সংসারে আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরাতে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করেছিল এক কিশোরী। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের পরই ওই কিশোরী পালাক্রমে ধর্ষণের শিকার হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় ও পুলিশের হস্তক্ষেপে গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের।

শনিবার দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে বাগদা থানার পুলিশ। এদিনই তাদের বনগাঁ মহকুমা আদালতে তোলা হয়। অন্যদিকে প্রশাসনের তরফে কিশোরীকে হোমে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, কাজের সন্ধানে বাংলাদেশের শরীয়তপুরের পুটিয়াকান্দি গ্রামের ১৭ বছরের এক কিশোরী বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসে। অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সে ওঠে বাগদার হরিহরপুর নামক এলাকায়।
জানা গেছে, হরিহরপুরের বাসিন্দা শরিফুল মলি­কের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার সঙ্গেই চোরাপথে ভারতে আসে ওই বাংলাদেশি কিশোরী। এরপর শরিফুলের বাড়িতেই অবস্থান করতে থাকে। শরিফুল তাকে আশ্বাসও দেয় কয়েকদিনের মধ্যেই তাকে কোনো ভালো কাজ পাইয়ে দেওয়ার। কিন্তু এরই মধ্যে বাড়ি থেকে কিশোরীকে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে শরিফুল তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। তবে কেবল শরিফুলই নয়, ওই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তারই সহযোগী ২৮ বছর বয়সী মহসিন বিশ্বাসের বিরুদ্ধেও।

গত ১৪ অক্টোবর কিশোরীর মুখ থেকেই ওই গ্রামের বাসিন্দারা বিষয়টি জানতে পারেন। এরপরই খবর দেওয়া হয় বাগদা থানাতেও। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে কিশোরীও। তার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ শরিফুল ও মহসিন নামে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ‘প্রোটেকশন অব চিলড্রেন ফ্রম সেক্সুয়াল অফেন্সেস’ (পকসো) আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার তাদের বনগাঁ মহকুমা আদালতে পাঠানো হলে, আদালত ৪ দিনের পুলিশি রিমান্ডের নির্দেশ দেন। অন্যদিকে কিশোরীকে হোমে পাঠানোর ব্যবস্থা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিই দীর্ঘদিন দিন ধরে এমন কাজে লিপ্ত। দরিদ্রতার সুযোাগ নিয়ে কাজের লোভ দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচার করে দিত নারীদের। এই দুই যুবকের প্রকৃত পরিচয় এবং ওই পাচারচক্রের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।