রোহিঙ্গা নির্যাতনকে যুক্তরাষ্ট্র গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় আন্তর্জাতিক আদালতে ন্যায়বিচার পাওয়া সহজ হবে বলে মনে করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা নির্যাতনকে যুক্তরাষ্ট্র গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ফলে এখন মিয়ানমারের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি হবে। এতে তারা রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেবে বলে আমরা আশা করছি।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ‘দেরিতে হলেও এটি একটি ভালো খবর। আমরা একে স্বাগত জানাই। মার্কিন এই ঘোষণার মাধ্যমে প্রত্যাবাসনের প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত হলে আমরা খুব খুশি হব। গণহত্যার শিকার ব্যক্তিদের অবশ্যই ন্যায়বিচার পেতে হবে। আমরা আশা করছি, গাম্বিয়া কর্তৃক আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) করা মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা গতি পাবে।’

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর চালানো সহিংসতাকে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন সোমবার এই ঘোষণা দেন।

ওয়াশিংটন ডিসিতে হলোকাস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়ামে এক অনুষ্ঠানে অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেন, ‘হলোকাস্ট (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইহুদিদের ওপর গণহত্যা) ছাড়াও বিশ্বে সাতটি গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে। আজ অষ্টম গণহত্যার স্বীকৃতি দেওয়া হলো। কারণ, সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সদস্যরা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছেন বলে আমি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি।’

এর আগে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সহিংসতাকে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন।

Previous post চীনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাষ্ট্র
Next post বঙ্গবীর কা‌দের সি‌দ্দিকী বিএসএমএমইউতে ভ‌র্তি
Close