা বিশ্বের স্থানেই দেখছি যে, তারা সহিংসতার শিকার হয়েছেন। ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে কারোরই বৈষম্য এবং নিপীড়িত কিংবা দমন-পীড়নের মুখে পড়া উচিত নয়। আমাদের স্বীকার করতে হবে যে, অন্যদেশ কিংবা এই আমেরিকাতেও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে আরো অনেক কাজ করতে হবে। ভুলে গেলে চলবে না যে, আমাদের এই সমাজেও মুসলমানেরা নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করছেন, প্রতিদিনই তারা হুমকি-ধমকির সম্মুখীন এবং সহিংসতা ও ইসলাম ফোবিয়ার লক্ষ্যবস্তু হওয়া সত্বেও আমাদের এই জাতিকে শক্তিশালী করছেন।
বাংলাদেশি আমেরিকান নূসরাত জাহান চৌধুরীর নাম উল্লেখ না করে বাইডেন বলেন, দেখতে সত্যিকার অর্থেই আমেরিকা হয়-এ অভিপ্রায়ে একজন মুসলমান নারীকে আমি ফেডারেল বিচারপতি হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছি। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এটি প্রথম ঘটনা। এ সময় তিনি মজা করার জন্যে নিজের ক্যাথলিক ধর্মবিশ্বাসের সাথে তুলনা করে উল্লেখ করেন যে, মুসলমানেরা ৩০ দিন রোজা থাকলেও আমি টানা ৪০দিন কোন ধরনের মিষ্টান্ন এবং আইসক্রিম না খেয়ে কাটিয়েছি সংযম প্রদর্শনের জন্যে।

বাইডেন বলেন, আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে প্রথম কোনো মুসলিমকে নিয়োগ দিয়েছি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা আজকের বিশ্বে মুসলিমদের আমরা অনেক সময়ই নিগৃহীত হতে দেখছি। কখনোই কাউকে তার ধর্মীয় বিশ্বাসের জন্য নিগ্রহ করা উচিত নয়।

পাশাপাশি বাইডেনের কথায় উঠে এসেছে উইঘুর ও রোহিঙ্গা মুসলমানদের দুরবস্থার প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, আজকের এই পবিত্র দিনে আমাদের তাদের কথাও ভাবতে হবে, যারা দুর্ভিক্ষ, সহিংসতা, সংঘর্ষ ও রোগের মুখোমুখি। তাদের মধ্যে রয়েছেন উইঘুর ও রোহিঙ্গা মুসলমানরাও।

সেইসঙ্গে আমেরিকার উচ্ছ্বসিত প্রশস্তিও শোনা গেছে বাইডেনের মুখে। তার মতে, বিশ্বে আমেরিকাই একমাত্র দেশ, যা কোনো ধর্ম, জাতি, ভৌগলিক অবস্থান নয়, স্রেফ একটা আইডিয়ার উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। আর মুসলমানরা যে সে দেশকে একটি নিখুঁত দেশে পরিণত করেছেন সেকথাও বলেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন।

ফার্স্টলেডি জিল বাইডেন শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, ঈদের এই আয়োজনটি মূলত: ভালবাসা থেকে জন্ম নেয়া একটি আনন্দ। আমাদের পরিবার এবং আমাদের সমগ্র কম্যুনিটি এবং মুসলিম কম্যুনিটির জন্য ভালবাসার নামান্তর।
অনুষ্ঠানে ছিলেন ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম, জর্জিয়া স্টেট পার্লামেন্টের সিনেটর শেখ রহমানও। আরো ছিলেন পাকিস্তানি গায়ক ও সুরকার আরুজ আফতাব।

সিনেটর শেখ রহমান অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে এ সংবাদাতাকে বলেন, ঈদ উপলক্ষে এমন অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে প্রেসিডেন্ট বাইডেন প্রশাসনের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি সত্যিকার অর্থেই গভীর মমত্ববোধের প্রকাশ ঘটলো। ডেমক্র্যাটরা যে সকল ধর্মের প্রতি বিশেষভাবে সদয়-তা দৃশ্যমান হলো।

অনুষ্ঠানের আগে টুইটারে এক পোস্টে বাইডেন লেখেন, হোয়াইট হাউসে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অনুষ্ঠান উদযাপন করতে পেরে তিনি ও তার স্ত্রী সম্মানিত বোধ করছেন।

উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট বাইডেনের মত ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসও সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ঈদের আগেরদিন দেওয়া এক বিবৃতিতে বাইডেন পরিবার বলে, সকলের জন্য ধর্মীয় স্বাধীনতার ঐতিহ্য আমাদের দেশকে শক্তিশালী করে এবং এই মূলনীতির প্রতি আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার রক্ষা করতে ও আরও দৃঢ় করতে আমরা সকল বিশ্বাসের আমেরিকানদের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখব।