বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, ‘সরকারের উদাসীনতা, ব্যর্থতা ও ভ্রান্ত-নীতির কারণে দেশে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। টিকা, চিকিৎসা না পেয়ে মানুষ অকাতরে মৃত্যুবরণ করছে।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘সরকারের অপরিকল্পিত লকডাউনে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে। খাদ্য ও অর্থ কষ্টে মানুষ অর্ধাহার-অনাহারে দিনযাপন করছে। নিদারুণ কষ্টে মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে।’

এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে অনৈতিক সরকার বিরামহীন গতিতে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও কাল্পনিক কাহিনি তৈরি করে মামলা দায়ের এবং গ্রেপ্তার করে কারাগারে নিক্ষেপ করছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপিনেতা।

রোববার বিএনপির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলেন দলের মহাসচিব।

সরকার এখন আরও ভয়াবহ হিংস্র হয়ে উঠেছে- এমন মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে আওয়ামী সরকার দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন দীর্ঘস্থায়ী করতে করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতার মধ্যেও বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তার করে কারান্তরীণ করতে এখন আরও হিংস্র হয়ে উঠেছে।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘নিষ্ঠুর দমননীতি ও মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে পদদলিত করে বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা যেন স্বেচ্ছাচারী সরকারের রুটিন ওয়ার্কে পরিণত হয়েছে।’

জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি জামাল হোসাইন তালুকদারকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানান মির্জা ফকরুল। তিনি বলেন, এ ঘটনা নেতাকর্মীদের ওপর বর্তমান অবৈধ সরকারের চলমান নির্যাতনেরই ধারাবাহিকতা। সরকার মানুষের মর্যাদা, মানবতা ও নাগরিক স্বাধীনতাকে পদদলিত করছে শুধু একদলীয় কর্তৃত্ব চিরস্থায়ী করার জন্যই। তবে ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের বিজয় হবেই।

বিএনপির মহাসচিব অবিলম্বে জামাল হোসাইন তালুকদারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।