যুক্তরাষ্ট্রের গণটিকাদান কর্মসূচিতে এ পর্যন্ত ৩৩ কোটি ১৬ লাখ ৫১ হাজার ৪৬৫ টি করোনা টিকার ডোজ ব্যবহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)।

সিডিসির বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত করোনা টিকার অন্তত একটি ডোজ নিয়েছেন ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৯৬ হাজার ৮০ জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং টিকার দুই ডোজ সম্পূর্ণ করেছেন ১৫ কোটি ১৯ লাখ ৮ হাজার ১৭১ জন।

করোনাভাইরাসের পরিবর্তিত ধরন ডেল্টা দিনকে দিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মহামারির প্রধান কারণ হয়ে উঠছে। সেই তালিকায় এবার যোগ হলো যুক্তরাষ্ট্রের নাম।

সিডিসির সাম্প্রতিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে করোনায় আক্রান্ত নতুন রোগীদের মধ্যে ৫১ দশমিক ৭ শতাংশই ডেল্টায় আক্রান্ত এবং এই হার দিন দিন বাড়ছে।

জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত দেশের সবগুলো অঙ্গরাজ্যের করোনা পরিস্থিতির ওপর একটি জরিপ চালিয়েছে সিডিসি। সেই জরিপেই এই তথ্য উঠেছে। সেখানে আরও দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ টি অঙ্গরাজ্যের সবগুলোতে ডেল্টায় আক্রান্ত রোগী আছেন।

এছাড়া দেশটিতে করোনার পরিবর্তিত ধরন আলফায় আক্রান্ত রোগীও আছেন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। সিডিসির জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নতুন আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ২৮ দশমিক ৭ শতাংশ ডেল্টায় আক্রান্ত।

২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতে প্রথম শনাক্ত হয় করোনার পরিবর্তিত ধরন ডেল্টা। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মূল করোনাভাইরাস এবং এর অন্যান্য পরিবর্তিত ধরনগুলোর তুলনায় ডেল্টার সংক্রমণ ক্ষমতা অন্তত ৪০ শতাংশ বেশি এবং করোনাভাইরাসের এই পরিবর্তিত ধরনটিতে আক্রান্ত হলে টিকা না নেওয়া রোগীদের মৃত্যুঝুঁকিও তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি থাকে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ফাইজার-বায়োএনটেক, অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও মডার্নার করোনা টিকা ডেল্টার বিরুদ্ধে বেশ কার্যকর। এই টিকাসমূহের অভ্যন্তরীণ উপদান মানবদেহে ডেল্টা ধরনকে নিষ্ক্রিয় করতে মানবদেহে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি তৈরিতে সক্ষম।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নিয়মিত দেশের জনগণকে টিকা নেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন। মঙ্গলবারও এক ভাষণে তিনি বলেছেন, ডেল্টা ধরনের ছড়িয়ে পড়া রোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় টিকা নেওয়া।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দেশটির মোট প্রাপ্তবয়স্কদের ৪৬ শতাংশকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।