ভারতসহ পশ্চিমা বিশ্ব চায় না বিএনপি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখুক। তাই ঘোষণা দিয়ে বিএনপিকে জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে এমন দাবি জানিয়েছে বিএনপি সমর্থক পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা।

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায়ে ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন পেতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পর্ক ছাড়তে হবে বিএনপিকে। এমন দাবি জানিয়ে বিএনপি সমর্থক পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা বলেছেন, ‘প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ পশ্চিমা বিশ্ব চায় না বিএনপি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখুক। তাই দেশে-বিদেশে বন্ধুপ্রতিম বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার সমর্থন পেতে ঘোষণা দিয়ে জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে।’

শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে এসব কথা জানিয়েছেন বৈঠক সূত্র।

এর আগে বিকেল সাড়ে তিনটায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে পেশাজীবী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সভার শুরুতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাবন্দী, গণতন্ত্রের যে সংকট, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এর থেকে উত্তরণে আপনাদের মতামত রাখার আহ্বান করেছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।’

এরপর পেশাজীবী নেতারা তাদের নিজ নিজ মতামত রাখেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, ‘পেশাজীবী নেতারা তাদের মতামত জানাতে গিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে গত দুইটি সংসদ নির্বাচনে জনগণ ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। এমনকি তাদের দলের নেতা কর্মীরাই ভোট দিতে যায় না। তাদের অধীনে নির্বাচন হলে ভবিষ্যতেও একই অবস্থা দাঁড়াবে। এ অবস্থায় নির্বাচনে জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে হলে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।’

সূত্র আরও জানায়, ‘পেশাজীবী নেতারা বলেছেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেবে না। তার চিকিৎসার সুযোগ দেবে না। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে, দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে আমাদের আন্দোলন সংগ্রামে যেতে হবে।’

সভায় বিএনপি সমর্থক সংগঠনগুলোর মধ্যে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন, আইনজীবী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, কৃষিবিদ, সাংস্কৃতিক, টেকনোলজিস্টতে অন্তত ২০টি পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। সভায় মির্জা ফখরুল ছাড়া রয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বেগম সেলিমা রহমান।

পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের মধ্যে অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, নিতাই রায় চৌধুরী, আহমেদ আজম খান, ফজলুর রহমান, ফরহাদ ডালিম ডোনার, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, মাসুদ তালুকদার, রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডা. শফিকুল হায়দার পারভেজ, প্রকৌশলী মাহবুল আলম, রিয়াজুল ইসলাম রিজু, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, শামীমুর রহমান শামীম, গাজী কামরুল ইসলাম সজল, অধ্যাপক গোলাম হাফিজ কেনেডি, খন্দকার মোহাম্মদ হজরত আলী, জাহানারা সিদ্দিকী, শেখ মনিরউদ্দিন, কামরুল হাসান সদ্দার, জহিরুল ইসলাম শাকিল, রোকেয়া চৌধুরী বেবি, পারভিন কাওসার মুন্নী, সুমনা আক্তার স্মৃতি, শাহনাজ আক্তারসহ মোট ১০২ জন উপস্থিত ছিলেন।

সভার শুরুতে শোকপ্রস্তাব উপস্থাপন করেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। পরিচালনা করেন প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। সহযোগিতা করেন তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রিয়াজুদ্দিন নসু, সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনীর হোসেন ও বেলাল আহমেদ। উপস্থিত রয়েছেন চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।

এর আগে প্রথম দফায় ১৪ থেকে ১৬ ও দ্বিতীয় দফায় ২১ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নেতাদের এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এরপর আরও দুই দফা কয়েকটি সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপি।