চীনের কুনমিংয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র শহিদ ক্যাপ্টেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামালের ৭২ তম জন্ম বার্ষিকী পালন করেছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল।

বৃহস্পতিবার কনসাল জেনারেল এ এফ এম আমিনুল ইসলাম কনস্যুলেটের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে কেক কেটে শহিদ ক্যাপ্টেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়।

এ উপলক্ষে শহিদ ক্যাপ্টেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামালের জীবন ও কর্মের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। শহীদ শেখ কামালের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে কনসাল জেনারেল বলেন, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে শেখ কামালের নেতৃত্ব ছিল প্রশংসনীয়। ৬-দফা, আগরতলা যড়যন্ত্র মামলা, ১১-দফা এবং অসহযোগ আন্দোলন থেকে শুরু করে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। তিনি ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান ও ৭১-এর মহান যুক্তিযুদ্ধে বীরোচিত ভূমিকা পালন করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে ছাত্রসমাজকে সংগঠিত করে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করেন। স্বাধীন বাংলাদেশের ক্রীড়া ও সংস্কৃতির উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতা উত্তর পরিস্থিতিতে তরুণ সমাজকে অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার উন্নয়ন ও নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে ফিরিয়ে আনতে তিনি আবাহনী ক্রীড়াচক্র প্রতিষ্ঠা করেন। শেখ কামাল সাধারণ জীবনযাপন করতেন। অর্থ-বিত্ত ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতি তার কোনো আকর্ষণ ছিল না। তিনি ছাত্রলীগ করতেন কিন্তু কোনোদিন নেতৃত্বের আসনে বসেননি। তিনি ছিলেন দারুণ স্মার্ট, বিনয়ী এবং আদব-কায়দা সম্পন্ন একজন আদর্শ তরুণ।
সবশেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা শহীদ মেগম ফজিলাতুননেছা মুজিব, শহীদ শেখ কামাল, শহীদ শেখ জামাল, শহীদ শেখ রাসেলসহ বঙ্গবন্ধুর পরিবারের অন্যান্য শহীদ সদস্য ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এবং দেশের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।