নিজ বাসভবনে হাইতির প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মইসিকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের হাতে সন্দেহভাজন চারজন নিহত হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে ওই চারজন নিহত হয়। এই ঘটনায় আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। খবর বিবিসির।

স্থানীয় সময় বুধবার সশস্ত্র একটি দল প্রেসিডেন্ট জোভেনেলের বাড়িতে হামলা চালায়। পরে তাকে গুলি করে হত্যা করে। হামলায় প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মইসির স্ত্রীও আহত হয়েছেন। ৫৩ বছর বয়সী জোভেনেল মইসি ক্ষমতায় আসেন ২০১৭ সালে।

হাইতি পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের স্বাধীন দ্বীপরাষ্ট্র। এর সরকারি নাম হাইতি প্রজাতন্ত্র। ক্যারিবীয় সাগরের হিস্পানিওলা দ্বীপের পশ্চিম এক-তৃতীয়াংশ এলাকা নিয়ে রাষ্ট্রটি গঠিত। দ্বীপের বাকি অংশে ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র অবস্থিত।

রাজধানী পোর্ট অব প্রিন্সে সন্দেহভাজনদের বড় একটি দল এখনও ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ প্রধান লিওন চার্লস বলেন, এদের আটক করা হবে অথবা হত্যা করা হবে।

প্রেসিডেন্টের বাসভবনে তাকে কয়েক দফা গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আহত অবস্থায় ফার্স্ট লেডি মার্টিন মইসিকে ফ্লোরিডায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কজনক। তবে চিকিৎসকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।

হাইতির রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। দেশটিতে বেশ কয়েকজন স্বৈরশাসক শাসন করেছেন। এদের মধ্যে ফ্রঁসোয়া দুভালিয়ের নাম উল্লেখযোগ্য। ২১০০ শতকের প্রারম্ভে এসে হাইতি একটি গ্রহণযোগ্য সরকার প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা উন্নয়নের চেষ্টা করছে।

১৮০৪ সালে হাইতি লাতিন আমেরিকার প্রথম স্বাধীন দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়। এটিই দাসদের সফল বিপ্লবের ফলে সৃষ্ট একমাত্র রাষ্ট্র। হাইতি প্রথমে স্পেনীয় ও পরে ফরাসি উপনিবেশ ছিল। হাইতির সংখ্যাগরিষ্ঠ আফ্রিকান দাসেরা ফরাসি ঔপনিবেশিকদের উৎখাত করলে হাইতি স্বাধীনতা লাভ করে। পর্তোপ্রাস দেশটির রাজধানী ও বৃহত্তম শহর।

ইতিহাসজুড়ে হাইতির জনগণ দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে ক্ষুদ্র একটি শিক্ষিত অভিজাত শ্রেণি, যারা বেশিরভাগ সম্পদ ও রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী। অন্যদিকে বিশাল নিম্নবিত্ত শ্রেণি, যাদের কোনো ক্ষমতা নেই। বর্তমানে হাইতি পশ্চিম গোলার্ধের সবচেয়ে দরিদ্র দেশ। অনেক হাইতীয় দেশ ছেড়ে চলে গেছেন।