করোনার কারণে গত বছর আমেরিকানদের গড় আয়ু কমেছে দেড় বছর। ২০১৯ সালে গড় আয়ু ছিল ৭৮ বছর ১০ মাস। গতবছর তা কমে ৭৭ বছর ৪ মাস হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর একক কোন বছরে এটি সর্বোচ্চ আয়ু হ্রাস।

সিডিসি (সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এ্যান্ড প্রিভেনশন) উদ্বেগজনক এ তথ্য প্রকাশকালে বুধবার আরও বলেছে, বহুদিন থেকে আমেরিকানদের গড় আয়ু বাড়ছিল। চিকিৎসা ব্যবস্থায় যুগান্তকারি উন্নয়নের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি পাবার সুফল হিসেবে আমেরিকাদের গড় আয়ু বৃদ্ধির লাগাতার এই প্রবণতাকে বাধাগ্রস্ত করলো করোনা মহামারি।

সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর করোনাসহ নানা কারণে ৩৩ লাখ আমেরিকানের মৃত্যু হয়। এরমধ্যে ১১% ছিলেন করোনায় আক্রান্ত। সিডিসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, স্মরণকালের আর কোন বছরেই এতবেশী আমেরিকানের প্রাণ ঝরেনি। এর ফলে সামগ্রিকভাবে ৭৪% আমেরিকানের আয়ু কমেছে। মৃত্যুবরণকারিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী কৃষ্ণাঙ্গ এবং ল্যাটিনো আমেরিকান ছিলেন বলেও সিডিসি উল্লেখ করেছে। শ্বেতাঙ্গ আমেরিকানদের সবচেয়ে বেশি প্রাণ গেছে অত্যধিক মাদক সেবনের জন্যে। গৃহদাঙ্গায় মৃত্যুর ঘটনা বেশি ঘটেছে আফ্রিকান আমেরিকান পরিবারে।

এদিকে, ডেল্টার প্রকোপ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে মাস্ক ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা পুনরায় চালুর কথা ভাবছেন স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা। যেসব এলাকার মানুষ টিকা নেননি বা নিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন, সে সব এলাকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে ডেল্টার সংক্রমণ। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর ৯৭% টিকা নেয়নি বলে সিডিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। আর যারা মারা গেছে তাদের মধ্যে ৯৯% টিকা নেয়নি। এহেন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে টিকা নিতে অনীহা প্রকাশকারিরাও এখন তা গ্রহণের আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে সিডিসি বলেছে। ‘এটি অত্যন্ত আশার খবর যে সব মানুষের বোধোদয় ঘটেছে করোনার টিকা গ্রহণে’-মন্তব্য সিডিসির। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও সকলের প্রতি উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন টিকা গ্রহণের জন্যে। টিকা নিলে হাসপাতালে ভর্তি হবার প্রয়োজন নেই বলেও তিনি সার্বিক বিশ্লেষণের উদ্ধৃতি দিয়েছেন।

এদিকে, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ১২ জুলাই পর্যন্ত ১৫ কোটি ৯০ লাখ আমেরিকান পূর্ণ ডোজের টিকা নিয়েছেন। এরমধ্যে মাত্র ৫৪৯২ জন পুনরায় সংক্রমিত হবার পর মারা গেছে ১০৬৩ জন। টিকা গ্রহণকারির মধ্যে মৃত্যুর এই হার ০.০০০৭%।