সৌদি আরবের হাইল শহরের স্থানীয় একটি হোটেলে বাংলাদেশ দূতাবাসের কনস্যৃলার সেবা প্রদান শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকালে রিয়াদ থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই শহরে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সৌদি সরকারের নির্দেশিত বিধি নিষেধ মেনে কয়েকশ বাংলাদেশি অভিবাসীকে কনস্যূলার সেবা প্রদান শুরু করা হয়।

এসময় অভিবাসীদের ইকামার মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য পাসপোর্ট নবায়ন, পাসপোর্ট রি-ইস্যু ও পাসপোর্ট সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা প্রদান করা হয়। এছাড়া দূতাবাসের শ্রম উইংয়ের পক্ষ থেকে স্পেশাল এক্সিট প্রোগ্রামের আওতায় হূরুব প্রাপ্ত, ইকামা বিহীন, ইকামার মেয়াদোত্তীর্ণ ও এক্সিট ভিসায় মেয়াদোত্তীর্ণ অভিবাসীদের আইনগত সহায়তা প্রদান করা হয়। অভিবাসীদের প্রবাসী কল্যাণ কার্ডের জন্য নিবন্ধন করা হয়।

দূতাবাসের সোনালী ব্যাংকের পক্ষ থেকে একাউন্ট খোলা ও ওয়েজ আর্নার্স বন্ড করার সেবা প্রদান করা হয়। সোনালী ব্যাংক প্রতিনিধি প্রবাসীদের বৈধ পথে দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্য উদ্বুদ্ধ করেন।

হাইল প্রদেশে সহস্রাধিক বাংলাদেশি বসবাস করে, এখানে কয়েকজন বাংলাদেশি চিকিৎসক ও হাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশী কয়েকজন অধ্যাপক কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা ব্যবসা, কৃষি কাজ, পোলট্রি ফার্মসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।

সেবা গ্রহণ করতে আসা প্রবাসীদের নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সেবা প্রদান করা হয়। স্থানীয় প্রবাসীদের সৌদি আরবের আইন কানুন ও করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সৌদি সরকারের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেয়া হয়। এছাড়া ও বিভিন্ন বিষয়ে সমস্যাগ্রস্ত অভিবাসীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হয়।

কনস্যুলার সেবা প্রদান করেন দূতাবাসের কাউন্সেলর মোঃ হুমায়ূন কবির, পাসপোর্ট ও ভিসা উইংয়ের কাউন্সেলর কাজী নুরুল ইসলাম, প্রথম সচিব (প্রেস) মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, শ্রম উইং এর প্রথম সচিব মোঃ সফিকুল ইসলাম ও সোনালী ব্যাংক প্রতিনিধি মোঃ জসীম উদ্দিন খান। এছাড়া বিভিন্ন শাখার দূতাবাসের স্টাফগন কনস্যূলার সেবা প্রদান কাজে সহায়তা করেন।

কনস্যৃলার সেবা শনিবার (২৯ মে) বিকাল ৪টা পর্যন্ত প্রদান করা হয়। হাইলে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীরা দূতাবাসের সেবা পেয়ে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

হাইলে অভিবাসীদের জরুরী বিভিন্ন সেবা প্রদানের জন্য একটি প্রবাসী সেবা কেন্দ্রও কাজ করছে। সেবা কেন্দ্র থেকে প্রবাসীরা সপ্তাহের যেকোন দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সেবা গ্রহণ করতে পারেন।