গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে বিভ্রান্তকর ও উল্টাপাল্টা কথা না বলতে অনুরোধ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মন্তব্যের সমালোচনা করে এই অনুরোধ জানিয়েছেন দলের মহাসচিব।

সোমবার দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ে তার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘জাফরুল্লাহ সাহেবের বয়স হয়ে গেছে। তিনি অত্যন্ত সম্মানিত লোক, জ্ঞানী-গুনি লোক। কিন্তু বয়স হয়ে গেলে মানুষ কিছু উল্টোপাল্টা কথা বলতেই পারেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদে তারেক রহমানকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তার মন্তব্যটা যুক্তিসংগত না। তিনি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন, কথা বলছেন। কিন্তু তিনি একবারও ভাবছেন না, এসব কথা বললে ফ্যাসিবাদীবিরোধী আন্দোলন কিছুটা ব্যাহত হবে।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীর ১০৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ভাসানী অনুসারী পরিষদ একটি সভার আয়োজন করে। সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদে তারেক রহমানকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বিএনপির গঠনতন্ত্র মেনে তারেক রহমানকে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।’

জাফরুল্লাহ চৌধুরীর এই বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘গঠনতন্ত্র অনুযায়ীই তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদে আছেন। তারেক রহমান আগেও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। দলের মধ্য থেকেই তিনি ধারাবাহিকভাবে এই পদে এসেছেন।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তারেক রহমান বিদেশে থেকেও সফলতার সঙ্গে জাতীয়তাবাদী দলকে সুসংগঠিত করছেন। তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিটি নেতাকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। এখানে নেতৃত্ব নিয়ে কোনো প্রশ্নই উঠতে পারে না। দল তার (তারেক রহমান) হাতে নেতৃত্ব দিয়েছে এবং তিনি অত্যন্ত কৃতিত্বের সঙ্গে, অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।’

ডা.জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আমি তাকে অনুরোধ জানাব, যে সমস্ত কথায় জনগণ বিভ্রান্ত হয় সেসব কথা যেন তিনি না বলেন। তারেক রহমানই হচ্ছে বিএনপির নেতা। তারেক রহমানই আমাদের সুসংগঠিত করছেন। পুরো দল তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গেছে।’

তারেক রহমানের নেতৃত্বে অচিরেই দল সুসংগঠিত হবে এবং একটা আন্দোলন সৃষ্টি করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করে বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন সময় চড়াই-উৎরাইয়ের মধ্য দিয়ে গেছে। যখন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ হলো তখন অনেকেই বলেছেন বিএনপি ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু বিএনপি ধ্বংস হয়নি। বিএনপি আবার খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আবার জেগে উঠেছে।’

ফখরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘গত ১২ বছর ধরে শুধু বিএনপি নয়, গোটা দেশে একটা বড় রাজনৈতিক সংকট-অস্তিত্বের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে বিএনপি একটা বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে সংকটের সামনে আছে। এ সময়ে আমাদের দলের বড় যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তা হলো দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে রাখা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশের বাইরে নির্বাসিত করা হয়েছে।’

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমিন, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. কায়েস প্রমুখ।