ইউক্রেন সীমান্ত পার হয়ে মলদোভার পর রোমানিয়ার পৌঁছে গেছেন ২৮ বাংলাদেশি নাবিক। বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় তাঁরা ইউক্রেন সীমান্ত পার হয়ে মলদোভা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে পৌঁছন। ইমিগ্রেশন শেষ করতে তাঁদের ভোর পর্যন্ত লেগে যায়। এরপর সড়কপথেই রোমানিয়ার উদ্দেশে রওনা দেন তাঁরা।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম আজ বিকেল সোয়া ৫টার দিকে এক ফেসবুক পোস্টে একটি ছবি শেয়ার করে লেখেন, ‘রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্টে আমাদের অ্যাম্বাসেডর দাউদ আলীর সঙ্গে বাংলার সমৃদ্ধির নাবিকেরা। তাঁরা (নাবিকেরা) এর মধ্যেই রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্টে পৌঁছে গেছেন। ‘

এর আগে বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি রাতে ও সকাল ১০টায় দুবার নাবিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। এর মধ্যে নাবিকরা রোমানিয়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। যেহেতু ইউক্রেন সীমান্ত পার হয়েছেন, এখন তাঁদের আর কোনো ঝুঁকি নেই। ‘

তিনি বলেন, নাবিকরা মলদোভা পৌঁছলে সেখানে হাজারো মানুষের ইমিগ্রেশন পার হতে অনেক সময় লেগে যায়। ইউক্রেন ছেড়ে যাওয়া মানুষের দীর্ঘ লাইন সেই ইমিগ্রেশনে ছিল। শেষ পর্যন্ত তাঁরা নিরাপদে পার হয়েছেন।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক ক্যাপ্টেন মুজিবুর রহমান বলেন, ইউক্রেন থেকে মলদোভা পৌঁছতে পথে পথে অনেক ভোগান্তিতে পড়েন তাঁরা।

জানা গেছে, ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দর থেকে মলদোভার সড়কপথের দূরত্ব ৮১২ কিলোমিটার। সেই সড়কপথ পাড়ি দিতে নাবিকদের যথেষ্ট ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। এই পথে ইউক্রেন যোদ্ধারা সেতুগুলো ভেঙে দেওয়ায় ভোগান্তি বেড়ে যায়। নাবিকদের বিকল্প পথ খুঁজেই পাড়ি দিতে হয়।

উল্লেখ্য, ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে বোমা হামলায় অচল ‘বাংলার সমৃদ্ধি’ জাহাজ থেকে ২৮ জীবিত নাবিক ও একজন নিহতকে উদ্ধার করা হয়। এরপর গত বৃহস্পতিবার রাতে ইউক্রেন বন্দরের কাছাকাছি কোনো এক স্থানে বিশেষ বাংকারে রাখা হয় তাঁদের। সেখানে রাত পার করে শুক্রবার তাঁদের স্থানান্তর করার কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। কিন্তু গোলাগুলি বেড়ে যাওয়ায় তা আর সম্ভব হয়নি।

শিপিং করপোরেশনের এই জাহাজটি গত ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে পৌঁছয়। জাহাজটি ইউক্রেন থেকে সিরামিকের কাঁচামাল নিয়ে ইতালিতে যাওয়ার কথা ছিল। তবে যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ার পর আর ফিরতে পারেনি।