ভারতের বিমান বাহিনীর পাইলট অভিনন্দন বর্তমান দেশটির তৃতীয় সর্বোচ্চ সামরিক পদক ‘বীর চক্র’-এ ভূষিত হয়েছেন। যুদ্ধক্ষেত্রে সাহসিকতার জন্য এই পদকটি দেওয়া হয়। এই ক্যাটাগরির দ্বিতীয় পদক হলো ‘মহাবীর চক্র’ ও প্রথমটি হলো ‘পরমবীর চক্র’।

সোমবার নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে দেশটির রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ অভিনন্দনের হাতে পদকটি তুলে দেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং উপস্থিত ছিলেন। খবর হিন্দুস্তান টাইমস।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে অভিনন্দনকে উইং কমান্ডার থেকে গ্রুপ ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন সেনাবাহিনীর কর্নেলের সম মর্যাদার।

১৯৯৯ সালে কারগিল যুদ্ধে সাহসিকতার জন্য স্কোয়াড্রন লিডার অজয় আহুজা এবং উইং কমান্ডার একে সিনহার পর অভিনন্দনই প্রথম ভারতীয় বিমান বাহিনী সদস্য যিনি বীর চক্র পদকে ভূষিত হলেন। আহুজা পদকটি মরণোত্তর পেয়েছিলেন।

পদক অনুষ্ঠানে অভিনন্দনের প্রশংসা করে বলা হয়, ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কথা না ভেবে উইং কমান্ডার অভিনন্দন শত্রুপক্ষ মোকাবিলায় দুঃসাহসের পরিচয় দিয়েছেন এবং দায়িত্ব পালনের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এছাড়া বলা হয়, ওইদিন অভিনন্দন আমেরিকায় তৈরি পাকিস্তানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমানকে গুলি করে মাটিতে নামিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতনিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় দেশটির আধা সামরিক বাহিনীর গাড়িবহরে আত্মঘাতী হামলায় ৪০ জনেরও বেশি নিহত হয়। ওই ঘটনার দায় স্বীকার করে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মুহাম্মদ। তবে পাকিস্তান সরকার ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছিল।

পুলওয়ামা হামলার জবাব দিতে ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোরে পাকিস্তানের ভেতরে বিমান হামলা চালায় ভারত। সেখানে ভারতীয় বিমান বাহিনীর অভিযানে ৩০০ জঙ্গি নিহত হয় বলে দাবি করে ভারত। তবে পাকিস্তান ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিল।

দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যে ২৭ ফেব্রুয়ারি ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের একটি এবং পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ভারতের দুটি বিমান ভূপাতিত করার দাবি করা হয়েছিল। এরপর প্রথমে ভারতের দুইজন পাইলট এবং তার কয়েক ঘণ্টা পর এক পাইলটকে আটকের কথা জানায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী। পরে এক ভিডিওতে পাইলট অভিনন্দনকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা যায়। যদিও পরের আরেক ভিডিওতে তাকে স্বাভাবিক অবস্থায় চা পান করতে দেখা যায়। তখন ওই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার হয়।

পরে ওই বছরের ১ মার্চ অভিনন্দনকে মুক্তি দেয় পাকিস্তান। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান দেশটির সংসদে ঘোষণা দেন, ‘শান্তির নিদর্শন’ হিসেবে ভারতীয় পাইলট অভিনন্দনকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।