খালেদা জিয়াকে নারী মুক্তিযোদ্ধা বানাতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কখন যে রাজাকারদের মুক্তিযোদ্ধা বলে বসেন, সেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, তার কাছে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞাটা কী, আমি জানি না।

শনিবার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন নিয়ে নবগঠিত দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এ কথা বলেন। এর আগে ফিতা কেটে নতুন থানার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী। এ সময় চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি জাকির হোসেন, জেলা পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হকসহ পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নারী মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেছেন দলটির মহাসচির মির্জা ফখরুল, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, খালেদা জিয়ার প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই বলতে চাই, তিনি মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস পাকিস্তানিদের ক্যান্টনমেন্টেই পাকিস্তানিদের আতিথেয়তায় ছিলেন। এখন হঠাৎ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব আবিষ্কার করলেন খালেদা জিয়া নাকি নারী মুক্তিযোদ্ধা!

তথ্যমন্ত্রী বলেন, মির্জা ফখরুল এই কথা বলার পর পুলিশের আইজি এবং ঢাকার পুলিশ কমিশনার যখন সমালোচনা করলেন, তখন বিএনপির মহাসচিবসহ নেতারা পুলিশের আইজি এবং ঢাকার পুলিশ কমিশনারের অনেক সমালোচনা করেন। মির্জা ফখরুলের প্রতি প্রশ্ন রেখে ড. হাছান বলেন, জিয়াউর রহমান দেশের কোন প্রচলিত আইনবলে সেনাবাহিনীর প্রধান হয়ে সেনাবাহিনীর ড্রেস পরে রাজনীতি করেছিলেন, বিএনপি গঠন করেছিলেন এবং রাষ্ট্রপতিও হয়েছিলেন? জিয়াউর রহমান যদি সেনাবাহিনীর প্রধান হয়ে দল করতে পারেন, রাজনীতি করতে পারেন, আবার রাষ্ট্রপতিও হয়ে যেতে পারেন, তাহলে পুলিশের আইজি এবং ডিএমপি কমিশনার এই উদ্ভট কথার প্রত্যুত্তরে যদি কিছু বলে থাকেন, সেটি যথার্থই বলেছেন। একটি অসত্য উদ্ভট কথার জবাবে প্রত্যেক নাগরিকেরই বলার অধিকার আছে।

সরকার বিদেশিদের কাছে ধরনা দিচ্ছে-মির্জা ফখরুলের এমন বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ফখরুল সাহেবরা তো কথায় কথায় বিদেশিদের কাছে দৌড় দেন, কোনো কিছু হলেই বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের ডেকে কথা বলেন। এমনকি মির্জা ফখরুল নিজে চিঠি লিখেছিলেন কংগ্রেসম্যানদের কাছে বাংলাদেশকে সাহায্য বন্ধ করার জন্য। বাংলাদেশকে যাতে সাহায্য বন্ধ করে দেয়, বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা যাতে বাতিল করা হয়, এজন্য চিঠি লিখেছিলেন তাদের নেত্রী খালেদা জিয়া। এজন্য নিজের নামে নিবন্ধ লিখেছেন ওয়াশিংটন টাইমসে। যারা কথায় কথায় বিদেশিদের কাছে দৌড় দেন, তারাই এসব উদ্ভট কথা বলতে পারেন।

সম্প্রতি সাম্প্রদায়িক উসকানির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে বিভিন্ন সময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার জন্য অপচেষ্টা হয়, সেগুলো আমরা সব সময় কঠোর হস্তে দমন করেছি। কে হিজাব পরবে কিংবা পরবে না, সেটি তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। সুতরাং এই নিয়ে বিতর্কের সুযোগ নেই। দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া নতুন থানা স্থাপন প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রায় দুই বছর আগে প্রধানমন্ত্রী এখানে থানা স্থাপন করার সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। প্রশাসনিক অন্য ধাপগুলো অতিক্রম করে আজ থানার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে।

Previous post ইমরান খানের গ্রেপ্তার চাইলেন মরিয়ম নওয়াজ
Next post ইউক্রেন, পাকিস্তান, শ্রীলংকার সংকটের মধ্যে কাল বাইডেন-মোদির বৈঠক
Close