এই সরকারের আমলে বিরোধী মত প্রকাশ করায় শত শত মানুষকে গুমের শিকার হতে হয়েছে মন্তব্য করে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, এই সরকারকে বিতাড়িত করতে সবাইকে একযোগে আন্দোলন করতে হবে।

বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে এক মানববন্ধনে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ লেবার পার্টি এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।

মান্না বলেন, এই সরকার মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। এই সরকারের আমলে বিরোধী মত প্রকাশ করায় শত শত মানুষকে গুমের শিকার হতে হয়েছে। লাখ লাখ মানুষকে অন্যায়ভাবে কারাবরণ করতে হয়েছে। তাই এই সরকারের হাত থেকে জনগণকে রক্ষা করতে হবে।

তিনি বলেন, আন্দোলনের জন্য তৈরি হন। এই সরকারকে বিতাড়িত করতে হবে। আমাদের একযোগে লড়াই করতে হবে। বড় বড় দলগুলোকে বলি, আপনারা যদি ভেবে থাকেন আগামী নির্বাচনটা দেখি, তাহলে ভুল হবে। কারণ তারা ৭-এর জায়গায় ৭০টা সিট দিবে, কিন্তু ক্ষমতা দিবে না। সুতরাং তাদের ক্ষমতা থেকে না নামিয়ে নির্বাচনে যাওয়া যাবে না।

জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের বিরুদ্ধে সারাদেশকে রুখে দাঁড়াতে হবে। কারণ একমাত্র জনগণই পারে এমন শাসকদলকে হটিয়ে দিতে। আগামীতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে লেবার পার্টির সভাপতি ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে বাকস্বাধীনতা হরণের হাতিয়ার আর ১৬ জুন ১৯৭৫ সংবাদপত্রে ইতিহাসে একটি কলো অধ্যায়। সরকার বিরোধী মতকে দমন করতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন তৈরী করছে। বিগত বছরগুলোতে এই আইনে নাগরিকরা সরকারের নির্যাতন, নিপীড়ন, গ্রেফতার ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। গণমাধ্যমকর্মীরা ভয়ে সত্য প্রকাশ করতে পারছে না। তাই নিবর্তনমূলক ডিজিটাল বাকস্বাধীনতা হরণকারী আইনটি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

নাগরিক সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন, গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তৈমূর আলম খন্দকার, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর, বিকল্পধারার চেয়ারম্যান ড. নুরুল আমিন বেপারী, লেবার পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক হুমাউন কবির প্রমুখ।