বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের মধ্যেই বিএনপির রাজনীতি সীমাবদ্ধ আছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

বুধবার (১২ মে) রাজধানীর সার্কিট হাউজ রোডে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) মিলনায়তনে সাংবাদিকদের মাঝে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের করোনাকালীন সহায়তা (চেক) বিতরণের সময় তিনি একথা বলেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে দেওয়া ১০ কোটি টাকার চেকটি ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাফর ওয়াজেদের হাতে তুলে দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী।

হাছান মাহমুদ বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে বিএনপি’র রাজনীতিটা বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়েই সীমাবদ্ধ, এর বাইরে তারা যেতে পারছে না। তারা বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবে না, শুধু বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব নিজে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া আগের চেয়ে অনেক ভালো আছেন, স্বাভাবিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছেন, তার কোনো অক্সিজেন সহায়তা লাগছে না, অর্থাৎ বেগম খালেদা জিয়া দ্রুত আরোগ্য লাভ করছেন। কিন্তু যেভাবে বিদেশ নিয়ে যাওয়ার জন্য তারা তৎপর হয়ে উঠেছেন এবং সরকার আইনগত ব্যাখ্যা দিয়ে যখন বললো যে তাকে বিদেশ পাঠানো সুযোগ নেই, তখন তারা যেভাবে সমালোচনা করছেন, হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন, তা শুনে অনেকে মুচকি হেসেছে।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, “মির্জা ফখরুল সাহেবকে বলবো, আপনাদের রাজনীতি দয়া করে শুধুমাত্র বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যে সীমাবদ্ধ রাখবেন না, রাজনীতিটা জনগণের জন্য করুন। ক্রমাগতভাবে গত ১২ বছর ধরে আপনাদের রাজনীতিটা শুধুমাত্র বেগম জিয়ার মামলা, শাস্তি, তার হাঁটু এবং কোমরের ব্যাথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন, এই জন্য আপনারা ধীরে ধীরে ছোট হয়ে আসছেন।”

সাংবাদিকদের চাকির শৃঙ্খলা আনার দরকার জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “সাংবাদিকদের বেতনভাতা, চাকরি একটি শৃঙ্খলায় আনা দরকার, যাতে করে যে কেউ যেকোনো সময় চাকরিচ্যুত না হয়। কেউ কেউ পত্রিকার ডিক্লারেশন নিয়ে সাংবাদিকদের বেতনভাতা ঠিকভাবে দেন না, এটি হওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়। আবার অনেকেই পত্রিকা বের করেন পাঁচশ কপি, ঘোষণা করেন পাঁচ হাজার বা পঞ্চাশ হাজার।

এখানে শৃঙ্খলা আনা দরকার। আমি শুরু থেকেই চেষ্টা করছি, শৃঙ্খলা আনতে গিয়ে বহু বাধার সম্মুখীন আমি হয়েছি। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে কার প্রচার সংখ্যা কত সেটা আমরা নির্ধারণ করেছি। এই প্রচার সংখ্যাকে বাস্তবসম্মত করার জন্য আমি আপনাদের সহায়তা চাই।

“যে সমস্ত হাউজ থেকে সাংবাদিকদের ঠিকভাবে বেতনভাতা দেওয়া হয় না, কিম্বা চাকরিচ্যুত করা হয়, সেসব হাউজ সরকারের যে সমস্ত সুযোগ সুবিধা পায়, সেগুলো নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।”

সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালনা জাফর ওয়াজেদের সভাপতিত্বে তথ্য ও সম্প্রচার সচিব খাজা মিয়া (অনলাইনে) এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোল্লা জালাল, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আব্দুল মজিদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু এ সময় বক্তব্য রাখেন।