চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণে পৃথিবীর হাল হকিকত ভালো নেই। পূর্ব এশিয়া থেকে শুরু হয়ে সারা বিশ্বে ভাইরাসটির সংক্রমণে লাখ লাখ লোকের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে কয়েক কোটি মানুষ। কয়েকটি দেশে কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ শেষ হয়ে তৃতীয়টির সম্মুখীন। কোনোটিতে আবার তৃতীয় ঢেউ চলমান। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারত করোনার প্রথম ঢেউ মোকাবিলা করতে পারলেও দ্বিতীয়টিতে নাকাল হয়ে পড়ে। এমনও দিন গেছে, দেশটিতে প্রায় পাঁচ হাজারে লোকের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের শনাক্তও ছিল দৈনিক প্রায় তিন লাখের মতো। ধীরে ধীরে দেশটিতে আক্রান্ত ও মৃত্যু কমে আসতে শুরু করে। তবে, এখনও বিপদের বাইরে নয় দেশটির অবস্থান। ১৩৯ কোটি মানুষের দেশটিতে করোনার তৃতীয় ঢেউ ‘অনিবার্য’ বলে বার্তা দিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠন ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ)। এ পরিস্থিতিতে নাগরিকদের সাবধান হতে বলল সংগঠনটি।

গবেষক-চিকিৎসকদের দাবির সমর্থনে গতকাল সোমবার এ বার্তা দেয় আইএমএ। এক প্রেস বিবৃতির মাধ্যমে সংগঠনটি বলেছে, গোটা বিশ্বের পরিস্থিতি এবং মহামারির ইতিহাস ঘাঁটলেই দেখা যাবে, কোভিডের তৃতীয় ঢেউ অনিবার্য। কেউ তা আটকাতে পারবে না। এই পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এমন ছবি উঠে এসেছে, যাতে দেখা যাচ্ছে, কোভিড বিধি না মেনেই রাস্তাঘাটে বেরিয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। সে ব্যাপারে কোনোরকম সরকারি পদক্ষেপ নেই।

ভারতে করোনাবিধি শিথিল হতেই একাধিক পর্যটনস্থলে পর্যটকদের মধ্যে বেপরোয়া মনোভাব দেখা গেছে। সেই বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইএমএ। সংগঠনটি তাদের বিবৃতিতে আরও বলেছে , দেশে ঘুরতে যাওয়া, তীর্থযাত্রা, ধর্মীয় সমাবেশ জরুরি। তবে, এসবের জন্য আরও কয়েকটি মাস অপেক্ষা করাই যায়। এখন এসব বন্ধ করুন। টিকাকরণ ছাড়া জনসমাবেশে অনুমতি দেওয়া হলে, তা তৃতীয় ঢেউকে নিশ্চিতভাবে ত্বরাণ্বিত করবে। আগামী দু-তিন মাসের মধ্যেই তা আছড়ে পড়বে। এই সময়ে আমাদের আরও সচেতন হওয়া জরুরি।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ভারতে করোনায় এক হাজার ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তর সংখ্যা ৩৩ হাজার ৫০। সুস্থ হয়েছেন ৮ হাজার ৩২৫ জন। শুধু মহারাষ্ট্রেই মারা গেছেন ৪৩২ জন। গুজরাটে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৯৭ ও দিল্লিতে ৫৬। অন্যান্য রাজ্যগুলোতেও মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।