বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে এখন দেশে দ্বিতীয় বাকশালী রাজত্ব কায়েম করেছে।’

তিনি বলেন, দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত এবং বিদেশে তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করে জনগণকে সাথে নিয়ে দুর্বার গণআন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে বিএনপির।’

সোমবার গণতন্ত্র হত্যা দিবসকে সামনে রেখে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ বাকশাল কায়েম করেছিলো। দিনটিকে বিএনপি গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে পালন করে।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) ঢাকাসহ দেশব্যাপী জেলা ও মহানগরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।’

বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ক্ষমতাকে চিরকাল কুক্ষিগত করার অসৎ উদ্দেশ্যে স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারী একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল গঠন করে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়। একটি মাত্র দল বাকশাল ছাড়া অন্য সকল দল এবং সরকার অনুগত ৪টি সংবাদপত্র ছাড়া সকল সংবাদপত্র বন্ধ করে দেয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও মানুষের বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতাকে গলাটিপে হত্যা করা হয়। শুধু তাই নয়, সভা-সমাবেশ এবং মানুষের মৌলিক অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ করে তারা মানুষের মৌলিক অধিকার খর্ব করে মূলতঃ মানবাধিকারকেই পদদলিত করেছিল।’

তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী ভোটারবিহীন নির্বাচন এবং ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরে ভুয়া ভোটের নির্বাচনে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে এখন দেশে দ্বিতীয় বাকশালী রাজত্ব কায়েম করেছে আওয়ামী লীগ। ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুপরিকল্পিতভাবে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিবে বলেই আগেভাগে আওয়ামী সরকার দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী করে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘অসহনীয় দুঃশাসনের অবসান ঘটাতে দেশের আপামর জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়ার জন্য সরকার চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। কথা, চিন্তা, বিবেক, মত প্রকাশ, সংগঠন ও সমাবেশের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হয়েছে হুকুমবাদের দৌরাত্বে। বহুত্ত্ববাদীতা বিনষ্ট করে মানব সমাজের সামাজিক স্থিতি ও ভারসাম্য নষ্ট করা হয়েছে। তাই এখন সর্বত্রই ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর দখলবাজদের দখলের জয়জয়কার চলছে। অবনতিশীল আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা, আশ্রয়, পেশা, ব্যবসা বানিজ্য সবকিছু এখন নৈরাজ্যের করাল গ্রাসে নিপতিত।’

বিএনপি সবসময় জনগণের মৌলিক অধিকার, বাক স্বাধীনতা, সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় অঙ্গিকারাবদ্ধ বলে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল।

Previous post মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে সিন্ডিকেট বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
Next post বাঙলা মূকাভিনয়
Close