নোয়াখালীর ভাসানচরের শিবিরের রোহিঙ্গারা মাসে পাঁচ হাজার টাকা ভাতাসহ সুযোগ সুবিধার দাবিতে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। তাদের অন্য দাবির মধ্যে আছে মানসম্পন্ন রেশন, কর্মসংস্থান এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা। জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) প্রতিনিধি দল তাদের শিবির পরিদর্শন করতে এলে এই মিছিল করে তারা।

দুজন সহকারী হাইকমিশনারসহ ১৪ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সামনে সোমবার (৩১ মে) বেলা ১১টার দিকে তারা বিক্ষোভ করেন।

ভাসানচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহে আলম জানান, বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার দাবি জানিয়ে রোহিঙ্গারা এ বিক্ষোভ করেন।

ইউএনএইচসিআর সহকারী হাইকমিশনার রউফ মাজাও এবং গিলিয়ান ট্রিগসসহ ১৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সকালে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের সুযোগ সুবিধা পর্যবেক্ষণ করতে পরিদর্শনে যায়। ইউএনএইচসিআর এর কোনো প্রতিনিধি দল এই প্রথমবার ভাসানচর আসেন।

ভাসানচরে অবস্থানরত সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মংসং মারমার মুঠোফোনে বিক্ষোভের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এই বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি নই।’

নোয়াখালী পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ইউএনএইচসিআর এর প্রতিনিধি দলের সদস্যদের সামনে রোহিঙ্গারা প্রতি মাসে নগদ পাঁচ হাজার টাকা দাবি করছেন। এছাড়া মানসম্মত রেশন, কর্মসংস্থান এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবার দাবিতে বিক্ষোভ করেন তারা। এমনকি বিভিন্ন দাবি তুলে তারা এখানে থাকতে অনীহাও প্রকাশ করছেন।’

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। এর আগে থেকে আছেন আরও প্রায় চার লাখ। বর্তমানে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে ৩৪টি ক্যাম্পে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রথম দফায় ১ হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গাকে নৌবাহিনীর জাহাজে করে ভাসানচর নিয়ে যাওয়া হয়। সব মিলিয়ে এই সংখ্যাটি ১৩ হাজার ছাড়িয়েছে।

সরকার সেখানে মোট এক লাখ রোহিঙ্গার জন্য মানসম্মত আবাসনের ব্যবস্থা করেছে। পাশাপাশি সেখানে রোহিঙ্গাদের জন্য আয়ের সুযোগ রেখেছে, শিশুদের জন্য শিক্ষা ছাড়াও নানা সুযোগ-সুবিধা আছে। রোহিঙ্গারা শুরুতে ভাসানচরে যেতে রাজি ছিল না। তবে পরে সেখানে সুযোগ-সুবিধা দেখে তাদের সন্তোষ প্রকাশের খবরও এসেছে গণমাধ্যমে। তবে সম্প্রতি ভাসানচর থেকে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা পালিয়ে কক্সবাজার চলে গেছেন।