করোনাভাইরাসের সবচেয়ে সংক্রামক ধরনের স্বীকৃতি পাওয়া ওমিক্রনের প্রাদুর্ভাবে ব্যাপক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার দেশটিতে করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ, যা মহামারির গত দুই বছরের ইতিহাসে একদিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণের রেকর্ড।

অবশ্য এর আগের রেকর্ডটিও যুক্তরাষ্ট্রেরই ছিল। ২০২১ সালের ৭ মে দেশটিতে করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছিলেন ৪ লাখ ১৪ হাজার মানুষ। সোমবারের আগ পর্যন্ত এটি ছিল করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণের রেকর্ড।

আগের রেকর্ডের জন্য দায়ী ছিল করোনার অতি সংক্রামক ধরন ডেল্টা, আর এবার সর্বোচ্চ দৈনিক সংক্রমণ ঘটল ওমিক্রনের কারণে, যেটি মূল করোনাভাইরাসের চেয়ে ৭০ গুণ বেশি সংক্রামক। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান করোনা পরিস্থিতির নাম দিয়েছে ‘ওমিক্রন সুনামি’।

২০২০ সালে মাহামারির শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্ত-মৃত্যুর হিসেবে বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে আছে যুক্তরাষ্ট্র। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৫ কোটি ৭১ লাখ ৩১ হাজার ১৮৭ জন এবং এ রোগে মৃত্যু হয়েছে মোট ৮ লাখ ৪৮ হাজার ৮৮৫ জনের।

তবে দেশটির জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও মহামারিবিদদের ধারণা, মোট আক্রান্তের সংখ্যা আরও অনেক বেশি। কারণ যারা বাড়িতে করোনা টেস্ট করিয়েছেন, তাদের তথ্য সরকারি রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ অনলাইন জানিয়েছে, চলতি বছরের মাঝামাঝি ডেল্টার প্রাদুর্ভাবের সময়ে হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত রোগীর চাপে যে দুরবস্থা দেখা গিয়েছিল, এখনও তেমন বিপর্যয় দেখা যাচ্ছে না; অর্থাৎ প্রতিদিন যে পরিমাণ রোগী আক্রান্ত হচ্ছেন, সেই তুলনায় হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হওয়া রোগীর হার কম।

তবে তারপরও যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর চাপ, সেই সঙ্গে দেশজুড়ে বাড়ছে হোম আইসোলেশনে থাকা রোগীর সংখ্যা।

মানুষের দৈনন্দিন জীবনও চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অফিস ইতোমধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, প্রতিদিন বাতিল হচ্ছে শত শত অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট এবং প্রায় শ্বাসরোধ হওয়া রোগীর মত ধুঁকছে দেশটির খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর সরবরাহ ব্যবস্থা।