নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, ‘আমি জানতাম, নারায়ণগঞ্জবাসী কখনও আমাকে বিমুখ করবে না। আর আমি এমন কিছু করিনি যে, তারা আমার কাছ থেকে দূরে সরে যাবে। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ যা দিয়েছেন, এটাতেই সন্তুষ্ট থাকতে চাই।’

এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো নারায়ণগঞ্জ সিটির মেয়র হলেন আইভী। রোববার রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে রোববার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীন ১৯২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলে। ১৯২ কেন্দ্রের ফলাফলে জানা যায়, নৌকা প্রতীকে আইভী পেয়েছেন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৭ এবং তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার হাতি প্রতীকে পেয়েছেন ৯২ হাজার ৫৬২ ভোট।

জয়ী হওয়ার পর আইভী আরও বলেন, ‘এ শহরেই (নারায়ণগঞ্জ) আমি থাকতে চাই, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। আমি আগেই বলেছি, আমার জীবন উৎসর্গ করা এই নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য। তারা যেমন আমার সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়িয়েছে, আমিও নারায়ণগঞ্জবাসীর পাশে সবসময় থাকতে চাই। ন্যায়-অন্যায়— যেকোনো সময়েই হোক, যেকোনো কাজে আমি তাঁদের পাশে আছি।’

আইভী আরও বলেন, ‘অনেকে আমার কনফিডেন্স দেখে ভেবেছে যে আমি ওভার কনফিডেন্স দেখাচ্ছি। আসলে তা ছিল না। নেতাকর্মীদের জন্য কনফিডেন্স তো থাকতেই হবে। নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য তো দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি, ছোটবেলা থেকেই দেখে এসেছি, আব্বাও কাজ করেছেন। তাই আমি জানতাম, তারা কখনও আমাকে বিমুখ করবে না। আর আমি এমন কিছু করিনি যে, তাঁরা আমার কাছ থেকে দূরে সরে যাবে।’

নবনির্বাচিত মেয়র আইভী বলেন, ‘সুন্দর একটা ভোট হয়েছে, এজন্য নির্বাচন কমিশনকেও ধন্যবাদ দিতে চাই। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আজ অনেক তৎপর ছিল। তারা এতো বেশি অ্যাকটিভ ছিল যে, এর ফলে কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এখনও তারা কাজ করে যাচ্ছে। এ জন্য আমি কৃতজ্ঞতা ছাড়া আর কী জানাতে পারি। আমি ঋণী থাকলাম আপনাদের কাছে। আপনারাও আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন যে প্রত্যাশা নিয়ে জনগণ আমাকে ভোট দিয়েছে, যে প্রত্যাশা নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকা তুলে দিয়েছিলেন, আমি যেন সে প্রত্যাশা অনুযায়ী ইমানের সঙ্গে সেই কাজগুলো করতে পারি।’

২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ ও কদমরসুল পৌরসভাকে এক করে নারায়ণগঞ্জকে দেশের সপ্তম সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা হয়। ওই বছরেই শামীম ওসমানকে হারিয়ে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী এক লাখ ৮০ হাজার ৪৮ ভোট পেয়ে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামীম ওসমান পান ৭৮ হাজার ৭০৫ ভোট। ওই ভোটের শেষ মুহূর্তে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার কেন্দ্রের নির্দেশে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে আইভী এক লাখ ৭৪ হাজার ৬০২ ভোট পেয়ে আবার মেয়র নির্বাচিত হন। সেবার তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খান। এবার বিজয়ের মধ্য দিয়ে আইভী তৃতীয়বারের মতো নারায়ণগঞ্জের মেয়র নির্বাচিত হলেন।

Previous post নৃত্যশিল্পী পণ্ডিত বিরজু মহারাজ আর নেই
Next post আইভীর কাছে হেরে তৈমূর বললেন ‘ইভিএম চুরির বাক্স’
Close