‘বঙ্গবন্ধুর ডাকে বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন এবং দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডটি তৈরি হয়েছে বলেই আজ আমরা মার্কিন মুল্লুকে রাজনীতি ও প্রশাসনে নিজেদের ভিন্ন একটি অবস্থান তৈরিতে সক্ষম হচ্ছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সব প্রবাসী ঐক্যবদ্ধ থাকলেই বহুজাতিক এ সমাজে বাঙালিরা আরও ভালো অবস্থানের পথ বেয়ে মাতৃভূমির সামগ্রিক কল্যাণেও অবদান রাখতে সক্ষম হবো। সে আহ্বানেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং মুজিববর্ষ পালিত হচ্ছে’,- এসব কথা বলেছেন জর্জিয়া স্টেটের সিনেটর (ডেমক্র্যাট) শেখ রহমান।

নিউইয়র্কে শনিবার (১২ জুন) যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের উদ্যোগে ‘স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন ও মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিনেটর শেখ রহমান আরও বলেন, একাত্তরের রক্তক্ষয়ী মুক্তি সংগ্রামে ক্ষত-বিক্ষত বাংলার জনপদ আজ বিশ্বে উন্নয়নের মডেলে পরিণত হয়েছে। মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটছে। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর অতিক্রমের এই ধারা অব্যাহত রাখতে দেশ ও প্রবাসে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বাংলাদেশে স্বার্থেই বিভক্তি-বিভাজন পরিহারের বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানে সমবেত মুক্তিযোদ্ধাদের সান্নিধ্যে অভিভূত সিনেটর রহমান বলেন, একাত্তরে আমি ছোট ছিলাম। বাবা মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলেন বলে পাক হায়েনারা আমাকে জিম্মি করেছিল। হার মানিনি। নিষ্ঠুর নির্যাতন সহ্য করেছি দীর্ঘদিন। এখন সেই দুঃসহ স্মৃতি আমাকে তাড়া করলেও স্বাধীনতার যে আনন্দ তা সবকিছু দূর করেছে। এ সময় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করে প্রবাসে নিরলসভাবে কাজের পাশাপাশি বাংলাদেশেও আর্ত-পীড়িতদের কল্যাণে বিশেষ অবদানের জন্যে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি আব্দুল কাদের মিয়াকে বিপুল করতালির মধ্যে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু ধ্বনিতে ‘বেস্ট অব দ্য বেস্ট’ এওয়ার্ড হস্তান্তর করেন সিনেটর শেখ রহমান। এটি প্রদান করে যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম। ক্রেস্ট গ্রহণের পর অভিভূত কাদের মিয়া বলেন, এই সম্মান আমার গোটা পরিবারের। কারণ, তারাই আমাকে সর্বক্ষণ মানবতার সেবায় উৎসাহিত করছেন।

কমিউনিটি সার্ভিসে ‘বেস্ট অব দ্য বেস্ট’ এওয়ার্ড বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সেক্রেটারি আব্দুল কাদের মিয়াকে দিচ্ছেন স্টেট সিনেটর শেখ রহমান

উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক সিটি মেয়র পদে ডেমক্র্যাটিক প্রাইমারিতে অবতীর্ণ এ্যান্ড্রু ইয়ং-র পক্ষে ভোট প্রার্থনার পাশাপাশি সিটি কাউন্সিলে বাংলাদেশি প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী সভা করতে ১১ জুন আটলান্টা থেকে নিউইয়র্কে এসেছেন সিনেটর শেখ রহমান। এর আগে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে নিউইয়র্ক স্টেট এ্যাসেম্বলীতে পাশ হওয়া প্রক্লেমেশনের কপি মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে এই অনুষ্ঠানে হস্তান্তর করেন স্টেট এ্যাসেম্বলিওম্যান জেনিফার রাজকুমারের কমিউনিকেশন্স ডিরেক্টর রাজিন্দর কাউর।

উৎসব-আনন্দে ভিন্ন এক আমেজ এনেছিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের দুই শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায় এবং শহীদ হাসানের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জাগানিয়া গানে। একইধারার আরও কটি গান পরিবেশন করেন খ্যাতনামা কন্ঠশিল্পী শাহ মাহবুব, শেফালি শরগম, সবিতা দাস এবং জলি। সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের মহিলাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্পাদক সবিতা দাসের পরিচালনায় এ পর্বে জাদু প্রদর্শন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী।

হোস্ট সংগঠনের প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল বারির সমন্বয়ে পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার। এ সময় সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক সম্মানী ভাতা ১২ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান। অন্যান্যের মধ্যে এ সময় ছিলেন শহীদ পরিবারের সন্তান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জিয়াউদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার চুন্নু, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাঈদুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আওয়াল, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আব্দুল আওয়াল, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেসবাহউদ্দিন চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এমডি ওয়াহাব খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মলিন সাহা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার, ফোবানার নির্বাহী চেয়ারম্যান ও ইউএসএ কমিটি ফর সেক্যুলার এ্যান্ড ডেমক্র্যাটিক বাংলাদেশের সেক্রেটারি জাকারিয়া চৌধুরী, দ্য কান্ট্রি টুডে’র সম্পাদক হেমায়েত হোসেন, বিশ্ববাংলা টোয়েন্টিফোর টিভির সিইও এবং সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের কোষাধ্যক্ষ আলিম খান আকাশ, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কাদের মিয়া, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হাজী জাফরউল্লাহ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান, ইউএসএ ইনকের কনভেনর আশরাব আলী খান লিটন প্রমুখ।

বর্ণাঢ্য এ অনুষ্ঠানে বিনোদনমূলক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় শিশু-কিশোর-তরুণ-তরুণী-মহিলা এবং মুক্তিযোদ্ধারা মেতেছিলেন। পুরস্কার লাভ করেছেন নিশা খান, দ্যুতি, সোবা, হুমায়ূন কবীর, লাবলু আনসার, নূহিতা, হৃদয়, আয়েশা, আরিয়ানা, আসিফুল, রাধিকা, ফাতেমা, তৈয়বা এবং রাসিন। খেলাধুলা পরিচালনা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার চুন্নুর নির্দেশনায় আরিফ খান, এটিএম মাসুদ, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।