সুমন বড়ুয়া

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে যাঁরা অংশ নিয়েছিলেন সেইসব মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সন্মান জানিয়ে আমেরিকায় লিটল বাংলাদেশে বাংলার বিজয় বহরের উদ্যোগে সাড়ম্বরে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে।

গত ১৯ ডিসেম্বর থার্ড স্ট্রীস্ট এবং ৩০০ সাউথ অ্যালেকজানড্রিয়াতে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের ‘বিস্ময় বালক’খ্যাতি সুবর্ণ আইজ্যাক বারী। অনুষ্ঠানকে ঘিরে আশেপাশের সড়কে বসে আকর্ষণীয় বিজয় মেলা। মেলায় খাবারের দোকানসহ পোশাক ও নানান রকমের প্রসাধনী দ্রব্যের সমাহার ছিল চোখে পড়ার মতন।

বাংলার বিজয় বহর আয়োজিত এই বিজয় উৎসবে বাঙালিদের পাশাপাশি আমেরিকানরাও অংশ গ্রহণ করেন। বিশেষ করে উপস্থিত ছিলেন- সেনেটর, কংগ্রেসম্যান, প্যারীস সিটির মাননীয় মেয়র মাইকেল এম ভার্গাস, লস এঞ্জেলস সিটির প্রতিনিধি, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সহযোদ্ধা ডাঃ উইলিয়াম ফিঙ্কেল। অনুষ্ঠানে লস এঞ্জেলস এবং প্যারিস সিটির পক্ষ থেকে সুবর্ণ আইজাক বারীকে লিটল বাংলাদেশের অনারেবল মেয়র হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এছাড়াও বিশেষ সন্মানার্থে লস এঞ্জেলস সিটির চাবি সুবর্ণের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

বিজয় দিবসের মূল আকর্ষণ ছিল একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধাদের সন্মানা প্রদান। এসময় বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ শহীদের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা এবং সন্মান জানানো হয়। এছাড়াও সদ্য প্রয়াত ভারতীয় মিত্র বাহিনীর সদস্য ঘনসেন সেজারকে অনুষ্ঠানে স্মারণ করা হয়।

সকালে উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানের পর শুরু হয় দীর্ঘ মোটর শোভাযাত্রা। মোটর শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিজয় মঞ্চে এসে শেষ হয়।

বেলা সাড়ে ৩টায় শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। লস এঞ্জেলসের খ্যাতনামা শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যাঁরা অংশ নিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে সুলতানা কামাল মিতালী, শাইব কুতুবী, সাঈদ আলম হিমু, ওমর ফারুক, উর্মী আতাহার, উপমা সাহা, সাথী বড়ুয়া, লুনা রহমান, ঝুমা বাশার, তামান্না সাঈদ এবং শুভ্রা ব্যানার্জীর নাট্যদল।

অনুষ্ঠানে জেসমিন খান ফাউন্ডেশন এবার ৫ জন গুণীজনকে পুরুস্কার প্রদান করেন। পুরুস্কার প্রাপ্তরা হলেন- বিজ্ঞানে সুবর্ণ আইজাক বারী, সমাজ সেবায় মুজিব সিদ্দিকী, সাংবাদিকতায় কাজী মশহুরুল হুদা, সাংস্কৃতিতে মিঠুন চৌধুরী, শহীদুল্লাহ খান (মরণোত্তর)।

সমগ্র অনুষ্ঠান উপস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন মিঠুন চৌধুরী এবং সাজিয়া হক মিমি।