উৎসবের আমেজ আর প্রাণের স্পন্দনে সম্প্রীতির বন্ধন সুসংহত করার সংকল্পে নিউইয়র্কে ৫ সেপ্টেম্বর প্রবাসী বরিশাল বিভাগীয় কল্যাণ সমিতির বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৫ শতাধিক অতিথির অংশগ্রহণে সকাল ৯টায় নাশতা পরিবেশনের মাধ্যমে বনভোজনের কার্যক্রম শুরু হয়।

এরপর কমিটির সভাপতি মো. শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন নাসির, বনভোজন কমিটির আহবায়ক মোশারফ হোসেন সবুজ, সদস্য সচিব এ্যাডভোকেট রেজবুল কবির, উপদেষ্টামন্ডলী এবং কার্যকরী কমিটির সকল সদস্য নিয়ে সকাল সাড়ে ১০টায় বেলুন উড়িয়ে এ উৎসবের শুভ সূচনা ঘটান।
প্রথম পর্বে শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং পরে তরুণ-তরুণী-যুবদের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরিচালনায় ছিলেন মইনুদ্দিন বাচ্চু, ফারদিন রনি। এর মাঝে চলতে থাকে আল আমিনের স্পেশাল চা এবং নানান রকম ফলের আয়োজন। বেলা সোয়া ১২টায় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং অতিথিদের নিয়ে আশিক মাহমুদের সম্পাদনায় ও মাজহারুল ইসলাম মিরনের সহযোগিতায় প্রকাশিত ‘ধানসিঁড়ি’ ম্যাগাজিনের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

জোহর নামাজের বিরতি এবং দুপুরে মামা’স এর সুস্বাদু খাবার পরিবেশন করা হয় সকলের মাঝে। খাবার পরিবেশনের দায়িত্বে ছিলেন নুর আলম খান, একে আজাদ তালুকদার, তালেব মাতুব্বর, লিয়াকত খান ও রেজাউল করিম। চতুর্থ পর্বে শতাধিক মহিলার অংশগ্রহনে শুরু হয় মিউজিক্যাল পিলো গেম। মহিলাদের আর একটি চমৎকার খেলার আয়োজন করা হয়। সেটি ছিল ঝুড়িতে বল নিক্ষেপ। বিনোদনে পূর্ণ এ পর্বেও অনেকে অংশগ্রহণ করেন। এর সাথে চলতে থাকে ঝালমুড়ি ও স্পেশাল চায়ের পর্ব, যার ব্যবস্থাপনায় ছিলেন এস ইসলাম মামুন।

ছোট্টমনিদের ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’ অনুষ্ঠানটি ছিল খুবই উপভোগ্য ও জমজমাট। এতে ছোট্টমনিরা অনেক সুন্দর করে বাংলাদেশের কৃষ্টি এবং সংস্কৃতিকে তুলে ধরেছে। সঙ্গীত শিল্পী দিলরুবা খানের মেয়ে শিল্পি শিমুল খান ও ডা. সোহেল পারভেজের দেশী ভাটিয়ালি গানে সবাইকে মাতিয়ে রাখেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জেসমিন বেগম।
বনভোজন উদ্যাপন কমিটির পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারী প্রবাসী বরিশালবাসী এবং অতিথিবৃন্দকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও ধন্যবাদ জানানো হয় এবং সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। কারন সকলের সহযোগিতা এবং উপস্থিতিতে বনভোজনের আয়োজন স্বার্থক ও সুন্দর হয়েছে। বরিশাল বিভাগীয় কল্যাণ সমিতি ইউএস ইনক বনভোজন উপলক্ষে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও যারা সাহায্য সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে রফিকুল ইসলাম জিয়ার পরিচালনায় বিভিন্ন পর্বে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণী ও র‌্যাফেল ড্র এর মাধ্যমে বনভোজন উৎসবের সমাপ্তি করা হয়।