সম্প্রতি নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘পরিচয়’ পত্রিকায় নিউ ইয়র্কের সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা একটি মামলার বরাত দিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী ও মুক্তধারা প্রকাশনা সংস্থার স্বত্বাধিকারী বিশ্বজিত সাহা জনৈকা ফারহানা আখতারকে মার্কিন ভিসা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে মোট ৬০,০০০ ডলার আগাম নিয়েছেন। উল্লেখযোগ্য, ইসমত জাহান নামে একজন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধেও মামলাটি দায়ের করা হয়। সাপ্তাহিক ‘পরিচয়’ পত্রিকায় প্রকাশের পর সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকায়, হক কথায় ও নবযুগ পত্রিকায় ‘পরিচয়ে’র বরাত দিয়ে খবরটি প্রকাশিত হয়। পরে ‘উই দি পিপল’ নামের একটি ওয়েব সাইটেও একই সূত্রের বরাত দিয়েও প্রকাশিত হয় খবরটি।

আমরা দ্বর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, এই অভিযোগ সর্বৈব মিথ্যা। মুক্তধারা ফাউন্ডেশন ও বিশ্বজিত সাহাকে জনসমক্ষে হেনস্থা করার উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও বানোয়াট অভিযোগ এনে নিউ ইয়র্কের সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে মামলার বাদী ফারহানা আখতারের নাম থাকলেও তার কোন ঠিকানা বা স্বাক্ষর নেই। এই নামের কোন ব্যক্তিকে খোঁজ করেও আমরা সন্ধান পাইনি। আমাদের বিশ্বাস, মুক্তধারা ফাঊন্ডেশন ও বিশ্বজিত সাহার বিরুদ্ধে দুর্নাম ছড়ানো ও হেনস্থার জন্যই এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বাদী ফারহানা আখতার মার্কিন ভিসা পাওয়ার বিনিময়ে মোট ৬০,০০০ মার্কিন ডলার নগদ বিশ্বজিত সাহার কাছে হস্তান্তর করেন। বিশ্বজিত সাহা অথবা মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের কোন নির্বাহী এই ফারহানা আখতারকে চেনেন না। এই বানোয়াট নাম ব্যবহার করে কোন ব্যক্তি বা সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী এক ভয়ানক খেলায় লিপ্ত হয়েছে। আমরা এই তৎপরতার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি।

আরো লক্ষ্যণীয়, মামলার অভিযোগনামায় জনৈকা ইসমত আরা জাহানের নাম সহ-ষড়যন্ত্রকারী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কে এই ইসমত আরা তা বিশ্বজিত সাহা অথবা মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের কোন নির্বাহী জানেন না। প্রকাশনা সংস্থা ও পুস্তক বিক্রয় কেন্দ্র মুক্তধারার একমাত্র স্বত্বাধিকারী বিশ্বজিত সাহা। মুক্তধারা ফাউন্ডেশন নিউ ইয়র্ক স্টেটে তালিকাভুক্ত একটি অলাভজনক সংস্থা। ইসমত আরা নামে কোন ব্যক্তি কখনোই এই সংস্থার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না বা এই নামের কোন ব্যক্তির কথা আমরা জানি না।

মুক্তধারা ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রসারে নিরলস চেষ্টায় নিয়োজিত। এই চেষ্টার অংশ হিসাবে এই সংগঠন প্রতি বছর নিউ ইয়র্কে একটি বাংলা বইমেলার আয়োজন করে থাকে। অতি সম্প্রতি এই বইমেলার ৩০-তম অনুষ্ঠান সুচারুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ ও পশ্চিম বাংলার বাইরে বাংলা বইয়ের এত বৃহৎ ও দীর্ঘস্থায়ী মেলা আর নেই। অভিবাসী বাঙালিদের মধ্যে এই মেলার গুরুত্ব বিবেচনায় এনে বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সকল রকম সহযোগিতার অঙ্গীকার করেছে। এ বছরেও মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধিদল বইমেলায় অংশগ্রহণ করে। আমাদের অনুমান, বইমেলার সাফল্যে ঈর্ষান্বিত একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে এই অভিযোগ উত্থাপন করেছে।

লক্ষ্যণীয়, ‘উই দি পিপল’ ওয়েব পত্রিকা মামলায় দায়েরকৃত তথ্যের বাইরে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনায় লিপ্ত হয়। এই পত্রিকা অনুসারে, ‘ফারহানা আখতার ও তার স্বজনেরা (প্রতারণার) অসহায় শিকার বা ভিকটিম, যাদের বাংলাদেশে সুবিচার পাওয়ার কোন সুযোগ নেই, কারণ বাংলাদেশে কোন বিচার ব্যবস্থা বা প্রক্রিয়া নেই। বাংলাদেশ এমন একটা দেশ যেখানে আইনহীনতাই আইনে পরিণত হয়েছে, যেখানে সত্যের ওপর মিথ্যার স্থান এবং একনায়ক সরকার প্রধানের কথাই আদালতের রায় হিসাবে বিবেচিত হয়।’ উল্লেখযোগ্য, সাপ্তাহিক ‘পরিচয়’ তার প্রতিবেদনের কোথাও বাংলাদেশ সরকার বা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এই জাতীয় কোন অভিযোগ উল্লেখ করেনি।

আমরা তথ্যমাধ্যমের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জানাতে চাই, মুক্তধারার বিরুদ্ধে এই জাতীয় জঘন্য মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্র বিনা চ্যালেঞ্জে প্রতিষ্ঠা পেতে আমরা দেব না। আমরা ইতিমধ্যে পাল্টা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। এই অভিযোগ শুধু আমাদের বিরুদ্ধে নয়, বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধেও। এই চক্রান্ত উন্মোচনে আপনাদের সহযোগিতা আমাদের একান্ত কাম্য।

মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের পক্ষে বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীগণ
জামাল উদ্দীন হোসেন, ড. নূরন নবী, রোকেয়া হায়দার, ড. জিয়াউদ্দীন আহমেদ, গোলাম ফারুক ভুঁইয়া, ফেরদৌস সাজেদীন, নাসিমুন ওয়াহেদ (নিনি), হাসান ফেরদৌস, ড. নজরুল ইসলাম, বিশ্বজিত সাহা, ফাহীম রেজা নূর, তানভীর রাব্বানী, আদনান সৈয়দ, রানু ফেরদৌস, সউদ চৌধুরী, ড. জীনাত নবী, ড. ফাতেমা আহমেদ, আহমাদ মাযহার, নসরত শাহ, জাকিয়া ফাহীম, সাবিনা হাই উর্বি, ওবায়দুল্লাহ মামুন, ইউসুফ রেজা, হারুন আলী, শুভ রায়, মুরাদ আকাশ ও সেমন্তী ওয়াহেদ।