যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী শিক্ষাবিদ, লেখক এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত অধ্যাপক জিল্লুর আর খান ২২ মে শনিবার বিকেলে ফ্লোরিডার ওরল্যান্ডোতে একটি নার্সিং হোমে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। ফরিদপুরের সন্তান জিল্লুর আর খান স্ত্রী, ৩ পুত্র, এক কন্যাসহ অসংখ আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।

তার মৃত্যু সংবাদ নিশ্চিত করে ওরল্যান্ডো আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান মিলন এ সংবাদদাতাকে জানান, জিল্লুর খানের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে স্থানীয় সময় রবিবার বাদ যোহর এবং তারপরই তাকে সেন্ট্রাল ফ্লোরিডায় মুসলিম গোরস্থানে দাফন করা হবে।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিনের রোজবুশ প্রফেসর এমিরিটাস ছিলেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী সমিতির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন অত্যন্ত সুনামের সাথে। তার লেখা ১২টি গ্রন্থ সারাবিশ্বে সমাদৃত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জার্নালে তার কমপক্ষে ৫০টি গবেষণা-প্রবন্ধ প্রকাশ পেয়েছে।

এক সময় যুক্তরাষ্ট্র তথা সারাবিশ্বে সর্বোচ্চ ‘শিকাগো টাওয়ার’র স্থপতি এফআর খানের ভাই জিল্লুর আর খান শিক্ষকতা এবং মৌলিক লেখা-লেখির জন্যে বহু পুরস্কার পেয়েছেন। বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তানে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুসংহত করার আলোকে ১৯৮৮ সালে মার্কিন কংগ্রেসের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির শুনানীতেও তাকে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

খ্যাতনামা এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর চিন্তার প্রতিফলন হিসেবে প্রকাশিত গ্রন্থের অন্যতম হচ্ছে : ‘লিডারশিপ ইন দ্য লিস্ট ডেভেলপমেন্ট ন্যাশন : বাংলাদেশ’ (১৯৮৩), ‘মার্শাল ল’ টু মার্শাল ল’ : লিডারশিপ ক্রাইসিস ইন বাংলাদেশ’ (১৯৮৪), ‘দ্য থার্ড ওয়ার্ল্ড কারিশমা : শেখ মুজিব এ্যান্ড দ্য স্ট্রাগল ফর ফ্রিডম’ (১৯৯৬) ইত্যাদি। ২০১৪ সাল থেকে তিনি বাংলাতেও লেখালেখি শুরু করেছিলেন। ঢাকার মওলা ব্রাদার্স প্রকাশিত তার গন্থ ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সম্মোহনী নেতৃত্ব ও স্বাধীনতার সংগ্রাম’ জাতির পিতার রাজনৈতিক জীবনের ধারাবিবরণী হিসেবে সমাদৃত হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. জিল্লুর আর খানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. খন্দকার মনসুর, সেক্রেটারি আব্দুল কাদের মিয়া এবং কমিউনিকেশন্স ডাইরেক্টর বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ এবং সেক্রেটারি বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল বারি প্রমুখ।

ওরল্যান্ডোতে বসবাসরত লেখক-সাংবাদিক গোলাম সাদত জুয়েল জানান, স্থানীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা হিসেবে সকল সভা-সমাবেশে তিনি কথা বলতেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বগুণের পাশাপাশি যে কোন বাঙালির নাম একবার শুনলে তা ভুলতেন না বলেও উল্লেখ করেন। তার মত একজন গুণী ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে সর্বস্তরের প্রবাসীদের মধ্যেই গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।