কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং ভারতীয় হাইকমিশন যৌথভাবে ৫০তম বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী দিবস উদযাপন করেছে। মঙ্গলবার কুয়ালালামপুরের স্থানীয় হোটেলে উভয় দেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এছাড়া কেক কাটা, উভয় দেশের হাইকমিশনারের বক্তব্য প্রদান এবং বাংলাদেশ ও ভারতের শিল্পীদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়া সরকারের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক স্পেশ্যাল এনভয় তান শ্রী ভিগনেস্মরণ এবং মানব সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি মিনিস্টার হাজী আওয়ান বিন হাশিম, সংসদ সদস্য টেরেসা কোক, কূটনীতিক, সরকারি কর্মকর্তা, মিডিয়া, ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এবং বাংলাদেশ ও ভারতের প্রবাসী নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে উভয় দেশের বন্ধুত্বের উপর নির্মিত ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। আরও ছিল মৈত্রী দিবসের স্মারক উপহার।

বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. গোলাম সারোয়ার অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানে জন্ম শতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তির মুহূর্তে এই ৫০তম মৈত্রী দিবস উদযাপন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যা দুই দেশের সম্পর্কে নবমাত্রা ও নবোদ্যম যোগ করেছে।
তিনি বলেন, শুধু স্বাধীনতা যুদ্ধে নয়, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি স্থাপনে এবং সার্বিক উন্নয়নে উভয় দেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় আমরা বন্ধু ভারতকে স্মরণ করছি। এ ধরনের সুন্দর বন্ধুত্ব সবসময় অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ভারতীয় হাইকমিশনার বি এন রেড্ডি তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা থেকে শুরু করে আজ অবধি ভারত বাংলাদেশের জনগণের সাথে রয়েছে। ভারত বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় অন্যতম বাণিজ্য, উন্নয়ন ও শান্তির সহযোগী। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান উন্নতিতে অবদান রাখতে পেরে ভারত গর্বিত।

তিনি বলেন, বর্তমানে উভয় দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সোনালী অধ্যায় রচিত হয়েছে। উভয়ে বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ৫০ বছরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অর্থনীতি, অবকাঠামো, যোগাযোগ, সংস্কৃতি, নিরাপত্তা, বাণিজ্য, অ্যানার্জি, শিক্ষা, ব্লু ইকোনমি এবং ইনোভেশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার হয়েছে।

Previous post জীবনের ১১৪তম আন্তর্জাতিক ম্যারাথনে বাংলাদেশি শিব শংকর
Next post মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আন্তর্জাতিক সেমিনার
Close