সিলেটের প্রবাসী অধ্যুষিত বিশ^নাথ শহরে নির্মাণ করা হচ্ছে দেশের প্রথম ‘প্রবাসী চত্বর’। উপজেলার সব প্রবাসীকে সম্মান জানাতে ও তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দিতে চত্বরটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরসভার প্রশাসক সুমন চন্দ্র দাশ। বিষয়টি সংবাদকর্মীদের নিশ্চিত করেছেন তিনি নিজেই। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আগের মেয়াদে বিশ্বনাথ উপজেলার নতুন বাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ডের পাশে (ব্যস্ততম বিশ্বনাথ-রামপাশা সড়কের ত্রিমুখী স্থানে) প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা ব্যয়ে একটি গোলচত্বর নির্মাণ করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। যানজট ও যে কোনো দুর্ঘটনা এড়াতে চত্বরটি নির্মাণ করা হলেও দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সেটি নামবিহীন অবহেলায় পড়েছিল। ব্যবহার হচ্ছিল নানা ধরনের ব্যানার-ফেস্টুন টানানো ও ময়লা-আবর্জনা ফেলার কাজে।

সম্প্রতি বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে সুমন চন্দ্র দাশ যোগদান করেই গোলচত্বরটির ব্যাপারে উদ্যোগী হন। তিনি চত্বরের নাম ‘প্রবাসী চত্বর’ নামকরণ করে সেটাকে নান্দনিক রূপে নতুন করে নির্মাণের ঘোষণা দেন। ইতোমধ্যে বাহ্যিক নকশাও করা হয়েছে। নকশা করেছেন নির্মাণিক আর্কিটেক্টসের স্থপতি জিষ্ণু কুমার দাস। ‘প্রবাসী চত্বর’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদ ও বিশ্বনাথ পৌরসভা। নকশা অনুযায়ী প্রবাসী চত্বরের ভিতরে একজন ট্রাফিক পুলিশ মুভ করতে পারবে। এর গায়ে অঙ্কিত থাকবে বিভিন্ন দেশের মুদ্রা। বিদেশ থেকে প্রেরিত অর্থ বাংলাদেশী মুদ্রাকে শক্তিশালী করছে বুঝাতে চত্বরের একেবারে উপরে থাকবে বাংলাদেশী মুদ্রা অঙ্কিত।

কথা হলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরসভার প্রশাসক সুমন চন্দ্র দাশ বলেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক আয়ের অন্যতম মাধ্যম রেমিট্যান্স হলেও আমার জানামতে দেশের কোথাও প্রবাসী চত্বর নামে কোনো চত্বর নেই। উপজেলার সব প্রবাসীকে সম্মান জানাতে ও তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দিতে উপজেলার একমাত্র গোলচত্বরকে ‘প্রবাসী চত্বর’ নামকরণ করে তার মনুমেন্ট ডিজাইন করা হয়েছে। তবে চত্বরের চূড়ান্ত প্রাক্কলন এখনো হয়নি। ফান্ডের ব্যাপারেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কারণ বিভিন্ন খাত আছে এবং অনেকেই আগ্রহী আছেন। স্টাকচারাল নকশাও এখানো বাকি। এটি ছাড়া চূড়ান্ত ব্যয় নির্ধারণ করা যায় না। তবে এ সপ্তাহেই সব চূড়ান্ত হবে।