করোনায় সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৮০ হাজার শ্রমিক নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইতালি। সম্প্রতি দেশটির বেশকয়েকটি গণমাধ্যমে এমন তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

এসব পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনার পরে ইতালির অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা ও অবৈধপথে দেশটিতে প্রবেশ বন্ধ করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৮০ হাজার স্থায়ী ও অস্থায়ী বিদেশি শ্রমিক নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

তবে বিষয়টি এখনো দেশটির মন্ত্রিপরিষদে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি মাসে অর্থাৎ বড়দিনের আগেই এ বিষয়ে দেশটির মন্ত্রিপরিষদ চূড়ান্ত অনুমোদন দিবে।

এ বিষয়ে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুসিয়ানা লামরজেসে ইতালির গণমাধ্যমে বলেন, ‘আমরা অবৈধপথে ইতালিতে প্রবেশ বন্ধ করতে নতুন করে বিভিন্ন দেশ থেক ৮০ হাজার কর্মী নিতে কাজ শুরু করছি। খুব শিগগিরই আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবো।

এছাড়া এ তালিকায় বাংলাদেশ থাকবে কিনা এ বিষয়ে ইতালির কোন গণমাধ্যম স্পষ্ট করে কিছু না বললেও রোমস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস বলছে তালিকায় বাংলাদেশের থাকার কথা।

দূতাবাসের কাউন্সিলর এরফানুল হক (শ্রম) বলেন, ‘এ বছরের জুলাইতে ইতালির মন্ত্রিপরিষদের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। সেসময় তারা আমাদের বলেছে পরবর্তীতে বাংলাদেশ থেকে বৈধপথে শ্রমিক নিতে ইচ্ছুক তারা। তবে এখুনি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বাংলাদেশের নাম।’

সম্প্রতি বাংলাদেশের সঙ্গে ইতালির স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসেডিউর ফর রিটার্ন অব ইরেগুলার বাংলাদেশি ন্যাশনাল লিভিং ইন ইউরোপ (এসওপিওঁ) চুক্তি অনুযায়ী ‘দেশটিতে বসবাসরত অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত নিতে ইতালি সরকারের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে, সেই চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ কাজ করলে দেশটির সঙ্গে শ্রমবাজার চালু রাখবে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ৮ বছর পর গত বছর বাংলাদেশকে কালোতালিকা থেকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশ থেকে বৈধপথে শ্রমিক নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল ইতালি। তবে করোনা ও বিভিন্ন কারণে সীমিতসংখ্যক বাংলাদেশি ইতালিতে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছিলেন।