একুশে একাডেমি অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে সিডনির অ্যাশফিল্ড পার্কের আন্তর্জাতিক মনুমেন্টের পাদদেশে একুশের ২৩তম বই মেলা অনুষ্ঠিত হয় গত ২০ মার্চ (রবিবার)। করোনা বিধি নিষেধের কারণে এই বছর আয়োজনটি বিলম্বিত হয়।

সকাল দশটায় প্রভাতফেরির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরুর পর একুশে একাডেমির অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আবদুল মতিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রওনক হাসানের সঞ্চালনায় একুশের আলোচনায় অংশ নেন, খন্দকার মাসুদুল আলম কনসাল জেনারেল, টনি বারর্ক ফেডারেল পার্লামেন্ট সদস্য, জেসিকা ডি’আরিয়েনজো ডেপুটি মেয়র ইনার ওয়েস্ট কাউন্সিল, কার্ল সালেহ কাউন্সিলর ক্যান্টারবুরি সিটি কাউন্সিল, রনি মেরণ রেডক্রস অস্ট্রেলিয়া, কবিতা চাকমা স্থপতি এবং মানবাধিকার কর্মী, আশিক আহমেদ সিইও এবং প্রতিষ্ঠাতা ডেপুটি ডটকম প্রমুখ।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, প্রতিটি ভাষাই একেকটি সংস্কৃতির ধারক এবং কালের সাক্ষী। তাই তারা সব ভাষাকেই – তা যত কম মানুষই কথা বলুক না কেন, তাকে সংরক্ষণের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
অনুষ্ঠানে একুশে একাডেমির বিভিন্ন কার্যক্রম যেমন রক্তদান কর্মসূচি, ক্লিন আপ অস্ট্রেলিয়া ডে তে অংশগ্রহণ, অর্গান এন্ড টিস্যু ডোনেশন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, প্রখ্যাত শিল্পীদের চিত্রকর্ম প্রদর্শনী ইত্যাদি তুলে ধরা হয়। একুশের একাডেমির আর্ট স্কুল “ক্যানভাস কিটস” এর বাচ্চাদের চিত্রকর্ম সুধীজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

মহান ভাষা আন্দোলনের স্মরণে নানা আয়োজনে প্রতিবারের মতো এবারও মেলার মূল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল বিভিন্ন বইয়ের স্টলে দেশি ও প্রবাসী প্রথিত দশা কবি-সাহিত্যিকদের বইয়ের সমাহার এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার পর শুরু হয় ছোট্ট সোনামণিদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া সারা দিনব্যাপী চলে গান, কবিতা, নাচ, দলীয় সঙ্গীত, নাটক ইত্যাদি। একুশের একাডেমির শিল্পীরা ছাড়াও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও কমিউনিটি সংগঠন এই সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেয়। এদের মধ্যে কবিতা বিকেল, জুম্মা সাংস্কৃতিক দল, পেন্সিল অস্ট্রেলিয়া এবং শখের থিয়েটারের নাম উল্লেখযোগ্য। একুশের পত্রিকা ‘মাতৃভাষা’র লেখা এবং অঙ্গসজ্জা বিশেষভাবে পাঠক সমাদৃত হয়।

সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৬ টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান মালায় আরো ছিল নতুন প্রকাশনার মোড়ক উম্মোচন, চিত্র ও ফটোগ্রাফি প্রদর্শনী এবং বাচ্চাদের জন্য রাইডস। মেলায় নানান জাতের মুখরোচক দেশীয় খাবারের সমাহার ছিল খাবার স্টল গুলিতে।

আগামী বছর ১৯ ফেব্রুয়ারি মেলার তারিখ ঘোষণা করে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন একুশের একাডেমি অস্ট্রেলিয়া সহ-সভাপতি ড. সুলতান মাহমুদ। এবারের একুশে বইমেলার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিল সিডনি থেকে প্রকাশিত পত্রিকা প্রভাতফেরী।