গ্রিসে ‘অনিয়মিত’ বাংলাদেশিরা গ্রেপ্তার আতঙ্কে রয়েছেন বলে অভিযোগ করছেন বসবাসরত প্রবাসীরা। গ্রিস কর্তৃপক্ষ জোর করে দেশে ফেরত পাঠাতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। খবর ডয়চে ভেলের।

সম্প্রতি গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে গ্রিক পুলিশ। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন অনেক বাংলাদেশি। সেখানে বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের গণহারে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। এমন অবস্থায় অনেকে ভয়ে ঘরবন্দি জীবনযাপন করছেন।

অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ তাদের বাসস্থানেও হানা দিচ্ছে বলে কয়েকজন প্রবাসী জানিয়েছেন। তবে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, ‘নথিভুক্ত’ হননি এমন অভিবাসনপ্রত্যাশীদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনার তথ্য পায়নি তারা।

কেন উদ্বিগ্ন বাংলাদেশিরা

গত বছরের ডিসেম্বরে একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে ১৯ জন বাংলাদেশিকে ঢাকায় ফেরত পাঠায় এথেন্স কর্তৃপক্ষ। তখন গ্রিসের অভিবাসী ও শরণার্থী বিষয়কমন্ত্রী নোতিস মিতারাচি জানান, বাংলাদেশের সরকারের সহযোগিতায় ৫ বছর পর অনিয়মিত বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশটি। গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যারা আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আওতায় নেই, তাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে। অনিয়মিত অভিবাসী ফেরত নিতে ঢাকা সহযোগিতা করায় বৈধপথে বাংলাদেশ থেকে গ্রিসে মৌসুমি কর্মী আনার সুযোগ তৈরি হবে।

পরবর্তীতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নোতিস মিতারাচির ঢাকা সফরে দুই দেশের সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়। গ্রিসের অভিবাসী ও শরণার্থী বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বছরে ৪ হাজার বাংলাদেশিকে মৌসুমি কাজের ভিসা দেবে গ্রিস।

অভিযানের কারণ

‘সংগঠিত অপরাধের’ বিরুদ্ধে এথেন্সে পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে বলে খবর প্রকাশ করেছে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো। সংবাদমাধ্যম টিওসি গত রবিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, গ্রিস সরকারের চলমান অভিযানে ৬০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযানে প্রয়োজনীয় নথিবিহীন ৩৬১ জন অভিবাসী ও বিদেশিকে ‘আটক কেন্দ্রে’ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ১৪ জনকে মাদক, ৯ জনকে মানবপাচার, দুজনকে ভুয়া কাগজের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে।