মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বমানের তৈরি পোশাক রপ্তানি বাংলাদেশ আরও বাড়াতে চায় বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। বলেছেন, ‘বাংলাদেশে তৈরি মানসম্মত পোশাক, এর মূল্য ও ডিজাইন বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হচ্ছে। এ কারণে রপ্তানিও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

স্থানীয় সময় বুধবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্যালিফোর্নিয়ার লাস ভেগাস কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘মেনস অ্যাপারেল গিল্ড ইন ক্যালিফোর্নিয়া’ শীর্ষক বাণিজ্য মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

টিপু মুনশি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার রপ্তনি বৃদ্ধি এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ বিশ্বের কাছে জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে সবধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, চলমান কোভিড পরিস্থিতিতে তৈরি পোশাকখাতের জন্য প্রনোদনা প্যাকেজের আওতায় আর্থিক সহযোগিতা প্রদান এবং এইখাতকে স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধির যে সুযোগ রয়েছে, সেটাকে আমরা কাজে লাগাতে চাই। এজন্য উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের তিনি এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ পোশাক রপ্তানি বাড়াতে এর গুণগত মান বৃদ্ধি, নতুন ডিজাইন এবং গ্রহকের পছন্দ বিবেচনায় নিয়ে কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের চাহিদা মোতাবেক সবধরনের ডাটা প্রস্তুত করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ২০১২ সালে অপ্রত্যাশিত রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে এবং টেকসই উন্নয়ন ঘটেছে। বিশ্বের তৈরি পোশাক শিল্পের বেশিরভাগ গ্রিন কারখানা এখন বাংলাদেশে। নিরাপদ ও কর্মবান্ধব পরিবেশে শ্রমিকরা কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশ সফর করে পোশাক কারখানা ও শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ দেখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের তৈরি পোশাকখাতের কাজের মান, উৎপাদন খরচ, শ্রমিকদের কমপ্লায়েন্স, কাজের পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসেবা এবং টেকসই উন্নয়নের বিষয়ে জানার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশেল সাথে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিরও আগ্রহ দেখান তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক সম্পর্কিত ডাটা, প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত, তৈরি পোশাক শিল্পের ইতিহাস চান। সেদেশের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক বাজারজাতকরণে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তারা।

এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সফররত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. হাফিজুর রহমান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক সোহেলী সাবরীন, এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, বিজিএমইএর ভাইস প্রেসিডেন্ট খন্দকার রফিকুল ইসলাম, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী বব বার্গ, ইনফর্মা এর কমার্সিয়াল প্রেসিন্টে কেলি হেল্পম্যান, মেলার ইভেন্ড ডিরেক্টর আনড্রেও ডেভিড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস এনজলসে বাংলাদেশ কনসাল জেনারেল অফিসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।