যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মুখোমুখি হয়েছেন মিশিগানের কংগ্রেস প্রতিনিধি রাশিদা তালিব। মঙ্গলবার তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখোমুখি হয়ে ফিলিস্তিনিদের নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা প্রকাশ করেন। এসময় তিনি ইসরায়েল সরকারের প্রতি বাইডেনের আর্থিক ও কূটনৈতিক সহায়তার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা করেন।

মার্কিন কংগ্রেসে তালিব হচ্ছেন একমাত্র ফিলিস্তিনি আমেরিকান সদস্য। মঙ্গলবার তালিব যখন ডেট্রয়টে বাইডেনের মুখোমুখি হন তখন তার সাথে মিশিগানের আরেকজন ডেমোক্রেটিক রিপ্রেজেন্টেটিভ ডেবি ডিংগেলও উপস্থিত ছিলেন। বাইডেনের সাথে কয়েক মিনিট কথা বলার পর তার সাথে হাত মেলান তালিব। তবে দূরে থাকায় উভয়ের মধ্যে কি আলোচনা হয়েছে তার শুনতে পায়নি রিপোর্টাররা।

পরে তালিবের একজন সহযোগী বলেন, ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা বাইডেনকে জানিয়েছেন তালিব। বেসামরিক ব্যক্তিদের রক্ষায় বাইডেনকে আরো কার্যকর পদক্ষেপ নিতেও আহবান জানান তিনি। এসময় তালিব আরো বলেন, ইসরায়েলের সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি বর্তমান এবং দীর্ঘদিন যাবৎ মার্কিন ‘নিশর্ত সমর্থনের’ কারণে হত্যা বন্ধ করা যাচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর ইসরায়েলকে ৩.৪ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দেয়। বাইডেনের সাথে আলোচনা তালিব সেই কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে অপরাধ চালিয়ে যেতে যুক্তরাষ্ট্র চরম ডানপন্থী নেতানিয়াহু সরকারকে প্রতি বছর কোটি কোটি অর্থ সহায়তা দিতে পারে না। তিনি জানান, স্কুলের মতো জায়গা বোমা হামলা সহ্য করা হবে না। আর এসব হামলায় মার্কিন অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মিশিগানের জনপ্রতিনিধি ডেবি ডিনগেল নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকাকে বলেন, অন্যদের (ফিলিস্তিনিদের) প্রতি সহানুভূতিশীল একটি আলোচনা হয়েছে এখানে। এটা খুবই ভালো আলোচনা ছিল। কিন্তু, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এসব বিষয় নিয়ে জনগণের সামনে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখান না আর জনসম্মুখে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনাও করেন না।’

তালিবের পরিবার অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে এসেছেন। সেখানে তার দাদি মুফতিয়া তালিব এখনো বেঁচে আছেন।

বাইডেন বলেছেন, তিনি রাশিদা তালিবের পরিবার ও তার দাদির জন্য দোয়া করবেন। এছাড়া তিনি আরো বলেছেন যে আমি তোমার ( রাশিদা তালিব) কাছে প্রতিজ্ঞা করছি যে আমি তোমার পরিবারকে দেখভালের জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করব।