টেক্সাস স্টেটের ডালাসে ‘কিউএ্যানোন’ গ্রুপের সমাবেশে ৩০ মে প্রদত্ত বক্তব্যের পর প্রশ্নোত্তর পর্বে সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এডভাইজার মাইকেল ফ্লিন বলেছেন, বার্মার মত সামরিক অভ্যুত্থান ঘটা উচিত যুক্তরাষ্ট্রে। উল্লেখ্য, বার্মার নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ১ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করেছে। জেলে নিয়েছে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাগণকে। আর এসব করা হয়েছে ভোট-জালিয়াতি আর প্রতারণার অভিযোগে।

সম্মেলনে অংশগ্রহণকারিগণের একজন প্রশ্ন করেছিলেন : ‘আমি জানতে চাই মিয়ানমারে (বার্মায়) যা ঘটেছে তা কি এখানে ঘটতে পারে না?’
জবাবে মাইকেল ফ্লিন বলেছেন, ‘কোন কারণ থাকতে পারে না। আমি বলতে চাচ্ছি তা এখানে (যুক্তরাষ্ট্রে) ঘটা উচিত।’ মাইকেল ফ্লিনের এমন মন্তব্য টুইটারেও বিতরণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বার্মার সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লাগাতার বিক্ষোভে এ যাবত বেশকিছু শিশুসহ কমপক্ষে ৮০০ জনের মৃত্যু হয়েছে সেনাবাহিনীর গুলিতে। হাজার হাজার বার্মিজকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আরো উল্লেখ্য, ট্রাম্পের চরমপন্থি সমর্থকরা ‘কিউএ্যানোন’ ব্যানারে ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে জঙ্গি হামলা চালিয়েছিল। এই সংস্থার পক্ষ থেকে ট্রাম্পের ভাষায় নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট জালিয়াতি, ফলাফল ছিনতাইয়ের অভিযোগ করে আসছে। স্মরণ করা যেতে পারে, মার্কিন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল মাইকেল ফ্লিনকে ২০১৭ সালে ট্রাম্প বরখাস্ত করেন তার ন্যাশনাল সিকিউরিটি এডভাইজার থেকে। এর একমাস আগে তাকে এ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত করা হয়েছিল। আর অভিযোগ ছিল যে, তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেঞ্চকে রাশিয়ার সাথে যোগাযোগের মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। ম্যূলারের তদন্তে উপরোক্ত মিথ্যা তথ্য প্রদানের হদিস উদঘাটনের পর মাইকেল ফ্লিন নিজের দোষ স্বীকার করেছিলেন। পরবর্তীতে অবশ্য তিনি সেই স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করেন এবং বিচার বিভাগ তাকে দায় থেকে মুক্তি দিলেও একজন ফেডারেল জজ বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখেছিলেন অর্থাৎ তাকে জেলেই রাখা হয়েছিল। এমনি অবস্থায় গত নভেম্বরের নির্বাচনের আগ মুহূর্তে ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লিনকে ক্ষমা ঘোষণা করেছেন।