প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন)। আজ সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহীতে নিজ বাসায় বার্ধক্যজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

নাট্যজন অধ্যাপক মলয় ভৌমিক ও রাবি শিক্ষক অধ্যাপক শাহ আজম শান্তনু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অধ্যাপক শাহ আজম শান্তনু বলেন, ‘স্যারের ছেলে ফোন করে খবরটি জানালো। আমি স্যারের বাসায় যাচ্ছি।’

বরেণ্য এই লেখক দীর্ঘদিন ধরে হৃদযন্ত্রের সমস্যার বাইরেও ফুসফুসে সংক্রমণ, ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতাসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। সর্বশেষ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ২১ আগস্ট এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে রাজশাহী থেকে তাকে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে বেশ কিছুদিন চিকিৎসার পর গত ৯ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর থেকে নিজ বাড়িতেই তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।

তার মৃত্যুতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম সাব্বির সাত্তার তাপু, সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশাসহ শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ শোক প্রকাশ করেছেন। তারা মহান এই লেখকের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

হাসান আজিজুল হকের জন্ম ১৯৩৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার যবগ্রামে। জীবনের বেশিরভাগ সময় তার রাজশাহীতে কেটেছে। ১৯৭৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন হাসান আজিজুল হক। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৪ সাল পর্যন্ত একনাগাড়ে ৩১ বছর অধ্যাপনা করেন। এরপর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে নগরের চৌদ্দপায় এলাকার আবাসিক এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন এই কথাসাহিত্যিক।

সাহিত্যে অবদানের জন্য হাসান আজিজুল হক ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান। এছাড়া ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদকে এবং ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে।