একের পর এক পদক্ষেপেও যখন করোনা নিয়ন্ত্রণে আসছে না, তখন কঠোর লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে মালয়েশিয়া সরকার।

সরকারের এ সিদ্ধান্তে আবারও ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি। চাকরি হারিয়ে হতাশায় সময় পার করছে অনেকে। গত বছরের মার্চেও এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল প্রবাসীদের।

ধারাবাহিক করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে ১ জুন থেকে চলছে দুই সপ্তাহের কঠোর লকডাউন। লকডাউন সফল করতে দেশজুড়ে প্রায় আটশ’ রোডব্লক দেওয়া হয়েছে। নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনাবেচা হয় এমন প্রতিষ্ঠান বাদে প্রায় সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। এতেই বিপত্তি। অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করা কর্মীদের ছাটাই করতে শুরু করেছে অনেক প্রতিষ্ঠান। ঘরে বসে অলস সময় পার করতে হচ্ছে অনেককে। আর বন্ধের এই সময়ে বেতন না দেয়ার কথাও জানিয়ে দিয়েছে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান।

ফেনি প্রবাসী আকবর এদেরই একজন। সুবাংজায়ায় কর্মরত আকবরকে তার প্রতিষ্ঠান লকডাউনের এই সময়ে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে এই সময়ে তাকে বেতন দেওয়া হবে না বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তবে ব্যতিক্রমও রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও বেসিক বেতন দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা কর্মীদের জানিয়ে দিয়েছে।

শুধু বাংলাদেশি নয়, দেশটিতে কর্মরত অভিবাসী ও স্থানীয়দেরও সম্মুখিন হতে হচ্ছে এ দুর্যোগের। তবে চাকরিতে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয়রা সরকারের নানা সুযোগ-সুবিধার আওতায় এলেও অভিবাসিরা কিছুই পায় না।

রাজধানী কুয়ালালামপুরে চাকরি হারানো কর্মীদের সংখ্যা কিছুটা বেশি। তবে অন্যান্য রাজ্যে এ সংখ্যাটা কম। দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় আছেন এমন প্রবাসীরা জানান, করোনায় সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন, সেগুলো মানতে তারা বাধ্য। যদি এ লকডাউন দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে মালয়েশিয়াজুড়ে কর্মীদের সমস্যা আরও প্রকট হবে।

এদিকে লকডাউনের মধ্যেও করোনা সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। গত চব্বিশ ঘণ্টায় দেশটিতে ৭ হাজার ৭৪৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন ৮৪ জন।